গাইবান্ধার পলাশবাড়ি উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়নের খামার মামুদপুর গ্রামে রাস্তার পাশে ধানখেতে পাওয়া একদিন বয়সী এক নবজাতক ছেলে শিশুর দায়িত্ব নিয়েছেন নীলফামারির এক বিচারক-শিক্ষক দম্পতি।
এর আগে গত ১৬ এপ্রিল শিশুর কান্নার শব্দ শুনে স্থানীয় আবিদা খাতুন (৫৫) ও সাদা রানিকে (৪৫) নিয়ে গিয়ে শিশুটিকে ওই স্থান থেকে উদ্ধার করেন।
রবিবার এই শিশুটির দায়িত্বভার গ্রহন করেন গাইবান্ধার এক বিচারক-কলেজ শিক্ষক দম্পতি। রবিবার দুপুরে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এই কথা জানান এসপি প্রকৌশলী আবদুল মান্নান মিয়া।
এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহম্মদ রাহাত গাওহারী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বি-সার্কেল) মইনুল হক, সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (সি-সার্কেল) মো. আসাদুজ্জামান, সদর থানার অফিসার ইনচার্জ খান মো. শাহরিয়ারসহ পুলিশের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারা।
পুলিশ সুপার প্রকৌশলী আবদুল মান্নান মিয়া বলেন, শিশুটিকে উদ্ধারের পর হরিণাবাড়ী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে খবর দিলে কেন্দ্রের ইনচার্জ কামাল হোসেন শিশুটিকে উদ্ধার করে তদন্ত কেন্দ্রে নিয়ে যান। সে রাতের বৃষ্টিতে শিশুটি ভিজে যাওয়ার পরও বেঁচেছিল নবজাতকটি। ঠান্ডায় অসুস্থ হয়ে পড়লে শিশুটিকে জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ভর্তির পর নবজাতক এই শিশুটির দেখভালের দায়িত্ব পালন করেন পৌর এলাকার প্রফেসর কলোনির শামীমা আক্তার সুমনা (৩০)। পরে শিশুটির খবর ছড়িয়ে পড়লে দেশ ও বিদেশের অনেকেই দায়িত্ব নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। পরে বিভিন্ন দপ্তরের ১৬ সদস্য বিশিষ্ট এক কমিটির সিদ্ধান্তে সবদিক বিবেচনা করে শিশুটির দায়িত্বভার দেওয়া হয় যোগ্য এক নিঃসন্তান দম্পতির কাছে।
তিনি আরও বলেন, সমাজসেবা অধিদপ্তর ও পুলিশের পক্ষ থেকে ১৮ বছর পর্যন্ত শিশুটির খোঁজ-খবর রাখা হবে। তবে শর্ত থাকবে যে, শিশুটির পিতা-মাতা দাবি নিয়ে কেউ আসলে তখন ডিএনও টেস্টসহ পরিচয় নিশ্চিত হয়ে শিশুটিকে তার জন্মদাতা বাবা-মাকে দেওয়া হবে। শিশুটির পরিচয় উদ্ঘাটনের বিষয়ে অনুসন্ধান অব্যাহত আছে।
