দরিদ্র দেশগুলোতে পুনর্ব্যবহারের প্রায় অযোগ্য প্লাস্টিক বর্জ্য রপ্তানি বন্ধের লক্ষ্যে একটি চুক্তিতে আসতে সম্মত হয়েছে প্রায় সব ধনী দেশ। শুক্রবার এক ঘোষণায় এ খবর জানায় জাতিসংঘ।
এখন থেকে দূষিত, মিশ্র বা পুনর্ব্যবহার যোগ্য বর্জ্য পাঠানোর ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রসহ সব দেশকে সংশ্লিষ্ট দেশের সম্মতি নিতে হবে।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও অন্য দেশগুলো উন্নয়নশীলের দেশের ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানে নিম্নমানের প্লাস্টিক বর্জ্য পাঠিয়ে থাকে। কিন্তু এর জন্য সংশ্লিষ্ট দেশের সরকার থেকে কোনো ধরনের অনুমোদন নেওয়া হয় না।
এদিকে অ্যাকটিভিস্টরা বলছেন, চীন পুনর্ব্যবহারযোগ্য বর্জ্য গ্রহণ বন্ধ করার পর থেকে উন্নয়নশীল দেশে পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। বর্জ্য বিরোধী সংস্থাগুলোর জোট গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ইনসিনেরেটর অলটারনেটিভস (গাইয়া) জানায়, এই সব বর্জ্য এখন পাওয়া যাচ্ছে ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ার কৃষিকেন্দ্রিক গ্রামে।
পৃথিবীর সমুদ্র ও প্রাণীদের জন্য ক্ষতিকর প্লাস্টিক বর্জ্য ও বিপজ্জনক রাসায়নিক পদার্থ নিয়ে আইনি সমাধানে আসতে জাতিসংঘ সমর্থিত দুই সপ্তাহব্যাপী বৈঠক শেষে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় বাধ্যতামূলক চুক্তিটির অনুমোদন হয়।
গত অক্টোবরে বাসেল কনভেনশনে চুক্তির বিষয়গুলো প্রথম উপস্থাপন করা হয়। এরপর কিছু সংশোধন আসে।
জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচির কর্মকর্তা রলফ পায়েট বলেন, “জাতিসংঘ সমর্থিত বাসেল কনভেনশনের ‘ঐতিহাসিক’ চুক্তির সঙ্গে বিশ্বের ১৮৭টি দেশ সম্পর্কযুক্ত। দেশগুলোকে প্লাস্টিক বর্জ্যের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ ও চিহ্নিত করতে হবে।”
জাতিসংঘের ওই কর্মকর্তার মতে, ‘কাঠামোটি ঐতিহাসিক’। কারণ এটি আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এ ছাড়া চুক্তিটি স্বাস্থ্যসেবা, প্রযুক্তি, মহাকাশ, ফ্যাশন এবং খাদ্য ও পানীয়র মতো বিস্তৃত শিল্পে ব্যবহৃত পণ্যসমূহকে প্রভাবিত করবে।
এদিকে ব্রেক ফ্রি ফ্রম প্লাস্টিকের গ্লোবাল কোর্ডিনেটর ভন হার্নান্দেজ বলেন, উন্নয়নশীল দেশগুলোকে ধনী দেশের প্লাস্টিক বর্জ্যের ভাগাড় হিসেবে ব্যবহার বন্ধে প্রথম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপটি নেওয়া হলো।
