স্বামীকে বেঁধে রেখে স্ত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ

আপডেট : ১৭ এপ্রিল ২০১৯, ০৭:১৬ পিএম

পটুয়াখালীর কলাপাড়ার ধুলাশর ইউনিয়নের নতুনপাড়ায় স্বামীকে বেঁধে তার সামনেই স্ত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এসময় ধর্ষক দল ধর্ষিতার স্বামীকেও নির্মমভাবে নির্যাতন করেছে। বর্তমান স্বামী ও স্ত্রী দুজনই পটুয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে।

এ ঘটনায় বুধবার স্বামী বাদী হয়ে পটুয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতে অভিযোগ দায়ের করেছেন। আদালতের বিচারক নিতাই চন্দ্র রায় সংশ্লিষ্ট থানার ওসিকে এজাহার নেওয়ার আদেশ দিয়েছেন।

মামলার বাদী মামলায় উল্লেখ করেন, গত ১৫ এপ্রিল রাতে তার স্ত্রী (ভিকটিম) ও পরিবারের সদস্যরা পার্শ্ববর্তী এলাকায় খালা হাছিনা বেগমের বাড়িতে রাতে নিমন্ত্রণ খেতে যায়। রাতের খাবার শেষ করে ঘুমাতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিলে মামলায় উল্লেখিত আসামি একই এলাকার মৃত মনু মাঝির ছেলে শাহ আলম, মনির হাওলাদারের ছেলে শাহিন, রবিউল, আল-আমিন, আব্দুর রশিদ, শাকিলসহ ১০ থেকে ১২ জন জোর করে ঘরে ঢুকে প্রথমে তাকে মারধর শুরু করে। এক পর্যায়ে রশি দিয়ে হাত-পা বেঁধে তাকে ঘরের মেঝেতে ফেলে রাখে। তার সামনেই স্ত্রীকে দল বেঁধে ধর্ষণ চালায় বলে মামলায় উল্লেখ করেন।

এ সময় তার বৃদ্ধা মা-বাবা ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা বাধা দিতে গেলে ধর্ষক দলটি তাদেরও মারধর করে। 

মামলা সূত্রে আরো জানা যায়, ওই রাতে ধর্ষকেরা ভিকটিমকে আল আমিনের মাছের ঘেরে নিয়ে গিয়ে পুনরায় পালাক্রমে ধর্ষণ করে। পরে আহত অবস্থায় ওই গৃহবধূকে ধুলাশর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল জলিল আকনের বাড়িতে ফেলে রেখে যায়। পরে স্থানীয় গ্রাম পুলিশেরা উদ্ধার করে তাকে কলাপাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কলাপাড়া স্বাস্থ্য বিভাগ তাকে পটুয়াখালীতে প্রেরণ করেন।

পটুয়াখালী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ভিকটিমের মেডিকেল পরীক্ষার জন্য একটি বোর্ড বসানো হয়েছে বলে জানিয়েছে। তবে দায়িত্বরত ডাক্তারের সাথে কথা বলা যায়নি।

পটুয়াখালী ওয়ান ষ্টপ ক্রাইসিস সার্ভিসের প্রোগ্রাম অফিসার রফিকুল ইসলাম জানান, ভিকটিম মেডিকেলে আসার পরে আমাদের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে এবং মামলার ক্ষেত্রে সহযোগিতা করেছি। বাকি সহযোগিতাও করা হবে। স্বামী ও স্ত্রীর অবস্থা আশঙ্কাজনক। 

ইউপি সদস্য আনোয়ার ফকির জানান, একই এলাকার আজাহার খলিফার ছেলে মামুন ও তার বন্ধুরা ফোন করে তাকে জানায়, ১৫ এপ্রিল রাতে ছিদ্দিক ও একটি মেয়েকে তারা আটক করেছে। মেয়েটির সাথে ছিদ্দিকের সাথে অবৈধ সম্পর্ক রয়েছে এবং তাদের পক্ষে কোন প্রকার কাগজপত্র দেখাতে পারেনি এমন কথা তাকে ফোনে জানানো হয়। পরে ছিদ্দিকের কাছে জানতে চাইলে তিনি ইউপি সদস্যকে জানান, মেয়েটি তার বিবাহিত স্ত্রী। তার সাথে কোন অবৈধ সম্পর্ক নাই। এ সময় মেয়েটি আমাকে বলেছিল আমার স্বামীকে উল্লেখিত যুবকেরা মারধর করেছে। কিন্তু ধর্ষণের ঘটনা আমি আজ শুনলাম।

মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইদুল ইসলাম জানান, এ রকম একটি ঘটনা শুনেছি। কিন্তু কোন ব্যক্তি মামলা করতে আসেনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত