মোদিকে সম্মানিত লিখে মুখ দেখাতে পারছেন না বিজেপি নেতা

আপডেট : ১২ মে ২০১৯, ১০:০৫ এএম

শিরোনাম পড়ে ভ্রু কুঁচকাতে পারেন- এটা কীভাবে সম্ভব! যেখানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে পুঁজি করে দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার দোরগোড়ায় বিজেপি, সেখানে তার দলের নেতার অবস্থা এমন হবে কেন।

ঝাড়খণ্ডে বিজেপির যুব মোর্চার নেতা উমেশরঞ্জন সাহু কিন্তু সত্যিই এমন বিপদে পড়েছেন বলে আনন্দবাজার পত্রিকার কাছে স্বীকার করেছেন।

“আমেরিকা বিশ্বখ্যাত ম্যাগাজিন ‘টাইম’ মোদিকে ‘ডিভাইডার ইন চিফ’ উপাধিতে সম্মানিত করেছে। এই সম্মানের জন্য সমস্ত দেশবাসীর তরফে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদিজীকে অনেক শুভেচ্ছা।”

ঝাড়খণ্ডে বিজেপির যুব মোর্চার নেতা উমেশরঞ্জন সাহু সামাজিক মাধ্যমে একথা লিখে বিপাকে পড়েন।

‘টাইম’ মোদিকে ‘বিভেদের গুরু’ বলায় মোদি-ভক্তরা যখন ফুঁসছেন, তখন সামাজিক মাধ্যমে একথা লিখেন তার দলেরই এই নেতা। অন্যদিকে বিরোধীরা পেয়ে যায় ট্রল করার সুযোগও।

অবশ্য কিছুক্ষণ পরেই ভুল ভাঙে সাহুর। ওই পোস্ট মুছে দেন তিনি। ততক্ষণে অবশ্য যা হওয়ার হয়ে গেছে। সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল তার ভ্রান্তিবিলাস।

সাহুর এই ‘শুভেচ্ছাবার্তা’র স্ক্রিনশট ছড়িয়ে পড়ে দিকে দিকে। এনিয়ে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ মজেছে বিরোধীরা। আর তাতে বেজায় লজ্জিত উমেশ।

শনিবার আনন্দবাজার ফোনে এবিষয়ে জানতে চাইলে সাহু বলেন, “কী বলব বলুন, আমার নিজেরই খুব লজ্জা হচ্ছে। মুখ দেখানোর জো নেই!”

তবে এ ‘বিপত্তি’র দায় নিজে নিতে চাননি সাহু। তিনি বলেন, “আমি এমন ভুল করতেই পারি না। আমার সামাজিক মাধ্যম যারা দেখভাল করে, তারাই না বুঝে এটা করেছে। শাস্তিস্বরূপ আমি তাদের সরিয়েও দিয়েছি।”

ঝাড়খণ্ড বিজেপির দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ভোটের মুখে এমন ঘটনায় খুশি নন দলের অনেক নেতা। এমন ভাবে দলের ‘মুখ পোড়ানোয়’ সাহুকে তারা সতর্কও করেছেন।

এদিকে রাঁচির এক কংগ্রেস নেতা টিপ্পনী কেটে বলেন, “মোদি ভক্তরা আসলে এমনই অন্ধ- কোনটা সমালোচনা আর কোনটা প্রশংসা সেটুকুও বুঝতে পারেন না তারা।”

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত