দেশের লক্ষ্য অর্জনে বাজেট কাঠামোর দ্রুত সংস্কার প্রয়োজন বলে জানিয়েছে গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সচেতন নাগরিকদের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা সংগঠন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)।
প্রস্তাবিত ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট নিয়ে এক প্রতিক্রিয়ায় সুজন বলেছে, “বাজেট কাঠামো ব্যবস্থাপনার মধ্যে জবাবদিহিতা ও গণতন্ত্রের চর্চা নেই। এই কাঠামোর সংস্কার প্রয়োজন।”
শুক্রবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে সুজন আয়োজিত আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা বলেন, “সংবিধান অনুসারে সংসদে কণ্ঠভোটে বাজেট পাশ করা ছাড়া একজন সংসদ সদস্যের আর কোনো ক্ষমতা নেই।”
সুজন জানিয়েছে, অর্থনীতির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার জন্য এই বাজেট কাঠামো স্বাধীনতার তিনটি মৌলিক দিক- সমতা, মানবিক মর্যাদা এবং ন্যায়বিচারের আলোকে হওয়া উচিত। অন্যথায় লক্ষ্য অর্জন অধরাই থেকে যাবে।
সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘বাজেট একটা ছকবাঁধা বাজেটে পরিণত হয়েছে। প্রতিবছর বাজেটের পরিমাণ বাড়ে। সেই হিসাবে বাজেটের যে খাতগুলো আছে, এগুলোতে আমরা কিছু যোগ-বিয়োগ করি, আর দু-একটা বড় বড় প্রকল্প যোগ-বিয়োগ করি। আমাদের কাঠামোগত সংস্কার দরকার। নতুন করে রিডিজাইন করা দরকার।’
সুজনের সভাপতি ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হাফিজ উদ্দিন খান বলেন, সংসদে বাজেট পেশ হয় এবং তা দ্রুতই বাস্তবায়নের জন্য তাড়াহুড়া হয়। বাজেট নিয়ে সংসদে কোনো জ্ঞানগর্ভ আলোচনা হয় না।
মাথাপিছু আয়ে ধনী ও দরিদ্রের আয়ের মোট হিসাব ভাগ করলে সার্বিক আয় বেড়ে যায়, উল্লেখ করে সুজন সভাপতি বলেন, ‘দেশের শীর্ষ ধনীদের একজন যদি অর্থমন্ত্রী হন, তাহলে উনি তো আমাদের দুঃখ বুঝবেন না।’ এ ছাড়া তিনি নিজে অনেকগুলো বাজেট প্রণয়নের সঙ্গে যুক্ত থেকেছেন জানিয়ে বলেন, সরকার কখনো সাধারণ মানুষের কথা বা সমাজের বিশিষ্ট নাগরিকদের কথা কানে নেয় না।
বৈঠকে অর্থবছর পরিবর্তন করার দাবি জানান তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্যসচিব আনু মুহাম্মদ। তিনি বলেন, জুলাই-জুন অর্থবছর পরিবর্তন করতে হবে। এটা এপ্রিল-মার্চ বা ডিসেম্বর-জানুয়ারি হতে পারে।
বাজেট নিয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের শিক্ষক রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
গোলটেবিল বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন সাবেক সচিব আবদুল লতিফ মণ্ডল, বিআইডিএসের গবেষক নাজনীন আহমেদ, সুজনের নির্বাহী কমিটির সদস্য জাকির হোসেন, কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী দিলীপ কুমার সরকার, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি।
