মাদক দিয়ে শিক্ষার্থীকে ফাঁসাতে গিয়ে গণধোলাইয়ের শিকার দুই এসআই

আপডেট : ০২ জুন ২০১৯, ০৪:৪৪ পিএম

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে সজীব নামে এক শিক্ষার্থীকে মাদক দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগে গণধোলাইয়ের শিকার হয়েছেন পুলিশের দুই উপপরিদর্শক (এসআই)। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পিতাসহ ৫ জনকে আটকের পর ছেড়ে দেওয়া হয়।

শনিবার রাত ৮টার দিকে ভৈরব-কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কের শুম্ভুপুর পাক্কারমাথা এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। ওই দুই এসআই হলেন- আবুল খায়ের ও এসআই আজিজুল হক।

সজীবের মুদি ব্যবসায়ী পিতা সাব মিয়ার দাবি, মদের বোতল দিয়ে তার ছেলেকে ফাঁসানোর চেষ্টা করে পুলিশ। তার ছেলে ভৈরব সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রথম বর্ষের একজন শিক্ষার্থী। ওই দিন সন্ধ্যায় সজীব তার দুই বন্ধুকে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে ঈদের মার্কেটিং করতে ভৈরব বাজারে যায়। বাজার থেকে ফেরার পথে তাদেরকে চাঁন্দভান্ডার দরবার শরীফের সামনে আটকে সজীবের গায়ে মদ ছিটিয়ে মাদক ব্যবসায়ী বানানোর চেষ্টা করে পুলিশ।

তিনি জানান, এ সময় সজীব মোটরসাইকেল নিয়ে কৌশলে শহরের পাক্কারমাথা এলাকায় নিজের মহল্লায় চলে আসে। কিন্তু এসআই আবুল খায়ের এবং আজিজুল হকও সজীবের পিছু নিয়ে সেখানে আসেন। এ সময় তারা সজীবকে জোরপূর্বক ধরে নিয়ে যেতে চাইলে বিষয়টি স্থানীয়দের চোখে পড়ে। তারা সাদা পোশাকে থাকায় স্থানীয় লোকজন ছিনতাইকারী ভেবে তাদের গণধোলাই দেয়। গণধোলাইয়ের এক ফাঁকে উপপরিদর্শক আজিজুল হক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।

খবর পেয়ে ভৈরব থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোখলেছুর রহমান রাসেল ও অভিজিৎ ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আবুল খায়েরকে উদ্ধার করেন। একই সাথে পুলিশের ওপর হামলার দায়ে ঘটনাস্থল থেকে মোহাম্মদ আলী (৪০), মো. মিজান মিয়া (৪২), মো. ইয়াকুব (৩৮) ও মো. রহিম মিয়া (৪০) নামে ৪ জনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। পরে ভোরে সাহরি খাওয়ার সময় সজীবের বাবা সাব মিয়াকেও আটক করে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভ ও গ্রেপ্তার আতঙ্ক বিরাজ করছে বলে স্থানীয়রা জানান।

এদিকে এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত দুই উপপরিদর্শক আবুল খায়ের ও আজিজুল হক জানান, শনিবার রাতে সজীবকে সন্দেহ হলে তাকে আমরা তল্লাশি করি। এ সময় তার সাথে একটি মদের বোতল পাওয়া যায়। পরে সজীবকে থানায় নিয়ে যেতে চাইলে সে কৌশলে মোটরসাইকেল নিয়ে এলাকায় চলে যায়। পরে তাকে আটক করতে গেলে স্থানীয়রা ভুল বুঝে অপ্রীতিকর পরিবেশের সৃষ্টি করে।

এ প্রসঙ্গে ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মোখলেছুর রহমান জানান, স্থানীয়দের সাথে একটি ভুল বোঝাবুঝির ঘটনা ঘটেছিল। পরে সেটির অবসানও হয়েছে। আটককৃতদেরও ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে ভৈরব সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. রেজওয়ান দীপু জানান, ঘটনাটি শুনেছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত