ভারতে লোকসভা নির্বাচনে জিতে বিজেপি ফের ক্ষমতায় আসার পেছনে কাছ করেছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং দলটির সভাপতি অমিত শাহ জুটি। মোদি তো দ্বিতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেনই। এবার অমিত শাহকেও চাচ্ছেন উত্তরসূরি হিসাবে।
ভারতীয় একাধিক সংবাদমাধ্যম জানায়, মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ সদস্য করার মধ্য দিয়ে অমিত শাহকে নিজের উত্তরসূরি হিসাবে গড়তে চাইছেন মোদি। ফলে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসাবে দেখা যেতে পারে বিজেপি সভাপতিকে, এমনটাই ধারণা করছেন অনেকে।
আনন্দবাজার পত্রিকা জানায়, নতুন মন্ত্রিসভায় কে কে ঠাঁই পাচ্ছেন, তা নিয়ে বিজেপির ভেতরেও কৌতূহল বাড়ছে। দলটির এক নেতা বলেন, ‘‘মন্ত্রী কারা হবেন, তা কেবল নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহ জানেন। কিন্তু মোদি তার নতুন সরকারে অমিতকে উত্তরসূরি হিসাবে প্রতিষ্ঠা করে দেবেন। এখনই হোক বা অদূর ভবিষ্যতে। অনেকে বলছেন, মন্ত্রী হলে অমিতকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেওয়া হতে পারে। তবে তাকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও দিতে পারেন মোদি।’’
এখন অমিত শাহ মন্ত্রিসভায় গেলে দল কে সামলাবেন? দলটি মূল সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘের-আরএসএসের একাংশ অবশ্য চাইছে, অমিতের হাতেই সংগঠনের দায়িত্বে থাকুক। তিনি নিজে যেমন পরিশ্রম করতে পারেন, তেমনই অন্যদেরও চাঙা করতে পারেন। তাকে মন্ত্রিসভায় নিয়ে গেলে এই কাজটি অন্য কারও পক্ষে করা সম্ভব নয়। ফলে এই বিষয়টি নিয়ে বিজেপি ও আরএসএসের মধ্যে এখনও দ্বিধা কাটেনি।
দলের এক সূত্রের মতে, রাজনাথ সিংহের পরে যখন নতুন সভাপতি নির্বাচন করার সময় অমিতের পাশাপাশি সংঘের তালিকায় জগৎপ্রকাশ নড্ডার নামও ছিল। মোদি যদি অমিতকে মন্ত্রিসভায় নিয়ে নেন, সে ক্ষেত্রে নড্ডাকেও দলের সভাপতি করা হতে পারে। তিনি উত্তরপ্রদেশের ভোট পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেন এবার। অনেকটাই প্রচারবিমুখ বলা চলে নড্ডাকে।
তবে সভাপতি হওয়ার দৌড়ে নিতিন গডকড়িকেও রাখতে পারে আরএসএস। কিন্তু অতিমাত্রায় সংঘ ঘেঁষার কারণে মোদি-অমিত তাকে মেনে নেবেন কি না, সে বিষয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
