গাজার এই দুর্বল রকেট নিয়েও কেন দুশ্চিন্তায় ইসরায়েল

আপডেট : ০৭ মে ২০১৯, ০৩:৫২ পিএম

দারিদ্র্যের কশাঘাতে জর্জরিত ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা। সামরিক এবং বেসামরিক- দুই কাজেই ব্যবহার করা যায় এমন সামগ্রী গাজায় প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে ইসরায়েল। এরপরও মাত্র কয়েক ডলার খরচে গাজার প্রতিরোধ যোদ্ধারা নিজেই তৈরি করছে রকেট।

এসব রকেটের মারণ ও ধ্বংস ক্ষমতা তেমন নেই। নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার সক্ষমতাও নেই রকেটগুলোর। প্রযুক্তিগত দিক থেকে একেবারে নবিশ বলা চলে।

এনডিটিভি জানায়, ফিলিস্তিনিদের এসব দুর্বল রকেটেই কপালে ভাঁজ পড়েছে ইসরায়েলের সামরিক কর্মকর্তাদের। লক্ষ্যবস্তুহীন এসব রকেট পরীক্ষায় ফেলেছে ইহুদিবাদী দেশটির সর্বাধুনিক আয়রন ডোম ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থাকে।

বিশেষজ্ঞরা জানান, গাজার প্রতিরোধ সংগঠন হামাস এবং ইসলামিক জিহাদের মজুদে ৫০০০ থেকে ২০,০০০ রকেট আছে। গত সপ্তাহান্তে ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতে প্রায় ৭০০ রকেট ও মর্টার নিক্ষেপ করে সংগঠন দুটি।

প্রায় একই সময়ে এত বেশি সংখ্যক রকেট ব্যারেজ নিক্ষেপের ঘটনা দৃশ্যত বিস্মিত করেছে ইসরায়েলি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে।

ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর কাউন্টার-টেররিজম-এর পরিচালক বোয়াজ গানোর বলেন, “এটা অনেকটা কেবল সংখ্যায় বলার মতো অস্ত্র, যেটা সংখ্যা বোঝায়, গুণ নয়।”

তিনি বলেন, “এটা সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম এমন কোনো ক্ষেপণাস্ত্র নয়। যখন কোথায় গিয়ে পড়বে সেটা নিয়ে মাথাব্যথা নেই, তখন এ ধরনের রকেট বানানো খুবই সহজ।”

দ্বিতীয় ইন্তিফাদার সময় ২০০১ সালে সর্বপ্রথম ‘কাসাম’ রকেট বানানো শুরু করে হামাস। তখন এসব রকেটের পাল্লা ছিল মাত্র দুই থেকে তিন মাইল। পরে ২০০৭ সালে এর পাল্লা বাড়িয়ে সাত মাইল করা হয়। ‘কাসাম-৩’ রকেটের পাল্লা ১০ মাইল।

অবশ্য কিছু রকেটের পাল্লা এর চেয়েও বেশি। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানায়, গত মার্চে ফিলিস্তিনিদের একটি রকেট তেলআবিবের কাছে একটি বাড়িতে আঘাত হানে। এতে একই পরিবারের সাতজন আহত হন। এই রকেটের পাল্লা ছিল ৭৫ মাইল। এটা স্থানীয়ভাবে তৈরি।

ইসরায়েলের সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল ইয়াকুব আমিদরোর বলেন, “এসব রকেট তৈরিতে যা প্রয়োজন সেটা একেবারেই নগণ্য। এটা তৈরিতে ভেতরেই তাদের সব ধরনের সামর্থ্য আছে।”

তিনি বলেন, আগে মিশর থেকে এসব রকেট তৈরির সরঞ্জাম আনা হতো। আর কারিগরি দিকটার সহায়তা দিত ইরান এবং লেবাননের হিজবুল্লাহর বিশেষজ্ঞরা।

image

ছবি: এএফপি

গানোর বলেন, কাসাম রকেট বানাতে যেসব উপাদান লাগে, তার দাম মাত্র কয়েক ডলার। আর এসব রকেট মাঝ আকাশে ধ্বংস করতে ইসরায়েল যে সর্বাধুনিক আয়রন ডোম ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে তার প্রত্যেকটির দাম পড়ে লাখ লাখ ডলার।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানায়, সর্বশেষ সংঘাতে ৬৯০টি রকেট এবং মর্টার নিক্ষেপ করে ফিলিস্তিনি যোদ্ধারা। এর মধ্যে সীমান্ত পার হয়ে ইসরায়েলে আঘাত হানতে ব্যর্থ হয় ৯০টি রকেট। বাকিগুলোর মধ্যে ২৪০টি মাঝ আকাশেই ধ্বংস করে দেয় আয়রন ডোম। এই ব্যবস্থার সফলতার হার ৮৭ শতাংশ। মাত্র ৩৫টি রকেট শহর এলাকায় আঘাত হানে।

ওয়াশিংটন ইনস্টিটিউটের ফেলো অবসরপ্রাপ্ত ইসরায়েলি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাইকেল হারজগ বলেন, ভবিষ্যতে স্বল্পপাল্লার রকেট ইসরায়েলের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দেবে। কারণ আড়াই মাইলের কম পাল্লার রকেট বা ক্ষেপণাস্ত্র আটকাতে পারে না আয়রন ডোম।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত