বগুড়া উপনির্বাচনে বিএনপির প্রচারে হামলা

আপডেট : ০৪ জুন ২০১৯, ০৪:৫০ পিএম

বগুড়া সদর উপনির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দের পর নির্বাচনী প্রচারণার শুরুতেই উত্তাপ ছড়াতে শুরু করেছে।

বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে প্রথমদিনের প্রচারণা চালাতে এসে হামলার শিকার হয়েছেন সাবেক সাংসদ হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু ছাড়াও ছাত্রদলের দুই নেতা। শহরের সাতমাথা চত্বরে এই হামলার ঘটনা ঘটে।

এসময় খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে বেশ কয়েকজন সংবাদকর্মী হামলাকরীদের হাতে লাঞ্ছিত হন।

মঙ্গলবার সকালে বগুড়া জেলা নির্বাচন কার্যালয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা মাহবুব আলম শাহ উপনির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী ৭ প্রার্থীর মাঝে প্রতীক বরাদ্দ দেন। প্রার্থীদের মধ্যে আ.লীগের এসএম টি জামান নিকেতা (নৌকা), জেলা বিএনপির আহ্বায়ক  গোলাম মো. সিরাজ (ধানের শীষ), জাতীয় পার্টির নুরুল ইসলাম ওমর (লাঙ্গল), বাংলাদেশ কংগ্রেসের মনসুর রহমান (ডাব), বাংলাদেশ মুসলিম লীগের মুফতি মাওলানা রফিকুল ইসলাম (হারিকেন), স্বতন্ত্র প্রার্থী মোটর শ্রমিক নেতা সৈয়দ কবির আহম্মেদ মিঠু (ট্রাক ) ও মিনহাজ মণ্ডল (আপেল) প্রতীক বরাদ্দ পান।

প্রতীক বরাদ্দে পরপরই প্রার্থীরা বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করেন। দুপুরের দিকে বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও সাবেক সাংসদ হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু এবং জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আবু হাসান ও সাধারণ সম্পাদক নুরে আলম সিদ্দিকী রিগ্যান শহরের সাতমাথা এলাকায় দলীয় প্রার্থীর পক্ষে গণসংযোগে যান। এসময় জয় বাংলা শ্লোগান দিয়ে একদল যুবক তাদের ওপরে হামলা চালায়।

মারপিটের শিকার বিএনপি নেতারা সাতমাথা চত্বরের উত্তরপাশে পুলিশ বক্সে গিয়ে আশ্রয় নেন। সেখানেও তাদের ওপরে হামলা চালানো হয়।

এসময় আলোকচিত্র ও ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে বগুড়ার বেশ কয়েকজন সংবাদকর্মী লাঞ্ছিত হন।

ঘটনার পরপরই জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সাংবাদিকদের জানান, ছাত্রলীগের কতিপয় নেতা এই হামলায় নেতৃত্ব দেয়। তারা বেদম মারপিট করার সময় সাংবাদিকদের সহায়তায় তিনিসহ সাবেক সাংসদ লালু ও জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রিগ্যান উদ্ধার পান। ঘটনার সময় পুলিশ কোন ব্যবস্থা নেয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী টি জামান নিকেতার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের কোন সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মী তাদের ওপরে হামলা চালায়নি। তাদের দলীয় কোন্দলের কারণেই এই হামলার ঘটনা ঘটেছে। তারা কৌশলে সেই দায়ভার আওয়ামী লীগের ওপরে চাপানোর চেষ্টা করছে।

এদিকে সাংবাদিকদের লাঞ্ছিত করার ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বগুড়ার সকল সাংবাদিক সংগঠন। এক যৌথ বিবৃতিতে তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

বগুড়া সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক রেজাউল করিম জানান, ঘটনার পরপরই পুলিশ সেখানে পৌঁছেছে। ততক্ষণে হামলাকারীরা পালিয়ে গেছে। হামলার শিকার নেতাদের অভিযোগের ভিত্তিতে হামলাকারীদের আটক করে আইনের আওতায় নেওয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত