পুরুষ সেজে সেলুনে কাজ করা সেই নেহা-জ্যোতিকে নিয়ে বিজ্ঞাপন ভাইরাল

আপডেট : ০২ মে ২০১৯, ০৩:৩২ পিএম

বছর পাঁচেক আগেকার কথা। ভারতের উত্তরপ্রদেশের বানওয়ারি টোলা গ্রামের নেহা এবং জ্যোতিকে হয়তো অনেকেই ভুলে গেছেন। এই দুই তরুণীকে আবার মনে করিয়ে দিল একটি বিজ্ঞাপন চিত্র।

নেহা এবং জ্যোতি গরীব পরিবারের দুই মেয়ে। তাদের বাবার একটি সেলুন ছিল। বাবা অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি অসুস্থতায় বদলে যায় পরিবারের আর্থিক পরিস্থিতি।

কিন্তু ঢাল হয়ে দাঁড়ালেন দুই তরুণী। ছেলের বেশে তারাই চালাতে শুরু করলেন সেলুন। পরিবারের মাথায় ছাতা হয়ে দাঁড়ালেন দু’জনে। ছুঁৎমার্গকে দূরে সরিয়ে নারীদের স্রোতের বিপরীতে হাঁটার কাহিনী নিয়ে আলোচনা কম হয়নি। এই সত্য কাহিনী অবলম্বনেই তৈরি হল ‘জিলেট’-এর বিজ্ঞাপন। যা ইতোমধ্যেই নেটদুনিয়ায় সাড়া জাগিয়েছে।

নতুন এই বিজ্ঞাপনের শুরুতেই এক শিশুকে দেখা গেছে। যে ছোট থেকে একটা কথা জানে বাবা যা করেন, তা দেখেই নাকি তার সন্তানরা শেখে। সেক্ষেত্রে বাবা পুত্রসন্তানের এবং কন্যাসন্তানের পথ প্রদর্শক মা।

ছেলেরা বাবার পেশায় প্রতিষ্ঠা পেতে পারে। কিন্তু মেয়ে সামলাবে ঘর। সে রান্না করবে, পানি আনবে, সকলের সেবা যত্ন করবে। তার জীবন সব সময়েই গণ্ডিতে বাঁধা। কিন্তু আচমকাই পরিবর্তন। কারণ, সবাই যে সমাজের স্রোতে বইতে পারেন না। কেউ কেউ তো স্রোতের বিপরীতে হেঁটেও জয়ী হওয়ার স্বপ্ন দেখেন। তেমনই দুই কিশোরী একদিন হাজির হলেন সেলুনে।

পুরুষতান্ত্রিক সমাজের চিন্তাভাবনাকে পরিবর্তন করা এই বিজ্ঞাপন নেটদুনিয়ায় রীতিমতো ভাইরাল।

ইতোমধ্যেই হাজার হাজার মানুষ ইউটিউবে ওই বিজ্ঞাপন দেখেছেন। সোশাল মিডিয়ায় টাইমলাইনে অনেকেই শেয়ারও করেছেন এই বিজ্ঞাপন।

ইনস্টাগ্রামে #BarbershopGirls ঝড়ও বইছে। অভিনেতা ফারহান আখতার ইতোমধ্যেই ইনস্টাগ্রামে বিজ্ঞাপন শেয়ার করেছেন। জ্যোতি এবং নেহাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন তিনি।

স্রোতের বিপরীতে হাঁটার জন্য অভিনেত্রী স্বরা ভাস্করেরও জুড়ি মেলা ভার। তিনিও ওই দুই কিশোরীকে নিয়ে তৈরি বিজ্ঞাপন সোশাল মিডিয়ায় শেয়ার করে বানওয়ারি টোলা গ্রামের বাসিন্দাদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন। সমাজের উল্টো পথে হাঁটার জন্য বাঁকা কথা কম শুনতে হয়নি নেহা-জ্যোতিকে।

তবে বিজ্ঞাপনের সাফল্য যেন প্রমাণ করে দিয়েছে হারতে হারতেও শেষ পর্যন্ত জয়ী অর্ধেক আকাশ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত