মুম্বাইয়ে কংগ্রেসের পেছনে মুকেশ বিজেপির সঙ্গে অনন্ত আম্বানি

আপডেট : ৩০ এপ্রিল ২০১৯, ০২:২৯ এএম

ভারতে লোকসভা নির্বাচনের চতুর্থ ধাপের ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে গতকাল সোমবার। সাত ধাপের নির্বাচনের এই ধাপে দেশটির ৭২টি আসনে একযোগে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এদের মধ্যে আলোচনা ও রাজনৈতিক মেরুকরণের জায়গা থেকে গুরুত্বপূর্ণ বলিউডপাড়া নামে খ্যাত মুম্বাই।

মুম্বাইয়ে ভোটের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে দেশটির ধনকুবেররা। গত সপ্তাহেই ভারতের শীর্ষ ধনী মুকেশ আম্বানিকে মুম্বাইয়ে কংগ্রেস প্রার্থী  মিলিন্দ দেওয়াকে সমর্থন দিতে দেখা যায়। দেওয়ার নির্বাচনী প্রচারে মুকেশ আম্বানির একটি ভিডিও প্রকাশ করে। সেখানে মুকেশকে বলতে দেখা যায়, ‘মিলিন্দ দক্ষিণ মুম্বাইয়ের বাসিন্দা। তিনি দক্ষিণ থেকে কংগ্রেসের হয়ে দাঁড়িয়েছেন। গত ১০ বছর ধরে দক্ষিণের প্রতিনিধিত্ব করছেন তিনি। আমি বিশ্বাস করি মিলিন্দের রয়েছে সমাজ, অর্থনীতি ও সাংস্কৃতিক বাস্তুসংস্থান সম্পর্কে গভীর ধারণা রয়েছে।’

এদিকে মুকেশ কংগ্রেসকে সমর্থন জানালেও তার ছেলে অনন্ত আম্বানি সমর্থন দিচ্ছে ভারতীয় জনতা পার্টিকে। গত শুক্রবার মুম্বাইয়ে বিজেপির এক র‌্যালিতে কিরিট সোমাইয়ার পাশে দেখা যায়। শুধু তা-ই নয়, মোদির বক্তব্যের শেষে তাকে ‘চৌকিদার’ ‘চৌকিদার’ বলে হাত তুলে স্লোগানও দিতে দেখা যায়। নির্বাচনী পর্যবেক্ষকরা বলছেন, মুম্বাইয়ে আম্বানি পরিবার রাজনীতিতে ভারসাম্য ধরে রাখার নীতি গ্রহণ করছে।

মুম্বাইয়ের অন্য ধনকুবেররাও অনেকাংশে একই নীতি গ্রহণ করেছে। মুম্বাইয়ের শহরতলি চেম্বুরের বাসিন্দা জিগনেস শাহ বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘মুম্বাইয়ের রাজনীতি এবং ভোটের ময়দানে কর্মসংস্থান এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। আবাসনের দাম বেড়ে যাওয়ায় মধ্যবিত্তের জন্য খুব সমস্যা হয়ে যাচ্ছে। এ ছাড়া পরিবহন খাতের ভাড়া বৃদ্ধির চাপ তো আছেই।’

সোমবারের নির্বাচনের মোদির বিজেপির জন্য শক্তিশালী আসনগুলো হচ্ছে মধ্যপ্রদেশ, উত্তরপ্রদেশ ও রাজস্থান। সর্বশেষ উপনির্বাচনে এই তিনটি রাজ্যে বিজেপির পরাজয়ে আশাবাদী কংগ্রেস। ক্ষমতাসীন সরকারের সংখ্যাগরিষ্ঠতায় তারা দাগ কাটতে পারবে বলে মনে করছে কংগ্রেস।

গত ২০১৪ সালের নির্বাচনে মোদির দল ৫৪৩টি সংসদীয় আসনের মধ্যে পেয়েছিল ২৮২। কিন্তু বিশ্লেষকরা বলছেন, এবার বিজেপি মোদি-ম্যাজিকে উতরে যেতে নাও পারে। ফলে বিজেপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নাও পেতে পারে।

গত শুক্রবারের র‌্যালিতে মোদি বলেছিলেন, মুম্বাইয়ের নিরাপত্তা একমাত্র বিজেপিই নিশ্চিত করতে পারেনি। গত দশ বছরে মুম্বাইয়ে কোনো হামলা না হওয়ার বিষয়টিও তিনি তুলে ধরেন।

ভারতের ধনকুবেরদের মধ্যে এবারের লোকসভা নির্বাচনে অর্থায়ন নিয়ে জটিলতা রয়েছে। ইলেক্টোরাল বন্ড সুবিধা থাকলে আম্বানি পরিবার এক্ষেত্রে সরাসরি পার্টিকে অর্থায়ন করেছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত