রাত পোহালেই ঈদ। এই ঈদে মুক্তি পাচ্ছে শবনম বুবলী অভিনীত ‘পাসওয়ার্ড’। ছবিটি ঘিরে দেশ রূপান্তরের সঙ্গে কথা বললেন তিনি।
এবারে আপনার ঈদ তো দ্বিগুন…
হ্যাঁ, একে তো উৎসব। তার ভেতর নিজের ছবি মুক্তি। এত বড় উৎসবে যখন নিজের কাজ মুক্তি পায় তখন সেটা অনেক বড় আনন্দের।
‘পাসওয়ার্ডে’ আপনার চরিত্র?
আর তো মাত্র কিছুক্ষণ। পাসওয়ার্ড আনলক হতে সময় লাগবে না। দর্শকরা পাসওয়ার্ড আনলক করে দেখুক। আশা করি তাদের ভালো লাগবে।
এই ঈদে আপনার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে ববি ও স্পর্শীয়া…
ববির নোলক ও স্পর্শীয়ার আবার বসন্ত মুক্তি পাচ্ছে। ওদের জন্যও আমার শুভ কামনা। ঈদের সময় অনেক ছবিই মুক্তি পাবে। এটা স্বাভাবিক একটা ব্যাপার। সবার ছবিই একটা প্রতিযোগিতার ভেতর দিয়েই যায়। সবাই চায় সবার ছবি একটি সুন্দর দিনে মুক্তি পাক। তবে আমি কাউকেই প্রতিযোগী ভাবছিনা, বা কাউকেই আমার প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মনে করি না। আমি চাই সবার ছবিই ভালো যাক। দর্শকরা প্রত্যেকটা বাংলা ছবিই হলে গিয়ে দেখুক। যত ছবি আসবে ততই ভালো। প্রতিদ্বন্দ্বী মনোভাব নয়, সবার প্রতিই আমার শুভ কামনা রইল।
দর্শক কেন ‘পাসওয়ার্ড’ টাকা দিয়ে টিকিট কেটে দেখবে?
খুব সুন্দর একটা প্রশ্ন। আসলেই ছবি দেখা বা ছবি বানানো দুটোতেই লগ্নির ব্যাপার থাকে। যারা ছবি নির্মাণ করেন তারাও কোটি কোটি টাকা লগ্নি করেন। আবার যারা ছবি দেখবে তারাও পকেটের টাকা দিয়ে টিকিট কিনেই ছবিটা দেখবে। তো আমাদের যারা প্রযোজক থাকেন তারা একটা ছবি তৈরির করার ক্ষেত্রে ভালো কিছু করতে চায়। এর আগেও আমি যে নায়কের সঙ্গে কাজ করেছি মানে আমার সহকর্মী শাকিব খানই এই ছবির প্রযোজক। সঙ্গে ইকবাল ভাই আছেন। এই টিমের প্রত্যেকেই ভালো কাজ করেছেন। মালেক আফসারী অনেক গুণী একজন নির্মাতা। আরও যারা অভিনেতা আছেন ইমন ভাই, মিশা ভাই-সবাই মিলে যার যার জায়গা থেকে চেষ্টা করেছেন। আমি বলতে চাই যে টাকা দিয়ে দর্শক যে ধরনের ছবি দেখতে চায় সে ধরনের ছবিই নির্মাণ করা হয়েছে। আর ভালো লাগার বিষয়টা দর্শকরাই বিচার করবে। আর এটাও ঠিক এই ছবি সবার হয়তো ভালো লাগতে নাও পারে। কারণ একেক জনের পছন্দ একেক রকমের। যারা ‘পাসওয়ার্ড’ পছন্দ করবে তারাই এটা দেখবে। কারও ভালো লাগবে। কারও ভালো লাগবে না। অনেকে সমালোচনাও করবে। তবে দর্শকদের প্রতি একটা অনুরোধ, ছবি না দেখে কেউ যেন সমালোচনা না করে। গঠনমূলক সমালোচনা হলে ভালো লাগবে। আবার একটা ছবির সবকিছু কিন্তু ভালো লাগবে না। শতভাগ ভালো লাগবে না কোনো ছবিরই। একটা ছবির নানা দিকই নানাজনের ভালো লাগবে। আবার একটা ছবি শতভাগ খারাপও লাগবে না কারও। কিছু কিছু বিষয় ভালো লাগবে আর কিছু কিছু বিষয় খারাপ লাগবে। তাই অনুরোধ করব যাতে সবাই হলে গিয়ে ছবিটি দেখেই সমালোচনা করে।
‘না দেখেই সমালোচনার প্রসঙ্গ টানলেন’- এর প্রেক্ষিতে জানতে চাই, অনেকে ছবি মুক্তির আগেই ‘পাসওয়ার্ড’ নিয়ে নকলের অভিযোগ তুলেছেন। এর সত্যতা জানতে চাই-
অনেকেই ছবি দেখার আগেই সমালোচনা করে ফেলে, তাদের ব্যাপারেও আমি পজিটিভ ধারণা পোষণ করি। কারণ তারা হয়তো অনেক কিছুই বুঝে। সে কারণেই তারা হয়তো সমালোচনা করে। আর একজন আর্টিস্ট হিসেবে বলব, আমরা যখন কাজ করি তখন কিন্তু পরিচালক যে গল্প আমাদের শোনান সেই গল্প ভালো লাগলেই আমরা কাজ করি। তাদের সঙ্গে বোঝাপড়া করেই কাজে চুক্তিবদ্ধ হই। আর গল্প বা চিত্রনাট্য কিন্তু আমরা লিখি না। এটার জন্য আলাদা বিভাগ আছে। ফলে গল্প কোত্থেকে নেওয়া হয়েছে সেটা কিন্তু আমরা তেমনটা জানতে পারি না। আর কিছু বিষয় যেমন রোমান্স, কিছু ইমোশন, ফাইট, কাউন্টার ফাইট নানা বিষয়েই অন্য ছবির সঙ্গে মিলে যায়। কারণ অনুভূতির জায়গাটা সারা বিশ্বেই এক। ফলে একটা ইমোশনাল সিন বা একটা রোমান্টিক দৃশ্য বা একটা ফাইটের সামান্য একটু মিলে গেলেই সেটা নকল হয়ে যায় না। আর আরেকটা ব্যাপার তামিল ছবি, হিন্দি ছবি হলিউডেও কিন্তু রিমেক হয়। আমাদের কিন্তু একটা লিমিটেড বাজেট থাকে, ফলে এই ছবির সঙ্গে কিন্তু বলিউড বা হলিউডের ছবির সঙ্গে মেলালে হবে না।
শাকিব খান বলেছেন ছবিটি আন্তর্জাতিক মানের, আপনিও কি তাই মনে করেন?
আসলে আমাদের প্রেক্ষাপটে আমরা চেষ্টা করেছি। উন্নয়শীল একটা দেশের প্রেক্ষাপটে একটা ভালো ছবি করার চেষ্টা করেছি। আমাদের বাজেট কিন্তু খুব বেশি না। স্বল্প বাজেটের ভেতরেই আমরা একটা ভালো ছবি বানানোর জন্য চেষ্টা করেছি। প্রযোজকরাও তাদের পক্ষ থেকে করেছেন। আমার পয়েন্ট অব ভিউ থেকে বলব, এটা একটা ভালো ছবি হয়েছে। আমি চাই, দর্শকরা কোনো রকম পূর্ব ধারণা ছাড়াই ছবিটি হলে গিয়ে দেখুক।
আপনি কি পুরো ছবিটি দেখেছেন?
আমার অংশটুকু দেখেছি।
একজন দর্শক হিসেবে এই ছবিতে আপনার অভিনয়ের মূল্যায়ন-
নিজের ছবি হিসেবে নয়, দর্শক হিসেবে বলতে চাই। নিজের ভেতরেও কিছু তৃপ্তির ব্যাপার থাকে যে কাজটা ভালো হয়েছে। দর্শক হিসেবে যদি বলি ডাবিংয়ের সময় নিজের যে অংশগুলো দেখেছি তাতে আমার ভালো লেগেছে। অভারঅল প্রেজেন্টেশনের জায়গা থেকে বলব, অসাধারণ একটা ছবি হয়েছে। এই ছবিতে সবকিছুই আছে যা আমাকেও বিনোদিত করেছে। আমি কাজ করে যেটা দেখেছি, এই ছবির প্রত্যেকটা চরিত্রই গুরুত্বপূর্ণ।
পাগল মন গানটা বেশ প্রশংসিত হয়েছে-
তুরস্কে গিয়ে প্রথম শুট করা গানই এটা। এই গানের শুটিংয়ে বাংলাদেশের টিম ছাড়াও বোম্বের টিম ও তুরস্কের লোকাল টিমও ছিল। তিনটি টিমের সমন্বয়ে এই গানগুলো হয়েছে। তুরস্কের চার পাঁচটা লোকেশনে শুটিং হয়েছে। প্রতিদিনই চার পাঁচটা লোকেশনে দৌড়াতে হতো। ভোর চারটায় মেকআপ নিয়ে গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করতে হতো। অনেক কষ্ট করতে হয়েছে এই ছবিটির শুটিংয়ে।
ঈদ কীভাবে কাটবে?
ঈদ ঢাকাতেই করছি। এবারের ঈদ সম্পূর্ণ পাসওয়ার্ড কেন্দ্রিক। এর বাইরে পরিবার, বাবা মার সঙ্গেই ঈদ কাটাব। নিজে কিছু রান্না করব। আর বিকেলে হলে হলে যাওয়ার ইচ্ছে আছে।
