ঢাবি চলচ্চিত্র সংসদের সম্পাদকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ

আপডেট : ২৯ মে ২০১৯, ০৯:০১ পিএম

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চলচ্চিত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক পিটার জেভিয়ার রোজারিওর বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ এনেছেন সংগঠনটির সাবেক এক সদস্য।

যৌন হয়রানি নিয়ে সংগঠনটি যে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে সেটাকে পক্ষপাতমূলক বলে প্রত্যাখ্যান করেছে এই শিক্ষার্থী।

বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সমিতির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ আনেন তিনি।

পিটার জেভিয়ারের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বরাবর অভিযোগ দেবেন বলেও জানান ওই সদস্য।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, সংগঠনের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক পিটার তার শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেন। এ ঘটনায় তিনি চলচ্চিত্র সংসদ বরাবর একটি অভিযোগ দিয়েছেন।

সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, ‘২০১৫ সালে তিনজন রিকশায় যাওয়ার সময় আমি পিটারের নিচে বসি। মাঝপথে হঠাৎ আমি খেয়াল করি পিটার গায়ে হাত দিচ্ছে। আমি ভেবেছি ও পেছনে পড়ে যাচ্ছে হয়তো তাই।’

তিনি আরো বলেন, ‘কিন্তু যখন ও স্কুইজ করে আমার পুরো শরীর ঠান্ডা হয়ে আসে। এবং ওর হাত আরো ওপরে ওঠার আগেই আমি হাত সরায় দিয়ে বলি আমি নামব এখনই। পিটার তখন আমাকে জড়ায় বলে দোস্ত নামবি কেন? কী হইছে। ওর এহেন অসভ্য আচরণে আমি জলদি নামি। পিটার আমার ক্লোজ ফ্রেন্ড ছিল। ওকে আমি এত বিশ্বাস করতাম। আমি মেন্টালি প্যারালাইজ হয়ে গিয়েছিলাম।’

তিনি বলেন, ‘পিটার আমার কাছে ক্ষমা চায়। আমি বলি, আমি কালকে অ্যাবিউজড হয়ে আজকে তাকে ক্ষমা করে দেই ক্যামনে। আমি বলি ওকে ব্যান করা (সংগঠন থেকে) হোক।’

অভিযোগে তিনি আরো উল্লেখ করেন, ‘পিটারকে ব্যান করা হয় নাই। আর বলা হইছে আমাকে নাকি শিখানো হইছে এসব মিথ্যা অভিযোগ দিতে। আমি নাকি আরো এমন অনেক ছেলেদের সঙ্গে করছি। আমার বন্ধুরা তাদের বড় ভাইদের এসব কথায় কোনো উচ্চবাচ্য করে নাই। আমি দস্যি-নস্যির পুরো ব্যাচের ওপর আস্থা হারায় ফেললাম। আমার মেয়ে বন্ধুগুলোও আমার পাশে দাঁড়ায়নি। আমি সব ভুলে গেছি। সবাইকে বলি ডিইউএফএস ছাড়া আমার বেস্ট সিদ্ধান্ত । কিন্তু এরপর দেখি জুনিয়ররা পিটারের কত বড় ফ্যান। তারপর শুনি ও নাকি সেক্রেটারি। আমি ভেঙে পড়ি আবার।’

ঘটনার ৪ বছর পর কেন অভিযোগ করা হচ্ছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঢাবি চলচ্চিত্র সংসদেও যৌন হয়রানি যারা করে তাদের আশ্রয় দেওয়া হয়। আমি দ্বিতীয় বর্ষে যখন পিটারের দ্বারা যৌন হয়রানির শিকার হয়েছিলাম তখন বিচার পাইনি। উল্টো আমার চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল। কিন্তু কিছুদিন আগেই জানলাম সেই যৌন হয়রানকারী পিটার এখন চলচ্চিত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক। আমার অভিযোগের ভিত্তিতে কয়েক দিন আগে এই ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। যার রিপোর্টে তদন্তকারীরা মনগড়া বক্তব্য দিয়েছেন। আমি এই রিপোর্ট প্রত্যাখ্যান  করছি।

এ বিষয়ে চলচ্চিত্র সংসদের সভাপতি কাইয়ুম জয় বলেন, ঘটনার শুরুতে পিটারকে বহিষ্কার করা হয়নি। কিন্তু পরবর্তীতে সে ভোটাভুটির মাধ্যমে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হয়। কিন্তু এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। যেখানে পিটার দোষী কি নির্দোষ সেটা প্রমাণ করা যায়নি। আমরা একটি সেক্সুয়াল হ্যারাসমেন্ট সেল গঠন করেছি। কয়েক দিন পর তারা একটি প্রতিবেদন দিবে। সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জানতে চাইলে অভিযুক্ত পিটার জেভিয়ার রোজারিওর দেশ রূপান্তরকে বলেন, কিছুদিন আগে যে তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে সেখানে কোনো ধরনের প্রভাব আমি খাটাইনি। আর সে যে অভিযোগ করেছে , আমি ইচ্ছাকৃত কোনো কিছু করিনি। এটা অনিচ্ছাকৃত স্পর্শ ছিল। যেটা আমি তদন্ত কমিটিকে বলেছি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত