চাঁদপুরের রাজরাজেশ্বর চর এলাকার পদ্মা-মেঘনা নদীতে জাটকা রক্ষা অভিযান চলাকালে জেলেদের হামলায় প্রশাসনের দুই কর্মকর্তা আহত হয়েছেন। এ সময় আত্মরক্ষার্থে পুলিশ ও কোস্টগার্ড ৭ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
বৃহস্পতিবার রাতে মেঘনা নদীর কাটাখালী চর এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জামান ও ফরিদগঞ্জ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মিজানুর রহমান আহত হন। জেলেদের নিক্ষেপ করা ইটের আঘাতে শরীর ও মাথায় আঘাত পান তারা। আহত দুই কর্মকর্তাকে প্রাথমিকভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
অভিযানে ৩ লক্ষ ৭৫ হাজার মিটার কারেন্ট জাল, এক মন জাটকা ইলিশসহ ১৭ জন জেলেকে আটক করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতে আটককৃত জেলেদের মধ্যে ১৩ জনকে এক বছর করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ৪ জেলেকে অর্থদণ্ড প্রদান করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোরশেদুল ইসলাম। এ সময় ৬৩ টি মাছ ধরা নৌকা জব্দ করে ব্যবহার অনুপযোগী করা হয় এবং ৫টি জাটকা বিক্রির আড়ত আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত রাজ রাজেশ্বর চর, গোয়ালিয়র চর, কাটাখালি চর, সাইলুরের ছাই ফ্যাক্টরি এলাকা, আনন্দবাজারসহ টিলাবাড়ি এলাকায় এই সাঁড়াশি অভিযান চালানো হয়। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জামানের নেতৃত্বে মৎস্য কর্মকর্তা মিজানুর রহমান, নৌ থানার ওসি আবু তাহের, কোস্টগার্ড কমান্ডার আবদুল মালেকসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা এ অভিযানে অংশ নেন।
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জামান বলেন, জাটকা রক্ষায় বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত পদ্মা-মেঘনা নদীতে নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড ও নৌপুলিশসহ অভিযান পরিচালনার সময় সংঘবদ্ধ জেলেরা হামলা চালায়। এ সময় হামলা থেকে আত্মরক্ষার্থে নৌপুলিশ ও কোস্টগার্ড ৭ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
অন্যদিকে বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চালানো অপর এক অভিযানে চাঁদপুর চান্দ্রা ইউনিয়নের বাখরপুর এলাকা থেকে পাচারের সময় ২৫ মন জাটকা জব্দ করা হয়। চাঁদপুর জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উজ্জ্বল হোসেন ব্যাটালিয়ন আনসার সদস্যদের সহযোগিতায় এ অভিযান পরিচালনা করেন।
