‘ইংকে করি বিএনপি চলবি নে’

আপডেট : ২৪ মে ২০১৯, ০৪:৪০ পিএম

বগুড়া-৬ (সদর) আসনে নির্বাচনে অংশ নিতে বিএনপি সিদ্ধান্ত নিলেও জেলায় দলীয় বিরোধ মিটছে না। বরং পরিস্থিতি সামলাতে একের পর এক দলীয় নেতাদের বহিষ্কার ও বিভিন্ন কমিটি বাতিল করা হচ্ছে। এতে অচল হয়ে পড়েছে দলীয় কার্যালয়। সেখানে শেকলে বাঁধা ১৬টি তালা ঝুলিয়েছে দুই পক্ষ। বিরোধ ক্রমান্বয়ে সহিংসতায় রূপ নেওয়ায় পুলিশও কঠোর অবস্থান নিয়েছে। দলীয় বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কোন পক্ষ যেন দলীয় কার্যালয়ে না যায় সে বিষয়ে উভয় পক্ষকে জানিয়ে দিয়েছে তারা।

সর্বশেষ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বগুড়া জেলা যুবদলের কমিটি বাতিল করে দিয়েছে কেন্দ্রীয় কমিটি। এই অবস্থায় আসন্ন উপনির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কারা মাঠে থাকবে তা নিয়ে মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীরা সংশয়ে পড়েছেন।

সম্প্রতি বগুড়া জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে দলের নেতাকর্মীরা বিভক্ত হয়ে পড়েন। আহ্বায়ক কমিটিতে স্থান না পাওয়া নেতাকর্মীরা ঘোষিত কমিটি বাতিলের দাবিতে দলীয় কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দিলে ক্রমান্বয়ে বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও জিসাসের ১৬ জন নেতাকে বহিষ্কার করা হয়। এছাড়া জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটিও বিলুপ্ত ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় কমিটি। এই পরিস্থিতিতে বহিষ্কৃত ও আহ্বায়ক কমিটির বিরোধীরা জোটবদ্ধ হয়ে দলীয় কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু করে।

গত বুধবার তারা দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন আহ্বান করলে আহ্বায়ক কমিটির নেতাকর্মীরাও সেখানে উপস্থিত হন। সেখানে একপর্যায়ে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয় এবং উভয় পক্ষ রাতে বৈঠক করে সমস্যা নিরসনে সম্মত হয়।

বুধবার রাতে বৈঠকের সিদ্ধান্ত হলেও সন্ধ্যার পরপরই বহিষ্কৃত গ্রুপের নেতাকর্মীরা বগুড়া শহর ছাত্রদলের সভাপতি সৌরভ হাসান শিবলুর ওপরে হামলা চালায় এবং তাকে ছুরিকাঘাত করে। ওই ঘটনার জেরে ওই রাতেই আহ্বায়ক কমিটির সমর্থকরা শহরের সূত্রাপুর রিয়াজ কাজী লেনে বগুড়া জেলা বিএনপির সদ্য বিলুপ্ত ঘোষিত কমিটির সভাপতি সাইফুল ইসলামের বাসভবনে হামলা চালায়। এরপরই বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জেলা যুবদলের কমিটি বাতিলের ঘোষণা দেয় কেন্দ্রীয় কমিটি।

উপনির্বাচনের আগমুহূর্তে দলের এমন পরিস্থিতিতে মাঠ পর্যায়ের নেতারা হতাশ হয়ে পড়েছে। দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ কারা করবে এমন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে তাদের মধ্যে। সদর উপজেলার নিশিন্দারা ইউনিয়ন বিএনপির কর্মী নূর আলম, শাখারিয়া ইউনিয়নের কর্মী রাজ্জাকুল ইসলাম রাজু, সাবগ্রাম ইউনিয়নের কর্মী আবু নাসেরসহ অনেকেই দলের এমন দ্বিধা-বিভক্তিতে হতাশা ব্যক্ত করেন। নূর আলম বলেন, ‘এ্যাকন সগলি এক না থাকলে ভোট করবি কে? যকন দলের সব নেতার এক থাকার কতা, তকনই দ্যেকা যাচ্ছে ভাগাভাগি। ইংকে করি দল চলবি নে।’    

বহিষ্কৃত অংশের নেতা জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক পরিমল চন্দ্র দাস বলেন, আহ্বায়ক কমিটির নেতৃবৃন্দ বুধবার রাতে আলোচনায় বসেনি। এ কারণে আমাদের প্রতিবাদ কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছি। সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত আহ্বায়ক কমিটির নেতৃবৃন্দকে দলীয় কার্যালয়ে প্রবেশ করতে দেয়া হবে না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

জেলা বিএনপি যুগ্ম-আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম বলেন, সমঝোতা বৈঠকের আগেই ছাত্রদল নেতা সৌরভকে মারধর ও ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। এ কারণে সমঝোতা বৈঠক ভেস্তে গেছে। নির্বাচনকে ঘিরে মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ আছে বলেও দাবি করেন তিনি।

দলীয় কার্যালয়ে শেকলে বাঁধা ১৬টি তালা ঝোলার বিষয়ে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন দল করেও অনেকে আহ্বায়ক কমিটিতে স্থান পাননি, আবার বেশ কয়েকজন নেতাকে কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে বহিষ্কার এবং অব্যাহতি দেওয়ায় তাদের মধ্যে কিছুটা ক্ষোভ আছে। তারা তালা ঝুলালেও দলের স্বার্থে আবারও নিজেরাই সেব খুলবেন। আমরা সেই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

বগুড়া সদর পুলিশ ফাঁড়ির পুলিশ পরিদর্শক আবুল কালাম আজাদ বলেন, বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরোধ ক্রমান্বয়ে সহিংসতায় রূপ নিচ্ছে। দলীয় কার্যালয়কে ঘিরে যেন কোন সংঘাত-সহিংসতা না হয় এ কারণে মৌখিকভাবে উভয় পক্ষকে সতর্ক করা হয়েছে। তারা দ্রুত সমস্যার সমাধান করবেন বলে পুলিশকে জানিয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত