নরসিংদীতে কলেজছাত্রীকে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা, আটক ১

আপডেট : ১৪ জুন ২০১৯, ০১:১৫ পিএম

নরসিংদীতে ফুলন রানী বর্মণ (২২) নামে এক কলেজছাত্রীর শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে নরসিংদী পৌর এলাকার বীরপুর মহল্লায় এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে রাতেই সজিব রায় (২৭) নামে একজনকে রায়পুরা থেকে আটক করেছে পুলিশ।

দগ্ধ ফুলন বর্মণ বীরপুর এলাকার যুগেন্দ্র বর্মণের মেয়ে ও নরসিংদীর উদয়ন কলেজ থেকে গত বছর এইচএসসি পাস করেছেন।

আটককৃত সজিব রায় রায়পুরা উপজেলার শ্রীরামপুরের ননী গোপাল রায়ের ছেলে।

নরসিংদী মডেল থানা পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে ফুলন তার মামার সঙ্গে দোকানে কেক আনতে যান। মামা কেক কিনে দিয়ে তাকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন।

ফুলন কেক নিয়ে বাড়ির আঙিনায় পৌঁছালে অজ্ঞাত দুই দুর্বৃত্ত তার হাত মুখ চেপে ধরে পাশের একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। পরে কেরোসিন ঢেলে তার শরীরে আগুন ধরিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।

ফুলনের ডাক-চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে নরসিংদী সদর হাসপাতাল ও পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়।

খবর পেয়ে পুলিশ সুপার মিরাজ উদ্দিন (বিপিএম) ও সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সৈয়দুজ্জামানসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী তপন মল্লিক বলেন, হঠাৎ ডাক-চিৎকার শুরু হয়। ঘর থেকে বের হয়ে দেখি, একটা মেয়ের শরীরে আগুন জ্বলছে। আগুন জ্বলছে আর মেয়েটি ঘুরছে। পাশে মহিলারা দেখছে। পরে একটি ভেজা চট নিয়ে তার শরীরে চাপা দিয়ে আগুন নেভানো হয়।

অপর প্রত্যক্ষদর্শী সঞ্জিত বর্মণ বলেন, আগুন লাগানোর পর ফুলন চিৎকার করছিল। ওই সময় তার সব চুল পুড়ে যায় এবং শরীরের পেছনের দিকে বেশি পুড়েছে। আগুন নিভিয়ে তাকে সদর হাসপাতালে নিয়ে যাই।

তিনি বলেন, পরে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ন ইউনিটে প্রেরণ করেন। তার শরীরের ২০ শতাংশ পুড়েছে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।

পুলিশ সুপার মিরাজ উদ্দিন বলেন, ঘটনাস্থল থেকে কেরোসিনের বোতল, দিয়াশলাই বক্সসহ বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করছি।

তিনি বলেন, এ ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে সজিব রায়কে রায়পুরা থেকে আটক করা হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনের জন্য তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত