দিনাজপুরে সহপাঠীকে বাল্যবিয়ের হাত থেকে মুক্ত করেছে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। দিনাজপুর সদর উপজেলার শশরা ইউনিয়নের একটি বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রীর বিয়ের খবর পেয়ে ঐ স্কুলের শিক্ষার্থীরা দফায় দফায় দল বেঁধে সহপাঠীর বাড়িতে যায়। বাড়িতে সহপাঠীকে না পেয়ে চার সন্তানের জনক মো. আতাউর রহমান যে তাদের সহপাঠীকে বিয়ে করতে চেয়েছে তাকে ধরে নিয়ে আসে স্কুলের প্রধান শিক্ষকের কাছে।
শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘ওই ছাত্রী দত্তক হিসেবে একজনের কাছে বড় হয়েছে। বর্তমানে নবম শ্রেণিতে পড়ছে। আমরা যখন শুনেছি তার বিয়ে হচ্ছে তখনই আমরা সবাই মিলে তার বিয়ে বন্ধ করার জন্য ছুটে যাই।’
পাঁচবাড়ী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শাহেরুল ইসলাম বলেন,‘ আমাদের সকল শিক্ষার্থীকে আমরা বলেছি যাতে বাল্যবিয়ে কেউ না করে। আবার কেউ করলেও যেন সেটার প্রতিবাদ করে।’
নবম শ্রেণির ওই ছাত্রীর নানির বাড়িতে গেলে তার দত্তক মা লাভলী বেগম বলেন, আমি বিয়ে দিতে চাইনি। যার সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার কথা চলছিল সে চাচাত ভাই। আতাউরের চারটি সন্তান আছে। এদিকে ঘণ্টাখানেক স্কুলে আটক থাকার পর আতাউর রহমানকে ছাড়িয়ে নিয়ে যান স্থানীয় শশরা ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ সভাপতি আজাহার উদ্দিন।
এত ছোট মেয়েকে বিয়ে করার বিষয়ে আতাউর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি বিয়ে করিনি। আমাদের বিয়ের আলাপ চলছিল। আমি আর ওই মেয়েকে বিয়ে করবও না।’
সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফিরুজুল ইসলাম বলেন, ‘আমি ঘটনাটি শুনেছি। যাতে কোনোভাবেই বিয়েটা না হয় সে ব্যবস্থা নিতে বলেছি।’
