শত ব্যস্ততার মধ্যেও স্বাস্থ্যের ব্যাপারে সচেতন থাকি অনেকেই। কিন্তু তারপরও হঠাৎ দেখা দিতে পারে পায়খানার সামান্য সমস্যা। পায়খানা এখন আর আগের মতো হচ্ছে না। আগে প্রতিদিন সকালে নিয়মিত কোষ্ঠ পরিষ্কার হতো। এখন তা কখনো সকালে, কখনো বিকেলে, কখনো-বা একাধিকবার হচ্ছে। তবে এমন সমস্যায় অনেকেই তেমন পাত্তা দিই না। কিন্তু ছোট এই বিষয়টিই হতে পারে বিশাল এক সমস্যার কারণ। হতে পারে রেক্টাল ও কোলন ক্যানসার।
লক্ষণ কী?
কোলন ও রেক্টাল ক্যানসারকে একসঙ্গে কোলোরেক্টাল ক্যানসার বলে। বেশির ভাগ কোলোরেক্টাল ক্যানসার শুরু হয় ছোট্ট পলিপ থেকে। পলিপ হলো একগুচ্ছো কোলোরেক্টাল নালির আবরণী কোষের সমাহার, যা ক্যানসার নয়। দিনে দিনে এ পলিপ বড় হতে থাকে। একসময় এটি ক্যানসারে রূপ নেয়। পলিপ থেকে ক্যানসারে রূপান্তর ঘটতে সময় লাগে গড়ে ১০ বছর। খুব ধীরে ধীরে এ পরিবর্তন ঘটে। তবে সব ধরনের পলিপ থেকে ক্যানসার হয় না।
এ ক্যানসার হওয়ার অনেক দিন পর্যন্ত কোনো লক্ষণ দেখা নাও দিতে পারে। তারপরও রোগের প্রথম দিকে রোগী খেয়াল করলে যেসব বিষয় বুঝতে পারবেন, সেগুলো হচ্ছেÑ পায়খানার অভ্যাস পরিবর্তিত হওয়া অর্থাৎ আগে যদি দিনে একবার কোষ্ঠ পরিষ্কার হতো, এখন তা কয়েকবার হওয়া মলের প্রকৃতি পরিবর্তিত হওয়া অর্থাৎ আগে স্বাভাবিক মল হলে এখন তা আগের থেকে কঠিন অথবা নরম হওয়া, কালো পায়খানা হওয়া, সকালবেলা পাতলা পায়খানা হওয়া, মিউকাস যাওয়া, একবার টয়লেটে যাওয়ার পর মনে হয় পায়খানা রয়ে গেছে আবার হবে, রক্ত যাওয়া, ওজন কমে যাওয়া, পেট ব্যথা করা ইত্যাদি। এগুলো ছাড়াও আরও অনেক লক্ষণ দেখা দিতে পারে।
কেন হয়
রেক্টাল ক্যানসার বর্তমানে বেশ বৃদ্ধি পেয়েছে। নারী-পুরুষ উভয়েই এই রোগে আক্রান্ত হতে পারেন। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্তের মধ্যে যাদের খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তিত হয়ে গেছে তাদের এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে। যারা ফাস্ট ফুড, রিফাইড ফুড বেশি খাচ্ছেন, শাকসবজি কম খাচ্ছেন। খুব বেশি চর্বিযুক্ত খাবার খেলে ও আঁশজাতীয় খাবার কম খেলে। শরীরে অন্য কোথাও আগে থেকে ক্যানসার থাকলে। বয়স ৫০ বছরের বেশি হলে। যদি পরিবারে কারও আগেই এই রোগের রেকর্ড থাকে। এগুলো ছাড়াও আরও অনেক কারণে হতে পারে এই ক্যানসার। তাই মল ত্যাগে সামান্যতম সমস্যা হলেও চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।
চিকিৎসা
প্রাথমিক পর্যায়ে রেক্টাল ক্যানসার নির্ণয় করা গেলে তার চিকিৎসা আছে। বাংলাদেশেই কোলোরেক্টাল সার্জনের চিকিৎসার ফলে অনেক রোগী সুস্থ আছেন ১০ থেকে ১২ বছর। কিন্তু রোগ অগ্রসর হয়ে গেলে এর চিকিৎসা পৃথিবীর কোথাও নেই। তাই এই জাতীয় লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত একজন বিশেষজ্ঞ সার্জন বিশেষত কোলোরেক্টাল সার্জনের শরণাপন্ন হওয়া অত্যন্ত জরুরি। কথায় বলে, সময়ের এক ফোঁড় অসময়ের দশ ফোঁড়।
অধ্যাপক ডা. এস এম এ এরফান
এমবিবিএস, এফসিপিএস (সার্জারি)
অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান (সার্জারি বিভাগ)
কেয়ার মেডিকেল কলেজ ৩
০১৮৬৫-৫৫৫ ৫১১
০১৬২৬-৫৫৫ ৫১১