জুন মাসে ব্রেক্সিট ভোটে হারলে দায়িত্ব ছেড়ে দেবেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে। পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের জন্য সময়সীমা ঠিক করতেও সম্মত হয়েছেন তিনি।
বিবিসি জানায়, ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টির শীর্ষ এমপিদের সঙ্গে এক বৈঠকে এ ব্যাপারে প্রতিশ্রুতি দেন থেরেসা।
বৈঠকের একটি সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে তিন তিনবার প্রত্যাখ্যাত হয়েছেন। এবার হারলে তাকে পদত্যাগ করতে হবে।
এদিকে প্রভাবশালী এমপি বরিস জনসন জানান, থেরেসা বিদায় নিলে তিনিই কনজারভেটিভ দলের নেতৃত্বে আসতে চান।
ব্রেক্সিট কার্যকর করার কথা ছিল ২৯ মার্চ। সেটি কার্যকর করতে না পারায় ১২ এপ্রিল পর্যন্ত সময় নির্ধারণ করা হয়। ব্রেক্সিট নিয়ে প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে’র একের পর এক প্রস্তাব বাতিল হয়েছে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে।
ফলে যুক্তরাজ্য কোন পথে ইইউ থেকে বেরিয়ে আসবে সেটি চূড়ান্ত করতে পারেনি দেশটির পার্লামেন্ট।
পরবর্তীতে থেরেসার অনুরোধে ব্রেক্সিটের জন্য দেশটির বেরিয়ে যাওয়া কার্যকর করতে ছয় মাস সময় দেয় ইউরোপীয় ইউনিয়ন।
গত বছরের শেষে নিজ দলের এমপিদের আস্থা ভোটে কোনোভাবে টিকে যান থেরেসা। এ বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত ক্ষমতা হারানোর শঙ্কামুক্ত হন তিনি।
কিন্তু এই গ্রীষ্ম থেকেই ডাউন স্ট্রিট ছেড়ে দিতে চাপে আছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী। স্থানীয় নির্বাচনে ব্রেক্সিট নিয়ে নেতিবাচক প্রভাব এবং খারাপ ফলের কারণে দলের শীর্ষপ্রধানের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর দাবি আরও প্রকট হয়।
‘ব্রিটেন এক্সিট’কে সংক্ষেপে বলা হয় ব্রেক্সিট। ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে ব্রিটেনের বেরিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া এটি। ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত ২৮টি দেশ একে অন্যের সঙ্গে ব্যবসা করতে পারে, নাগরিকরা এক দেশ থেকে অন্য দেশে যেতে পারে এবং সেখানে বসবাস করতে পারে।
প্রায় ৪০ বছর ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে থাকার পর ২০১৬ সালের জুনে একটি গণভোট আয়োজন করে যুক্তরাজ্য। অধিকাংশ ভোটার ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছাড়ার পক্ষে ভোট দেন।
