গণতন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য ঐক্যবদ্ধ ঐক্যফ্রন্ট চায় আ.লীগ: কাদের

আপডেট : ১১ জুন ২০১৯, ০৩:৩৫ পিএম

গণতন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য ঐক্যফ্রন্ট ঐক্যবদ্ধ থাকুক এটাই সরকারি দলের প্রত্যাশা বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

মঙ্গলবার বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে দলের যৌথ সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন।

একাদশ সংসদ নির্বাচনের পর সংসদে যোগদান প্রশ্নে টানাপোড়েনের প্রেক্ষাপটে সোমবার অনুষ্ঠিত ঐক্যফ্রন্টের ‘স্টিয়ারিং কমিটির’ বৈঠকে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগসহ জোটের অনেকের ক্ষুব্ধ মনোভাবের কথা প্রকাশ পায়।

ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে সমন্বয়হীনতা প্রকাশ পাচ্ছে- বিষয়টিকে কিভাবে দেখছেন জানতে ওবায়দুল কাদের বলেন, “ঐক্যফ্রন্টে সমন্বয় নেই, ঐক্য নেই- আমরা সেটা চাই না। ঐক্যফ্রন্ট ঐক্যবদ্ধ হোক, তাদের মধ্যে সমন্বয় হোক। বাংলাদেশে একটা শক্তিশালী দায়িত্বশীল বিরোধী দল গণতন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য শুভ।”

তিনি বলেন, “শক্তিশালী দায়িত্বশীল বিরোধী দল আমরা চাই। সংসদের ভেতরে এবং বাইরে শুধু দায়িত্বশীল নয়, শক্তিশালী বিরোধী দল আমরা চাই। বিরোধী দল যথাযথ ভূমিকা পালন করবে এটাই আমাদের প্রত্যাশা, শেখ হাসিনা সরকারের প্রত্যাশা।”

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বন্দিত্বে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) উদ্বেগ প্রকাশ করায় আওয়ামী লীগ কোনো চাপ অনুভব করছে কি না- জানতে চাইলে দলটির সাধারণ সম্পাদক বলেন, “আন্তর্জাতিক কোনো চাপ আমরা অনুভব করছি না, বিচ্ছিন্নভাবে কে কী বলেছে।”

তিনি বলেন, “বিএনপি তার (খালেদা জিয়া) স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছে, কিন্তু ডাক্তাররা তো কোনো উদ্বেগ প্রকাশ করছে না। বেগম জিয়ার স্বাস্থ্য উদ্বেগের পর্যায়ে আছে এটা আমাদের জানা নেই। মেডিকেল বোর্ডও এরকম কোনো তথ্য দিতে পারেনি।”

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, “বেগম জিয়ার পক্ষে কিছু করতে পারেনি বলে বিএনপি নেতারা মুখ রক্ষার জন্য, কর্মীদের চাঙা করার জন্য নানান কথা বলছে। তারা বেগম জিয়ার স্বাস্থ্য নিয়ে যতটা না উদ্বিগ্ন, তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে রাজনীতি করতেই বেশি অভ্যস্ত এবং ব্যস্ত।”

বিএনপির নারী সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার পরই সংসদকে অবৈধ বলাকে কিভাবে দেখছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, “তারপরও তার সাহসের আমরা প্রশংসা করি যে, তিনি সংসদে এসেছেন। মির্জা ফখরুল ইসলাম তো পাস করেও সংসদে আসেননি। সংসদে এসে সংসদের বিরুদ্ধে বলুক, সরকারের বিরুদ্ধে বলুক- এতে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। সংসদে তো এসেছেন।”

আওয়ামী লীগ যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, এ কে এম এনামুল হক শামীম, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, কৃষি ও সমবায় সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদ, সাংস্কৃতিক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন, উপ-দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, কেন্দ্রীয় সদস্য মারুফা আক্তার পপি, কামরুল ইসলাম, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসনাত, সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, ঢাকা উত্তরের মেয়র আতিকুল ইসলাম, ঢাকা দক্ষিণের মেয়র সাঈদ খোকন যৌথসভায় উপস্থিত ছিলেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত