ইরানে মার্কিন হামলা হলে পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে?

আপডেট : ২৩ জুন ২০১৯, ১২:৩৩ পিএম

ইরানে হামলার নির্দেশ দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শেষ মুহূর্তে স্থগিত করলেন। তবে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, হামলার বিষয়টি এখনো বিবেচনায় আছে।

ইরানের আকাশসীমায় মার্কিন গোয়েন্দা ড্রোন ভূপাতিত করা নিয়ে আরেকটি ভয়াবহ যুদ্ধের আশঙ্কায় রুদ্ধশ্বাস মুহূর্ত পার করছে বিশ্ব।

শেষ পর্যন্ত দুটি দেশ সংঘাতে জড়িয়ে গেলে পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে এনিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। এনিয়ে বিবিসির বিশ্লেষক জোনাথন মার্কাস তুলে ধরেছেন আড়ালে থাকা সেসব তথ্য।

বিবিসি বাংলা বলছে, ট্রাম্প নাকি নিজেই আলোচনার প্রস্তাব দিয়ে ইরানকে একটি বার্তা দিয়েছেন। ওমানের মাধ্যমে সেই বার্তা তেহরানের হাতে পৌঁছে দেওয়া হয়।

ইরানে হামলা হলে কী হতো?

ট্রাম্প শেষ মুহূর্তে মত পরিবর্তন না করে ইরানে হামলা চালালেও মার্কিন বাহিনীর আঘাত খুব সম্ভব সীমিত হতো বলেই মনে করা হচ্ছে। হয়তো আক্রমণ চালানো হতো ইরানের কিছু রাডার বা ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনার ওপর। এর সঙ্গে যোগ হতো কিছু কূটনৈতিক সতর্কবাণী।

অবশ্য ট্রাম্প শনিবার এ কথাও বলেছেন, “ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা এখনো আছে।”

বিশ্লেষকরা মনে করেন, ইরানি শাসকগোষ্ঠীকে উৎখাত করতে পূর্ণমাত্রার মার্কিন স্থল অভিযান ঘটার কোনো সম্ভাবনা নেই, যদিও হোয়াইট হাউসের কোনো কোনো লোক তেমন কিছু একটা চায়।

তবে এমন ঝুঁকি ট্রাম্প নেবেন বলে মনে হয় না। কারণ, সামরিক এবং রাজনৈতিক দিক থেকে ইরান অনেক বেশি জটিল এক চ্যালেঞ্জ। এটা সাদ্দাম হোসেনের ইরাক নয়।

ইরানের জবাব

আক্রান্ত হলে ইরান নিশ্চয়ই পাল্টা আঘাত হানতো। হয়তো কোনো মার্কিন জাহাজ বা বিমান আক্রান্ত হতো। এছাড়া ইরান উপসাগরে জাহাজ বা তেলবাহী ট্যাংকারের চলাচল বিঘ্নিত করতে মাইন, ছোট আকারের নৌকা, বা সাবমেরিন দিয়ে আক্রমণ চালাতো।

মনে রাখতে হবে- আমেরিকানদের যে ড্রোন ইরান ভূপাতিত করেছে, তা অত্যন্ত উচ্চ প্রযুক্তির এবং অত্যন্ত ব্যয়বহুল। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা তথ্য আহরণের যত উন্নত ব্যবস্থাই থাকুক না কেন তাদের দুর্বলতাও আছে।

ইরান হয়তো ভাবছে, তারা যদি কয়েকটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে দিতে পারে, তাহলে ট্রাম্প হয়তো ভাববেন- এত চড়া মূল্যে যুদ্ধ চালানোর দরকার নেই।

যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা আঘাত

যদি এমনটা হয় এ যুদ্ধ হবে অসম, অর্থাৎ একটি পক্ষ খুবই শক্তিশালী, অন্য পক্ষ অপেক্ষাকৃত দুর্বল। ইরানের হামলার জবাবে আমেরিকানরা ইরানি নৌ-স্থাপনা, বিমানঘাঁটির ওপর আঘাত হানতে পারে বিমান বা ক্রুজ মিসাইল দিয়ে।

এছাড়া তারা হয়তো ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করতে পারে এবং ইরানি সামরিক বাহিনীর ব্যাপক ক্ষতিসাধন করতে পারে।

কিন্তু ইরান যা করতে পারে তা হলো আমেরিকার এমন কিছু ক্ষতিসাধন করা যা আমেরিকায় জনমতকে এ যুদ্ধের বিরুদ্ধে ঘুরিয়ে দেয়।

পুরো অঞ্চলে ছড়াতে পারে সংঘাত

চাপের মুখে পড়লে ইরান এই সংঘাতকে গোটা মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে দিতে পারে। তার প্রক্সি দেশ যেমন- ইরাক, সিরিয়া বা অন্যদের আহ্বান জানাতে পারে মার্কিন লক্ষ্যবস্তুর ওপর আঘাত হানতে।

এমনকি লেবাননের হিজবুল্লাহ সিরিয়ায় থাকা ইরানি সেনাদের সমন্বয়ে ইসরায়েলের ওপর রকেট হামলা করতে পারে।

আর এসবের লক্ষ্য হবে ওয়াশিংটনকে এটা দেখানো যে, ইরানের ওপর কোনো ছোট আকারের আঘাতও পুরো মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আগুন ছড়িয়ে দিতে পারে।

আফগানিস্তান এবং ইরাকের অভিজ্ঞতা থেকে যুক্তরাষ্ট্র হয়তো এটা বুঝেছে যে, আধুনিক যুগে কোনো যুদ্ধে প্রচলিত অর্থে ‘জয়ী’ হওয়া যায় না। ইরানও নিশ্চয়ই মনে করে না যে, তারা যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধে ‘হারাতে’ পারবে।

কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে পরিস্থিতি?

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ হলে তা হবে ব্যয়বহুল। আর এর ফল কী হবে তা আগে থেকে বলাও কঠিন। হয়তো এতে ইরানের পরমাণু কর্মসূচিও বন্ধ হবে না, মধ্যপ্রাচ্যে তাদের ক্রমবর্ধমান প্রভাবও কমবে না।

এক হিসেবে ইরাকে সাদ্দাম হোসেনকে উৎখাত করার ফল হয়েছে এটাই যে, মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রভাব বেড়ে গেছে। সব সংঘাতেরই এমন কিছু পরিণতি হয় যা আগেকার হিসাব-নিকেশে বোঝা যায় না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত