‘একদিন তো মরেই যাব’ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বরাতে ভাইরাল হওয়া এই কথাটি কি নিছকই মজা? এতদিন মজা কিংবা রসিকতা মনে হলেও নতুন একটি গবেষণার ফলাফল দেখে বোঝা যায়, এটি একবিংশ শতাব্দীর আগে-পরে জন্ম নেওয়া মিলেনিয়াল প্রজন্মের মানসিক অবস্থার প্রতিচ্ছবি।
যুক্তরাজ্যের সিপিজে ফিল্ডের কয়েকজন অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া পরিচালক একটি গবেষণা শেষে জানিয়েছেন, ১৮ থেকে ৩৪ বছর বয়সী ছেলেমেয়েরা অন্য যেকোনো প্রজন্মের চেয়ে তাদের মৃত্যু নিয়ে বেশি ভাবে। শুধু তাই নয়, এই প্রজন্মের ১৯ শতাংশ মানুষ নিজের শেষকৃত্য নিয়ে আগে থেকেই পরিকল্পনা করছেন। অন্য কোনো প্রজন্মের এত মানুষ শেষকৃত্য নিয়ে ভাবেন না।
অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্বন্ধীয় কলেজ থেকে উত্তীর্ণ একজন স্নাতকধারী পেশাজীবী যিনি অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া আয়োজন ও কর্মসম্পাদন সংক্রান্ত ব্যবসায় নিয়োজিত, তাকে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া পরিচালক বলে। তার কাজের মধ্যে রয়েছে মৃতদেহ মমি বা রাসায়নিক উপায়ে সংরক্ষণ করা, কবর বা দাহ করা। সেই সাথে মৃত্যু পরবর্তী অনুষ্ঠানসমূহ অর্থাৎ অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠান পরিচালনা করাও তার দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। ইউরোপের বিভিন্ন দেশে এমন পেশার প্রচলন রয়েছে।
সিপিজের ম্যানেজিং ডিরেক্টর হিসেবে বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন জেরমি ফিল্ড। এটি তাদের ফিল্ড পরিবারের কয়েক শ বছরের পুরোনো ব্যবসা। জেরমি তার সংগঠনের গবেষণা প্রতিবেদনে বলেন, ‘যারা অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার শুভেচ্ছা সম্পর্কে আগে থেকে জানেন, তাদের পাঁচজনের চারজনই বলছেন, এই জানাটা তাদের স্বস্তি দেয়। যারা মরে যাচ্ছে, তাদের জন্য সর্বোচ্চ দিতে পারাটাই ওই স্বস্তির অংশ।’
‘৭৬ শতাংশের বেশি বলছেন শেষকৃত্যের পরিকল্পনা তাদের উপর থেকে চাপ কমিয়ে দেয়।’
