ঘুষেও মেলেনি বিদ্যুৎ সংযোগ ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ঝাড়ু মিছিল

আপডেট : ০৮ মে ২০১৯, ০১:০২ এএম

দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার নান্দেড়াই গ্রামে ঠিকাদারকে ঘুষ দেওয়ার পরেও গত তিন বছরে বিদ্যুৎ সংযোগ না পেয়ে ঝাড়ু মিছিল করেছে ভুক্তভোগীরা। বিদ্যুৎ সংযোগ প্রত্যাশী ওই গ্রামের ১৭৫টি পরিবারের নারী-পুরুষ গতকাল মঙ্গলবার দুপুরের দিকে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ঝাড়ু মিছিল বের করেন। এসব পরিবারের অভিযোগ, গত তিন বছর ধরে প্রতিটি পরিবার মোট ১ হাজার ৫০০ টাকা করে ঠিকাদারকে দিয়েও বিদ্যুতের মিটার আসেনি। প্রচন্ড তাপদাহে দুর্ভোগে পড়েছেন নান্দেড়াই গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ। পড়ালেখায় বিঘ্ন ঘটছে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের।

উপজেলার আব্দুলপুর ইউনিয়নের নান্দেড়াই গ্রামের মোহাম্মদ আলী (৬০) বিদ্যুৎ সংযোগ নেওয়ার জন্য ঠিকাদারকে ১ হাজার ৫০০ টাকা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘২০১৬ সাল থেকে আমরা বিদ্যুৎ সংযোগ নেওয়ার জন্য গ্রামের ১৫৬ জন আবেদন করি। কিন্তু গত তিন বছর ধরে বিদ্যুৎ আসবে আসবে করে এখনো বিদ্যুতের খুঁটিও আসেনি। অথচ ঠিকাদার বিদ্যুৎ দেওয়ার নাম করে অনেক টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।’ নান্দেড়াই গ্রামের আজিনা বেগম বলেন, ‘ঠিকাদারের লোকজন খুঁটি নিয়ে এলে দেশি মুরগি, দেশি মুরগির ডিম ও রুই মাছ দিয়ে ভাত খায়। আমরা তাদের জামাই আদর করে খাওয়াই। তারা যা খেতে চায় তাই খাওয়াতে বাধ্য থাকি।’

এ বিষয়ে ঠিকাদার আজিজ ও তার ম্যানেজার মামুনের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগযোগ করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

দিনাজপুর পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি-১ এর মহাব্যবস্থাপক (জিএম) হরেন্দ্রনাথ বর্মণ জানান, যতদ্রুত সম্ভব বিদ্যুৎপ্রত্যাশীদের ঘরে ঘরে বিদ্যুৎসেবা পৌঁছে দেওয়া হবে। ঠিকাদারের ঘুষ বাণিজ্যের বিষয়ে তিনি জানান, ঠিকাদাররা বিদ্যুৎ সংযোগ বাবদ কোনো টাকা দাবি করতে পারবে না। কেউ টাকা চাইলে তাকে আটক করে পুলিশে  সোপর্দ করতে বলেন পল্লীবিদ্যুতের ওই কর্মকর্তা।

চিরিরবন্দর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গোলাম রব্বানী বলেন, ‘টাকা নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘শুনেছি যারা টাকা দেয় ঠিকাদার তাদের কাজ আগে করে। এই অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’  

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত