বহিষ্কার হচ্ছে ছাত্রলীগের বিতর্কিত কমিটির ১৯ জন

আপডেট : ২৮ মে ২০১৯, ০৯:৫৯ পিএম

জাতীয় সম্মেলনের প্রায় এক বছর পর পূর্ণাঙ্গ হওয়া ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির ১৯জনকে বহিষ্কার করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বহিষ্কৃতদের পদগুলোকে শূন্য ঘোষণা করে পদ বঞ্চিতদের মধ্যে যারা সক্রিয় তাদের পদে আনা হবে।

মঙ্গলবার সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

এদিকে, পূর্ণাঙ্গ কমিটিকে বিতর্কিত ঘোষণা করে পুনরায় কমিটি করার দাবি জানিয়ে অবস্থান কর্মসূচী অব্যাহত রেখেছে ছাত্রলীগের পদ বঞ্চিতরা। অন্যদিকে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ও উত্তর শাখার পূর্ণাঙ্গ কমিটি দ্রুতই ঘোষণা হবে বলেও জানিয়েছেন গোলাম রাব্বনী।

গত ১৩মে ৩০১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। ওই দিন সন্ধ্যায় ঢাবির মধুর ক্যান্টিনে পদ বঞ্চিত ও পদপ্রাপ্তদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে নারী নেত্রীসহ ১০ থেকে ১২ জন আহত হন। এ ঘটনা নিয়ে আন্দোলনে নামেন পদ বঞ্চিতরা। পরে আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতাদের আশ্বাসে তারা আন্দোলন থেকে সরে দাঁড়ান। তারা বিতর্কিতদের নিয়ে সরব হলে ১৫ মে মধ্যরাতে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে বিতর্কিতদের চিহ্নিত করে তাদের মধ্যে ১৬ জনের নামও প্রকাশ করেন তারা।

এ বিষয়ে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী বলেন, বিতর্কিত ১৬জনের না প্রকাশ পাওয়ার পর তাদের নির্দোষ প্রমাণ করতে সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। তাদের মধ্যে ৮জন নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ দেখিয়েছে। এর বাইরেও বিতর্কিতরা আছে। সব মিলিয়ে ১৯জনের ব্যাপারে তথ্য পাওয়া গেছে।

প্রাথমিকভাবে ওই ১৯জনের পদ শূন্য ঘোষণা করা হবে। সংগঠনটি বিতর্কিতদের ব্যাপারে প্রমাণ সংগ্রহ করতে গোয়েন্দা সংস্থার সাহায্য নিয়ে তাদের ব্যাপারে নিশ্চিত হয়েছে বলেও জানান রাব্বানী।

ছাত্রলীগ সূত্রে জানা যায়, এদিকে কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে ১৯ জনের বাদ দেওয়ার খবরে পদ না পাওয়া ত্যাগীরা  আবার যোগাযোগ করছে। তারা আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতাদের কাছে ধরনা দিচ্ছে। ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতৃত্বের সাথে যোগাযোগ রাখছে।

পদ বঞ্চিতদের মধ্যে ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় উপ-সম্পাদক সাইফুর রহমান সাইফ রয়েছেন। তিনি বলেন,আমি দীর্ঘ ১০ বছর ধরে ছাত্রলীগের রাজনীতি করে আসছি। দলের দুঃসময়ে আমি রাজপথে ছিলাম।আমার বাবা আবু ইউসুফ বগা ইউনিয়ন আওয়ামিলীগের ১নং সহ-সভাপতি এবং আমার মা উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে। তাছাড়াও আমি ছত্রলীগের কেন্দ্রীয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও হলের গুরংত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছি তাও আমাকে সদ্য ঘোষিত ৩০১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটিতে স্থান দেওয়া হয়নি কেন তা আমি জানি না।

তিনি আরো বলেন, আমি ও আমার পরিবার একাধিকবার বিএনপির মিথ্যা মামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছি তবুও আমি রাজপথ ছাড়িনি। আশা করি নতুন সংযোজনে আমাকে মূল্যায়ন করবে দল।  

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত