চার বছর পর ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে খেলতে নেমেছিলেন। প্রথম ওভারে শিকার ২ উইকেট। পাঁচ ওভারের প্রথম স্পেলে উইকেট আছে আরও একটি। ওই স্পেলটা হলো ৫-১-২০-৩। মোস্তাফিজুর রহমান একাই তটস্থ করে তুলেছিলেন গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সকে। ২০তম ওভারে ফিরলেন। মাত্র ২ রান। পরের ওভারের টানা চার বল ডট। পঞ্চম বলে ১ রান। এরপরই গতকাল তৃতীয়বারের মতো মিরপুরে হানা দেয় বৃষ্টি। তাতেই থামতে হয় ফিজকে। থামে শাইনপুকুর ক্রিকেট ক্লাব। গাজীর অফ স্পিনার সঞ্জিত সাহা ম্যান অব দ্য ম্যাচ।
বৃষ্টিতে শেষে আর খেলা না হওয়ায় ডি/এল মেথডে গাজী গ্রুপের জয় ২১ রানের। সঞ্জিত টপ ও মিডলের ৪ উইকেট নিয়ে শাইনপুকুরের রানটাকে ৯ উইকেটে ১৭৭ রানে বেঁধে ফেলায় ভূমিকা রেখেছিলেন। গাজী ২১.৪ ওভারে ৪ উইকেটে ১০৬ রান তুলল। বৃষ্টিতে থামল খেলা। বৃষ্টি না নামলে ‘ফিজ’ কী করতে পারতেন তা জানা হলো না তাই।
১০ ম্যাচে ১০ পয়েন্ট তোলা গাজী পয়েন্ট টেবিলের ছয় নম্বরে। সুপার সিক্সে খেলার আশা টিকে আছে। সমান ম্যাচে ৯ পয়েন্ট পাওয়া শাইনপুকুর চাপে। এদিন বিকেএসপিতে মোহামেডান স্পোর্টিং জয়ে ফিরেছে সুপার লিগে উঠে যাওয়া প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবকে ডি/এল মেথডে ১৩৩ রানে হারিয়ে। মোহামেডানের সুপার সিক্সে খেলার আশা বেঁচে থাকল। ১০ পয়েন্ট তাদের। রকিবুল হাসান সেঞ্চুরি করে হয়েছেন ম্যাচের সেরা।
চলছিল লিগের দশম রাউন্ড। দিনের অন্য ম্যাচে ডি/এল মেথডের হিসাব কষে জিতেছে খেলাঘর সমাজ কল্যাণ সমিতি। ফতুল্লায় ব্রাদার্স ইউনিয়ন ৬ উইকেটে ২৬৭ তুলেছিল। বৃষ্টিতে দেরিতে শুরু হওয়া খেলা থামল বৃষ্টিতেই শেষে আবার। আর শুরু হয়নি। তখন ১ উইকেটে ৮৪ রান ছিল খেলাঘরের, ২০ ওভারে। বৃষ্টির কথা মাথায় রেখে এগিয়ে থেকে চলছিল তারা। শেষে জয় ১২ রানে। ব্রাদার্সের ফজলে মাহমুদ রাব্বি ১১৬ বলে ১০৩ রানের ইনিংস খেলেছেন। লিগে তার দ্বিতীয় সেঞ্চুরিটা হারে হলো মøান। এই দুই দল সুপার লিগে খেলার লড়াইয়ে নেই।
আলোচনায় অবশ্য ঐতিহ্যবাহী মোহামেডান। লিগের প্রথম তিন ম্যাচ জেতার পর টানা চারটি হেরেছে। তারপর বিতর্কিত এক জয়ের পর আবার হার। এবার নিজেদের টিকিয়ে রাখার লড়াইয়ে ৯ উইকেটে ২৯৬ রান তুলে ফেলল তারা। রকিবুল এবারের লিগে প্রথম সেঞ্চুরি করলেন প্রয়োজনের মুহূর্তে। লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে যেটি তার ষষ্ঠ সেঞ্চুরি। ১০৪ বলে ১ ছক্কা ও ১১ চারে প্রতিকূল অবস্থার মধ্যেই ১০২ রান করেছেন রকিবুল। সাত নম্বরে ভারতীয় রজত ভাটিয়ার ৬৬, আট নম্বরে সোহাগ গাজীর ৩৩ বড় উপকার করেছে। ওপেনার লিটন দাস নিয়েছিলেন ৩৬ রান।
স্পিনার সোহাগ গাজী এরপর ৪ উইকেট নিলেন সাত ওভারে ২১ রান দিয়ে। ব্যাট হাতে ধারাবাহিকভাবে ব্যর্থ মোহাম্মদ আশরাফুল করেছিলেন ৪। কিন্তু ৩ উইকেট নিলেন বল হাতে। এমনিতেই হারত প্রাইম ব্যাংক। ৩৯.১ ওভারে তাদের ১৫০ যখন তখন আলো কমে। খেলা থামে। তারপর বৃষ্টিতে শেষ। মোহামেডানের জয়।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
শাইনপুকুর-গাজী গ্রুপ
শাইনপুকুর : ১৭৭/৯ (৪৮ ওভার) (দেলওয়ার ৪০*, সাদমান ৪০, শুভ ৩০; সঞ্জিত ৪/২৫, নাসুম ২/৩৩)। গাজী গ্রুপ : ১০৬/৪ (২১.৫ ওভার) (শামসুর ৫৩*, রনি ১৬; মোস্তাফিজ ৩/২৩)। ফল : গাজী গ্রুপ ২১ রানে জয়ী (ডি/এল মেথডে)। ম্যাচসেরা : সঞ্জিত সাহা।
মোহামেডান-প্রাইম ব্যাংক
মোহামেডান : ২৯৬/৯ (৫০ ওভার) (রকিবুল ১০২, ভাটিয়া ৬৬, লিটন ৩৬, সোহাগ গাজী ৩৩; মনির ২/৩৭, নাঈম ২/৫৩)। প্রাইম ব্যাংক (টার্গেট ২৮৪, ৩৯.১ ওভার) : ১৫০/৯ (৩৯.১ ওভার) (নাহিদুল ২৮; সোহাগ গাজী ৪/২১, আশরাফুল ৩/৩৭)। ফল : মোহামেডান ১৩৩ রানে জয়ী (ডি/এল মেথডে)। ম্যাচসেরা : রকিবুল হাসান।
খেলাঘর-ব্রাদার্স
ব্রাদার্স : ২৬৭/৬ (৫০ ওভার) (ফজলে মাহমুদ ১০৩, মিজানুর ৪৯, ইয়াসির আলী ৪৭*; রবি ১/২৮)। খেলাঘর : ৮৪/১ (২০ ওভার) (রবি ৩৯*, মাহিদুল ২১*, কমল ২১)। ফল : খেলাঘর ১২ রানে জয়ী (ডি/এল মেথডে)। ম্যাচসেরা : ফজলে মাহমুদ।
