রাজধানীর কলাবাগান থেকে অপহরণের ৬ দিন পর সাভারে স্নাতকোত্তরের এক শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করেছে র্যাব। একই সঙ্গে অপহরণ চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করে সাভার থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাবের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।
র্যাব-৪-এর অধিনায়ক চৌধুরী মঞ্জুরুল কবীর বলেন, চট্টগ্রামের বাসিন্দা ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী মো. মেহেদী হাসান রায়হান (২৫) গত ১২ এপ্রিল রাত ১১টার দিকে কলাবাগান থেকে নিখোঁজ হন। গত বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে র্যাব-৪-এর একটি দল সাভারের আমিনবাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে উদ্ধার করে। এ সময় অপহরণকারী চক্রের সদস্য আজিজুল হাকিম (৪০), লিটন মোল্লা (২৬), কাজল বেগম (২৬), নজরুল ইসলাম নবু (৪২) ও নুরু মিয়া ওরফে নুর ইসলাম ওরফে কাকা ওরফে মোল্লাকে (৬২) গ্রেপ্তার করা হয়। অপহরণে ব্যবহৃত একটি প্রাইভেটকার জব্দ করা হয়েছে। র্যাব জানায়, কলাবাগান থেকে রায়হান তার পূর্বপরিচিত মো. বাহারের (পলাতক আসামি) প্রাইভেটকারে চড়ে এক সুন্দরী তরুণীর সঙ্গে দেখা করতে আমিনবাজারে যায়। সেখানে একটি ভবনে প্রবেশের পর রায়হানকে আটকে ফেলে অপহরণকারীরা। তার হাত ও চোখ-মুখ বেঁধে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে। এ সময় পরিবারের সদস্যদের কাছে মোবাইল ফোনে মারধরের শব্দ ও কান্না শুনিয়ে মুক্তিপণ হিসেবে ১০ লাখ টাকা দাবি করে। মুক্তিপণের টাকা না দিলে রায়হানকে খুনেরও হুমকি দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে অপহরণকারীরা ভুক্তভোগীর বাবা ও বোনের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে সর্বশেষ ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ রফা করে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত র্যাব-৪-এর মেজর কাজী সাইফ উদ্দিন বলেন, প্রাইভেটকার চালক বাহার এই অপহরণ চক্রের মূল হোতা। সেই তরুণীর সঙ্গে দেখা করানোর কথা বলে রায়হানকে নিয়ে যায় এবং নিজেও অপহৃত হওয়ার নাটক সাজায়। এরপর চক্রের অন্য সদস্যদের মাধ্যমে ১৫ এপ্রিল রায়হানের পরিবারের কাছ থেকে এক লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। আসামিরা জিজ্ঞাসাবাদে পলাতক ফরিদ উদ্দিন (৪০) ও মো. বাহারের (৩২) নাম জানিয়েছে। এ ঘটনায় সাভার মডেল থানায় মামলা হয়েছে।
×
