নিষেধাজ্ঞা উঠবে, তবে কাঠখড় পোড়াতে হবে ফেরদৌসকে

আপডেট : ১৮ এপ্রিল ২০১৯, ১০:১৮ পিএম

বিদেশি নাগরিক হয়ে ভারতের নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেওয়ার অভিযোগে জনপ্রিয় চিত্রনায়ক ফেরদৌসের ভিসা বাতিল করেছে ভারত সরকার। একই সঙ্গে তাকে কালো তালিকাভুক্তও করেছে।

ভারত সরকারের নির্দেশে ১৬ এপ্রিল রাতেই বাংলাদেশে ফিরে আসতে হয়েছে ফেরদৌসকে। পর দিন ১৭ই এপ্রিল নিজের ভুল বুঝতে পেরে গণমাধ্যমে একটি বিবৃতিও পাঠিয়েছেন ফেরদৌস। সেই বিবৃতিতে তিনি স্বীকার করেছেন আবেগের বশে না বুঝে ভুল করে ফেলেছেন। তবে সামান্য আবেগের চড়া দাম দিতে হচ্ছে ফেরদৌসকে। নিষেধাজ্ঞার কারণে আর কখনো ভারতে যেতে পারবেন না ফেরদৌস। ফলে সেখানে শুটিংও করতে পারবেন না।

প্রশ্ন উঠেছে কখনোই কি এই নিষেধাজ্ঞা উঠবে না? ভারতীয় বিধান অনুযায়ী কেউ কালো তালিকাভুক্ত হলে তাকে আর সে দেশে ঢুকতে দেওয়া হয় না। তবে যেহেতু বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সুসম্পর্ক রয়েছে, সেই সম্পর্ক কাজে লাগিয়ে ফেরদৌস পার পেয়েও যেতে পারেন। এ জন্য হস্তক্ষেপ করতে হবে উচ্চ পর্যায়ে।

ফেরদৌসের ওপর নিষেধাজ্ঞার ঘটনায় টলিউড তারকাদের অনেকেই দুঃখ প্রকাশ করেছেন। ওপার বাংলার অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত বলেছেন, ফেরদৌস তাদের ইন্ডাস্ট্রিরই অংশ। ফেরদৌসকে কালো তালিকাভুক্ত করলে এখানে অনেক ক্ষতি হবে।

জানা যায়, ফেরদৌসের ব্যাপারটি পুরোটাই নির্ভর করছে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওপর। একমাত্র স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ই পারবে ফেরদৌসের ওপর নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে নিতে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ফেরদৌস যদি উচ্চ পর্যায়ে লবিং চালিয়ে মুচলেকা দিতে পারেন তাহলে হয়তো তার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা উঠে যাবে। কিন্তু উচ্চ পর্যায়ের এই লবিং করতেও ফেরদৌসকে পোহাতে হবে প্রচুর কাঠখড়। প্রক্রিয়াটাও অনেক সময় সাপেক্ষ ব্যাপার।

উল্লেখ্য, গত ১৪, ১৫ এপ্রিল ভারতের লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূলের প্রার্থীর হয়ে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেন ফেরদৌস। এরপর বিজেপি ফেরদৌসের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ করলে ভারত সরকার ফেরদৌসের ভিসা বাতিল করে তাকে দেশে ফেরারে নির্দেশ দেয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত