আজ থেকে ২৪ বছর আগের কথা। পাঞ্চেন লামার বয়স তখন ৬ বছর। সেই থেকে তিনি নিখোঁজ। তিব্বতের বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা দাবি করেন চীনের কমিউনিস্ট সরকার তাকে আটকে রেখেছে। দেশটির বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কাছে পাঞ্চেন দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত।
পাঞ্চেন লামাকে নিয়ে বিবিসি বাংলা একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সেখানে তাকে ধরে নিয়ে যাওয়ার বিস্তারিত ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া এশিয়ান নিউজের এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, পাঞ্চেন লামার জন্য এখনো তিব্বতবাসী অপেক্ষায় আছেন। তাকে ফিরে পেতে ২৬ এপ্রিল তারা মানববন্ধন করেছেন।
তিব্বতের বুদ্ধরা পুনর্জন্মে বিশ্বাস করেন। যখন এই ধর্মের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ শীর্ষ গুরু পাঞ্চেন লামা ১৯৮৯ সালে রহস্যজনক কারণে মারা যান (অনেকে মনে করেন যে, চীনা সরকার তাকে বিষপ্রয়োগে হত্যা করেছে), তখন তার পুনর্জন্ম ছিল কিছু সময়ের ব্যাপার মাত্র।
১৯৯৫ সালের ১৪ মে তিব্বতের বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীর প্রধান গুরু দালাই লামা ঘোষণা দেন যে, পাঞ্চেন লামার নতুন দেহধারীকে তিনি খুঁজে পেয়েছেন। সে হলো তিব্বতের নকচু শহরের একজন চিকিৎসক ও সেবিকা দম্পতির ছয় বছরের ছেলে গিনডু চোকি নিমা।
চীনের সরকার আশা করছিল, দালাই লামার সহযোগিতা ছাড়াই নতুন পাঞ্চেন লামাকে খুঁজে পাওয়া যাবে, যিনি ১৯৫৯ সালে তিব্বত ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেন এবং সেখানে প্রবাসী তিব্বতি সরকার গঠন করেন।
সুতরাং গিনডু চোকি নিমা এবং তার পরিবারকে দৃশ্যপট থেকে সরিয়ে নিয়ে যায় চীন এবং কিছু অনুগত বুদ্ধ নেতাদের সহায়তায় আরেকটি ছেলেকে পুতুল পাঞ্চেন লামা হিসেবে নির্বাচিত করে।
১৯৯৫ সালের ১৭ মে আটক করে নিয়ে যাওয়ার পর থেকে আর জনসম্মুখে দেখা যায়নি গিনডু চোকি নিমাকে।
একজন কর্মকর্তা বলেছেন, তিনি এখন চীনের উত্তরাঞ্চলের গ্যানসুতে বসবাস করেন। আরেকটি ধারণা হলো যে, তাকে বেইজিংয়ের আশপাশে কোথাও আটকে রাখা হয়েছে।
২০০০ সালের অক্টোবরে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী রবিন কুক হাউজ অফ কমন্সের বৈদেশিক সম্পর্ক নির্ধারণ কমিটিকে বলেছেন, ‘যতবার আমরা গিনডু চোকি নিমার সম্পর্কে প্রশ্ন তুলেছি, চীনের সরকার আমাদের নিশ্চয়তা দিয়েছে যে, তিনি সুস্থ শরীরে রয়েছেন এবং তার যত্ন নেওয়া হচ্ছে। বাইরের কারো দ্বারা তিনি বিরক্ত হতে চান না।’
