ইসরায়েলের কারাগারে ২০১৫ সাল থেকে অন্তত ৬ হাজার ফিলিস্তিনি শিশু বন্দি অবস্থায় আছে বলে জানিয়েছে প্যালেস্টাইন প্রিজনার্স অ্যাসোসিয়েশন। ফিলিস্তিনের শিশু দিবসকে কেন্দ্র করে গত শুক্রবার সংস্থাটির প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, বন্দি ফিলিস্তিনি শিশুদের ৯৮ শতাংশই শারীরিক এবং মানসিকভাবে ইসরায়েলের কারাগারে নির্যাতনের শিকার হচ্ছে।
ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে আহত কয়েকশ শিশুকেও বন্দি করে রাখা হয়েছে, যাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক। গাজা-ইসরায়েল সীমান্তে ফিলিস্তিনিদের প্রতিবাদের মাঝে অনেক শিশুকে গুলি করে আহত করার পর বন্দি করা হয় এমন ঘটনাও ঘটেছে।
রামাল্লাভিত্তিক প্রিজনার্স অ্যাফেয়ার্স কমিটির মতে, ইসরায়েলের বিভিন্ন কারাগারে বন্দি ফিলিস্তিনির সংখ্যা ৫ হাজার ৭০০। এদের মধ্যে ৪৮ জন নারী এবং ২৫০ জন শিশু। পূর্ব জেরুজালেমের শিশুরা সবচেয়ে বেশি বন্দি হয়ে আছে ইসরায়েলে। বিশেষ করে গত মার্চে বাব আল রাহমা প্রতিবাদের সময় অনেক শিশুকে বন্দি করা হয়েছে বলে জানা যায়।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রাতের বেলা চালানো অভিযানে শিশুদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ ও আটককেন্দ্রে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা তাদের খাবার ও পানি বঞ্চিত করে রাখা হয়। শিশুদের জিজ্ঞাসাবাদের সময় একজন অভিভাবকের উপস্থিতির অধিকার প্রায়ই লঙ্ঘন করা হয়। এসব শিশুকে প্রায়ই হিব্রু ভাষায় লেখা বিবৃতিতে স্বাক্ষর করতে বলা হয়Ñ যদিও ওই ভাষা তারা বোঝে না।
আটক শিশুদের মুক্তি দেওয়া হলেও প্রায়ই তারা দুঃস্বপ্ন দেখে, নিদ্রাহীনতায় ভোগে, স্কুলে অমনোযোগী হয়ে যায় আর পরিবার ও সমাজের পরিবেশের যেকোনো ঘটনাতেই অল্পতেই রেগে যায়।
গত বছর জেনেভাভিত্তিক দাতব্য সংস্থা ডিফেন্স ফর চিলড্রেন ইন্টারন্যাশনাল প্যালেস্টাইনের (ডিসিআইপি) এক প্রতিবেদনে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর হাতে ১২০ জন ফিলিস্তিনি শিশু নির্যাতনের প্রমাণ উত্থাপন করা হয়।
বিবৃতিতে বন্দিদের সংখ্যা প্রকাশ ছাড়াও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো ও জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থাকে ফিলিস্তিনি বন্দি শিশুদের জন্য ইতিবাচক পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানানো হয়। যদিও এ বিষয়ে জাতিসংঘের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো বিবৃতি দেওয়া হয়নি।
