অনশনে অসুস্থ হয়ে পড়েছে ববির ১৬ শিক্ষক-শিক্ষার্থী

আপডেট : ২৬ এপ্রিল ২০১৯, ০২:৩২ পিএম

উপাচার্য প্রফেসর এস এম ইমামুল হকের অপসারণ চেয়ে আমরণ অনশন কর্মসূচির তৃতীয় দিন চলছে। অনশনে অংশ নেওয়া বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সহ-সভাপতি কায়ছার আহম্মেদ জয়, সাধারণ সম্পাদক আবু জাফর মিয়া, ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মিজানুর রহমান, বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সঞ্জয় কুমার সরকারসহ মোট ৪ জন শিক্ষক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।

যার মধ্যে শিক্ষক সমিতির সহ-সভাপতি ও ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপককে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিরা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে রয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবু জাফর মিয়া।

অন্যদিকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত মোট ১০ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়েছে বলে জানিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের নেতা লোকমান হোসেন।

তিনি জানান, ১২ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের ষষ্ঠ ব্যাচের আনোয়ার, অর্থনীতি বিভাগের ষষ্ঠ ব্যাচের রাশেদ, লোক প্রশাসনের ষষ্ঠ ব্যাচের মারুফ ও সোহাগসহ ৪ জনকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের মধ্যে কয়েকজন বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল ক্যাম্পে আর অন্যরা কর্মসূচিস্থলে (বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের নিচে) চিকিৎসাধীন।

ভিসির অপসারণ মর্মে কোনো সংবাদ না পাওয়া পর্যন্ত আন্দোলন থেকে পিছু হটবে না বলে জানান শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবু জাফর মিয়া জানান, শিক্ষক সমিতির আহ্বানে সাড়া দিয়ে বুধবার থেকে এ পর্যন্ত ৫৬ জন শিক্ষক তাদের স্ব-স্ব প্রশাসনিক পদ (প্রভোস্ট, প্রক্টর, চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন পদ) থেকে পদত্যাগের বিষয়ে সম্মতি জ্ঞাপন করেছেন এবং তারা এরই মধ্যে তাদের পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।

শিক্ষার্থী শফিকুল ইসলাম বলেন, গত বৃহস্পতিবার ডাকসুর সহসভাপতি-সম্পাদক স্বাক্ষরিত এক প্রতিবাদ লিপিতে আমাদের আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করেছেন। পাশাপাশি তারা শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের (ববি শিক্ষার্থীদের) সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন এবং উদ্ভূত সমস্যার সমাধানে দ্রুততম সময়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, গত ২৬ মার্চ একটি অনুষ্ঠানে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এসএম ইমামুল হক শিক্ষার্থীদের রাজাকারের বাচ্চা বলে গালি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।

সেই থেকে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সূত্রপাত। প্রথমে ১০ দফা এবং পরে উপাচার্য পদত্যাগের এক দফা দাবিতে আন্দোলনে নামে শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনের এক মাস অতিক্রম করলেও এর কোনো সুরাহা হয়নি। বর্তমানে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শিক্ষকরা একযোগে উপাচার্য অপসারণের দাবিতে আমরণ অনশন করছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত