সুদানে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির আন্দোলন দমনে বিক্ষোভকারীদের ওপর বর্বরোচিত নির্যাতনের লোমহর্ষক চিত্র বেরিয়ে এসেছে। গত ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া অসন্তোষ-পরবর্তী বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত তিন হাজারের অধিক সুদানিকে গ্রেপ্তার করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। গোপন বন্দিশিবিরে তাদের ওপর চালানো হয়েছে নারকীয় অত্যাচার।
ইতিমধ্যে এ আন্দোলন থেকে প্রেসিডেন্ট ওমর আল বশিরের অপসারণের ডাক উঠলে খার্তুমে কয়েক দিন ধরে চলছে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ। জনগণের বিরুদ্ধে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীকে উস্কে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সরকারের বিরুদ্ধে। মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নয়নে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন থেকে বারবার চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে।
সিএনএন জানায়, গ্রেপ্তার এড়াতে অনেক বিক্ষোভকারী নিজেদের বাসস্থান ত্যাগ করে অন্য জায়গায় গোপনে থাকতে শুরু করে। কিন্তু তাদের অনেকেরই পরিণতি হয় কারাগারে নয়তো মৃত্যুর মধ্য দিয়ে। গ্রেপ্তারকৃতদের অধিকাংশকেই গোপন বন্দিশিবিরে নিয়ে যাওয়া হয়। স্থানীয় পর্যায়ে ওই বন্দিশিবিরগুলোকে ‘ভূতের বাড়ি’ বলা হয়। যদিও এসব বন্দিশিবিরের অস্তিত্ব স্বীকার করে না সুদান সরকার।
মার্কিন প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, ওই বন্দিশিবিরগুলোতে বন্দিদের ওপর অকথ্য নির্যাতন চালানো হয়। অনেক বন্দিই নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে মারা যান। এমনই একটি বন্দিশিবির অবস্থিত খার্তুমের নীল নদের উত্তরে। ওই শিবিরে শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় রাখা হয় বন্দিদের। বন্দিশিবিরটি আল তালাজা বা ‘রেফ্রিজারেটর’ নামে পরিচিত। এই বন্দিশিবির থেকে আজ পর্যন্ত কোনো বন্দি বের হতে পারেননি।
খার্তুমের একটি বন্দিশিবিরে বন্দি ছিলেন মানবাধিকারকর্মী উইফাক আহমেদ আবদুল্লাহ। তার ভাষায়, ‘আমাদের এত পেটানো হতো যে কিছু বলার শক্তিও থাকত না। আমার হাত ও পায়ে অস্তিত্ব টের পেতাম না। ভয়াবহ শীতল ওই জায়গাটা। প্রতি মুহূর্তে মনে হতো আমার শরীরে ছুরি চালানো হচ্ছে।’
সুদানের নিরাপত্তারক্ষীরা বন্দিদের নির্যাতনে এমন পন্থা বেছে নিয়েছে, কারণ এতে শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন থাকে না। আবদুল্লাহকে ওই শিবিরে মাত্র দুদিন আটকে রাখা হয়েছিল। কিন্তু ওই দুদিনই তার জীবনের সবচেয়ে ভয়াবহ দিন।
কোনো গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছাড়াই নাগরিকদের ৪৫ দিন বন্দি করে রাখার ক্ষমতা আছে দেশটির ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড সিকিউরিটি সার্ভিসের (এসআইএসএস)। যদিও এই আইনটি আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী। প্রেসিডেন্ট বশিরের শাসনামলে ওই ভূতের বাড়িগুলোতে খুব একটা বন্দি রাখা হতো না। কিন্তু এবারের বিক্ষোভ দমনে সরকারের পক্ষ থেকে নির্বিচারে ওই বন্দিশিবিরগুলো ব্যবহার করা হচ্ছে।
