সিংহাসন ছেড়ে দিলেন জাপানের সম্রাট আকিহিতো। দুইশ’ বছরের মধ্যে দেশটির এই প্রথম কোনো সম্রাট নিজে থেকে তার দায়িত্ব ছেড়ে দিলেন। বুধবার নতুন সম্রাট হিসাবে দায়িত্ব নিচ্ছেন তার পুত্র যুবরাজ নারুহিতো।
জাপানের রাজপরিবারের সম্রাটের কোনো রাজনৈতিক ক্ষমতা নেই। তবে তাকে জাতীয় প্রতীক হিসাবে দেখা হয়। সেই অনুসারে তারা সম্মান ও মর্যাদা পেয়ে থাকেন।
বিবিসি জানায়, মঙ্গলবার সম্রাট আকিহিতো জনগণের উদ্দেশে সর্বশেষ ভাষণ দেন। এতে সম্রাট ঘোষণা করেন, বয়স এবং অসুস্থতার কারণে দায়িত্ব থেকে তিনি সরে দাঁড়াচ্ছেন।
আকিহিতোর সিংহাসন ছেড়ে দেওয়ার মধ্য দিয়ে সমাপ্তি ঘটলো রাজপরিবারের ৩০ বছরের হেইসেই যুগের। আগামীকাল যুবরাজ নারুহিতোর দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে শুরু হবে রেইওয়া যুগের।
২০১৬ সালে সিংহাসন ছেড়ে দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন ৮৫ বছর বয়সী সম্রাট আকিহিতো।
পরবর্তীতে এক জনমত জরিপে দেখা যায়, স্বাস্থ্যের কারণে সিংহাসন ছাড়তে জাপান সম্রাটের ইচ্ছাকে সমর্থন করেছেন বেশির ভাগ জাপানি। পরে দেশটির সংসদ একটি আইন পাস করে, যাতে তিনি সিংহাসন ত্যাগ করতে পারেন।
স্থানীয় সময় বিকেল পাঁচটায় রাজকীয় প্যালেসের মাৎসু-নো-মা রাজ্য কক্ষে সম্রাটের শেষ ভাষণে উপস্থিত ছিলেন সম্রাজ্ঞী মিচিকো। এতে ছিলেন ৩৩০ জনেরও বেশি অতিথি।
ভাষণে সম্রাট বলেন, “আমি জনগণের কাছে গভীর কৃতজ্ঞ, যারা আমাকে প্রতীক হিসাবে গ্রহণ করেছে এবং আমাকে সমর্থন করেছে।”
তিনি বলেন, “আমি গভীরভাবে আশা করছি, রেইওয়া যুগ অধিক শান্তিপূর্ণ এবং ফলপ্রসূ হবে। একইভাবে আমি দেশের এবং বিশ্বের মানুষের জন্য কল্যাণ ও সুখের জন্য প্রার্থনা করছি।”
জাপানের ১২৬তম সম্রাট হতে যাওয়া ৫৯ বছর বয়সী যুবরাজ নারুহিতো অক্সফোর্ডে পড়াশোনা করেছেন এবং ২৮ বছর বয়সে যুবরাজ হন।
১৯৯৩ সালে যুবরাজ্ঞী মাসাকো ওয়াডাকে বিয়ে করেন নারুহিতো। ১৯৮৬ সালে একটি চায়ের আসরে তাদের পরিচয় হয়।
এই দম্পতির একমাত্র সন্তান প্রিন্সেস আইকোর জন্ম হয় ২০০১ সালে। যদিও জাপানের বর্তমান আইন অনুযায়ী কোনো নারী সিংহাসনে বসতে পারেন না। যার কারণে প্রিন্সেস আইকো দেশটির সিংহাসনের পরবর্তী উত্তরাধিকারী নন।
ফলে যুবরাজ নারুহিতোর পর সিংহাসনের উত্তরাধিকারী তালিকায় রয়েছেন তার ভাই প্রিন্স ফুমিহিতো। এরপরে রয়েছেন ফুমিহিতোর ছেলে ১২ বছরের হিসাহিতো।
