রাজধানী উত্তরার কুয়েত বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতালের পরিচালকের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ করেছেন একজন নার্সিং অফিসার। অভিযুক্ত পরিচালকের নাম ডা. আমিরুল ইসলাম।
সোমবার দেশ রূপান্তরের কাছে অভিযোগকারী নারী বলেন, আমি তার বিরুদ্ধে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছেও লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।
এ বিষয়ে হাসপাতালের পরিচালক ডা. আমিরুল ইসলামের দুটি মোবাইলে ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
উত্তরা পূর্ব থানার ওসি নূরে আলম দেশ রূপান্তরকে বলেন, বিষয়টির তদন্ত চলছে। কাজেই তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে কোন কথা বলা যাবেনা। গত ২৭ মার্চ রাজধানীর উত্তরা পূর্ব থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন যৌন নিপীড়নের শিকার নার্স।
অভিযোগপত্রে নিপীড়নের শিকার ওই নার্স জানান, হাসপাতালের পরিচালক হিসেবে ২০১৮ সালের ৪ নভেম্বরে যোগদানের পর অফিসের কার্যক্রম চলাকালে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন তারিখে আমাকে অফিসে তার কক্ষে কাজের ছলে ডেকে নিয়ে বিভিন্নভাবে যৌন নিপীড়ন করেছেন।
এছাড়া ডা. আমিরুল ওই নার্সকে নিয়ে দেশের বাইরে সময় কাটানোর প্রস্তাবের পাশাপাশি স্বামীকে ছেড়ে দিয়ে তার সঙ্গে থাকারও প্রস্তাব দেন বলে অভিযোগপত্রে বলা হয়। এমনকি অনৈতিক সম্পর্ক করতে ওই নার্সকে বাড়ি, গাড়ি, টাকারও লোভ দেখান ওই চিকিৎসক। কিন্তু ডা. আমিরুলের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করতে নানারকম ভয়ভীতি দেখান। এমনকি অপরিচিত কয়েক যুবক ওই অভিযোগকারী নার্সকে হুমকি দেন এবং তার স্বামীকেও হুমকি দেন।
নার্সিং ও মিড্য়াইফারী অধিদপ্তরের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, গত সপ্তাহে কুয়েত বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতালের পরিচালকের বিরুদ্ধে একজন নার্সিং কর্মকর্তার অভিযোগ এসেছে। বিষয়টি সম্পর্কে অধিদপ্তরের শৃঙ্খলার দায়িত্বশীল কর্মকর্তা ভালো বলতে পারবেন।
অধিদপ্তরের শৃঙ্খলা বিষয়ক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ইনচার্জ) হাফিজুর রহমান বলেন, এ ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে মহাপরিচালক নিজেই একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে তদন্তের নির্দেশ দিয়ে থাকেন। এখন পর্যন্ত কোন তদন্ত কমিটি গঠনের তথ্য জানা নেই। তবে অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) তন্দ্রা শিকদারের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।
