চার বছরেও চালু হয়নি চবি বঙ্গবন্ধু হল, ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা

আপডেট : ১২ মে ২০১৯, ০৪:২৪ পিএম

উদ্বোধনের প্রায় চার বছরেরও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) চালু হয়নি ছাত্রদের জন্য নির্মিত বঙ্গবন্ধু মুজিবুর রহমান হলটি। চরম আবাসিক সংকটের মধ্যেও প্রশাসনের অবহেলায় হলটিতে শিক্ষার্থীদের অ্যাটাচমেন্ট দেওয়া হলেও, আসন দেওয়া হয়নি বরাদ্দ। অথচ ২০১৫ সালের ৮ অক্টোবর বঙ্গবন্ধু ও শেখ হানিসার নামে দুটি হল বেশ ঘটা করে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে একযোগে উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সম্প্রতি ছাত্রীদের আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা হলটি খুলে দেওয়া হলেও বঙ্গবন্ধু হলটির চালু করেনি চবি প্রশাসন।

অন্যদিকে বর্তমান হলগুলোতে আধুনিক সুযোগ-সুবিধার অভাব, নিম্নমানের খাবার পরিবেশন ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ রয়েছে বলে অভিযোগ করেন শিক্ষার্থীরা। এছাড়া পর্যাপ্ত হল না থাকায় অধিকাংশ শিক্ষার্থীদের চড়া মূল্যে থাকতে হচ্ছে ক্যাম্পাসের আশপাশের কটেজগুলোতে। পানি, বিদ্যুতের সমস্যাসহ অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশের এসব কটেজে মানবেতর জীবন যাপন করতে হচ্ছে তাদের। তবে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় ভুগছেন আর্থিকভাবে অসচ্ছল শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি দ্রুত চালু করা হোক বঙ্গবন্ধু মুজিবুর রহমান হলটি। এতে কিছুটা হলেও ভোগান্তি লাগব হবে মনে করেন শিক্ষার্থীরা।

তথ্য মতে, গত ২০১৫ সালের ৮ অক্টোবর ছাত্রদের জন্য ১৮৬ আসন বিশিষ্ট প্রায় ৪৫ হাজার বর্গফুটের দোতলা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের উদ্বোধন করা হয়। হলটিতে দুটি লিফট, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত পাঠাগার, ৫০ কেভি পাওয়ারের জেনারেটর, ক্যানটিন, প্রার্থনা কক্ষ, ইনডোর গেম, কমন রুম, ইউনিয়ন রুম, টিভি রুম, ওয়েটিং রুম, প্রভোস্ট রুম, আবাসিক শিক্ষকদের রুম,লন্ড্রি, দোকানসহ রয়েছে সব আধুনিক সুযোগ-সুবিধা। ৯ কোটি ৭৫ লাখ ৮৫ হাজার টাকা ব্যয়ে এ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলটি নির্মাণ করা হয়। পরবর্তীতে শিক্ষার্থীদের সিট বরাদ্দ না দিয়ে দেড় বছর পর ২০১৭ সালের মে থেকে হলটির  ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণের কাজ শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এর মধ্যে ১৮৬ আসন বিশিষ্ট দোতলা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলকে ৭৩৮ আসন বিশিষ্ট ছয় তালা ভবন করা হয়। ফলে এর মোট আয়তন দাঁড়ায় প্রায় ১৩ হাজার ৮৪৮ বর্গ মিটার। যার নির্মাণ ব্যয় ৩৩ কোটি ১৪ লক্ষ ৪৭ হাজার টাকা।

এদিকে ছাত্রীদের আন্দোলনের মুখে বঙ্গবন্ধু হলটির সমসাময়িক সময়ে নির্মিত শেখ হাসিনা হলটি খুলে দিলেও বঙ্গবন্ধু হল চালু না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করে ইতিহাস বিভাগের কাউসার আহমেদ ও বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, বর্তমানে আমরা হলে থেকেও মানবেতর জীবন-যাপন করছি। বর্তমান হলগুলো অনেক পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ার কারণে আতঙ্কের সাথে বসবাস করতে হচ্ছে। হলে আলাদা রিডিং রুম থাকলেও সেখানে পড়াশোনা করার মতো উপযুক্ত পরিবেশ নেই। এছাড়াও আবাসিক হলগুলোতে আধুনিক সুযোগ-সুবিধার অভাব, নিম্নমানের খাবার পরিবেশন ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশসহ নানা ধরনের সমস্যা রয়েছে। তাই আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সমৃদ্ধ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান  হলটি চালু করার জন্য জোর দাবি জানাচ্ছি।

দ্বিতীয় দফার কাজ কবে নাগাদ শেষ হবে এই বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী মো. আবু সাইদ হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, বঙ্গবন্ধু হলটির কাজ এ বছরের জুনে মাসে শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আরও কিছু কাজ বাকি আছে। এ বছরের শেষের দিকে সম্পূর্ণ কাজ শেষ হবে।

শিক্ষার্থীদের আসন বরাদ্দের বিষয়ে জানতে চাইলে চবি উপাচার্য প্রফেসর ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমরা ইতিমধ্যেই শেখ হাসিনা হলটি খুলে দিয়েছি। এখনো বঙ্গবন্ধু হলের কিছু কাজ বাকি রয়েছে। আশা করছি বন্ধের পরে (ঈদেও ছুটির পর) হলটি ছাত্রদের জন্য খুলে দেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট প্রায় ২৮ হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্র-ছাত্রী মিলে ১৩টি হলে মাত্র ৫ হাজার ৭শত ৮৫টি আসনসংখ্যা রয়েছে। যা একান্তই অপ্রতুল।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত