চবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো চলছে ধর্মঘট

আপডেট : ০৮ এপ্রিল ২০১৯, ১১:৪৯ এএম

অস্ত্র মামলায় আটক ৬ ছাত্রলীগ কর্মীর মুক্তিসহ চার দফা দাবিতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) শাখা ছাত্রলীগের এক পক্ষের ডাকা লাগাতার ধর্মঘট দ্বিতীয় দিনের মতো চলছে। এতে নিরাপত্তার ঝুঁকিতে সোমবার সকাল থেকে চট্টগ্রাম বটতলী স্টেশন থেকে সাড়ে ৭টা ও ৮টার শাটল ট্রেন ছেড়ে আসেনি। বন্ধ রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকবাসও।

তবে এ খবর লেখা পর্যন্ত বেলা ১১টায় আন্দোলনকারী কাউকে কোনো কর্মসূচিতে দেখা যায়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের ১নং গেইট থেকে জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত সিএনজি অটোরিকশা, বিশ্ববিদ্যালয়ের রিকশা চলাচল স্বাভাবিক ও দোকান-পাটও খোলা আছে।

এদিকে ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে মন্তব্য করে চট্টগ্রাম পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাটহাজরী সার্কেল) আব্দুল্লা আল মাসুম বলেন, “গতকালের (রোববার) মতো আজকে কোনো ধরনের নেগেটিভ কোনোকিছু এখন পরিলক্ষিত হয়নি। এখন পর্যন্ত ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি স্বাভাবিক   রয়েছে। আমাদের পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও রয়েছে। আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় আছি। বর্তমানে ক্যাম্পাসে ছাত্র-শিক্ষক যারা রয়েছেন সকলেই স্বাভাবিক অবস্থায় আছে।”

সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

image

এ সময় তিনি বলেন, “আজকে বিশ্ববিদ্যালয় খোলা থাকলেও পরিবহন সমস্যা থাকায় সবাই আসতে পারেনি। যার কারণে পরীক্ষা-ক্লাসগুলো এখনও শুরু হয়নি। তবে অনেকেই বিভিন্নভাবে ইতোমধ্যেই এসেছেন। তবে পরীক্ষা-ক্লাসগুলো শুরু হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা নেই। শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি সন্তোষজনক হলে ক্লাস-পরীক্ষা হতে কোনো বাধা নেই।”

শিক্ষার্থীদের অস্ত্র মামলার বিষয়ে তিনি বলেন, “অস্ত্র মামলা প্রত্যাহারের বিষয়টি নিয়ে অন্তরালে কথা হয়েছে। যেহেতু এখানে শিক্ষার্থীদের ব্যাপার জড়িত, তাই এটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব সহকারে দেখা হবে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, “এখন পর্যন্ত আন্দোলনকারী কারো সঙ্গে কথা বলা যায়নি। আর তাদের কোনো কর্মসূচি দেখা যায়নি। আশা করি, সবকিছুই পুরোপুরি স্বাভাবিক অবস্থায় চলে আসবে।

উল্লেখ্য, অস্ত্র মামলায় কারাগারে থাকা ৬ ছাত্রলীগ কর্মীর মুক্তি ও মামলা প্রত্যাহার, হাটহাজারী থানার ওসির প্রত্যাহার ও প্রক্টরের পদত্যাগ এবং ২০১৫ সাল থেকে সকল রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে রোববার থেকে টানা ছাত্র ধর্মঘটের ডাক দেয় শাখা ছাত্রলীগের বিজয় ও সিএফসি গ্রুপ।

আন্দোলনকারী ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সবাই শিক্ষা উপমন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের অনুসারী হিসেবে ক্যাম্পাসে পরিচিত।

এর আগে গতকাল রোববার ধর্মঘটের প্রথম দিনে  পুলিশ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে পুলিশ ও পথচারীসহ ১৯ জন আহত হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত