স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের ডামুড্যা উপজেলা কার্যালয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী আমীনুর রহমান ও আব্দুল মালেককে মারধরের ঘটনায় উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদী হাসান রুবেল, তার ভাই উপজেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক জুলহাস মাদবর ও পূর্ব মাদারীপুর কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি এনামুল হক ইমরানকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে।
সরকারি কর্মকর্তাদের মারধরের অভিযোগ এনে গত মঙ্গলবার রাতে ডামুড্যা থানায় মামলাটি করেন উপসহকারী প্রকৌশলী আমীনুর রহমান। মামলার পর একজন আসামিকে আটক করেছে পুলিশ।
ডামুড্যা থানা ও স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদী হাসান রুবেল, তার ভাই উপজেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক জুলহাস মাদবর ও কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি এনামুল হক ইমরান ঠিকাদারি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। এনামুল হক ইমরান সম্প্রতি বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির প্রকল্প থেকে ১০টি সেলাই মেশিন সরবরাহ করার কাজ নেন। ৯২ হাজার টাকার ওই প্রকল্পটির বিল উত্তোলন নিয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের ডামুড্যা উপজেলা কার্যালয়ের উপসহকারী প্রকৌশলীদের সঙ্গে তার কথাকাটাকাটি হয়। পরে মঙ্গলবার সকালে মেহেদী হাসান রুবেল, জুলহাস মাদবর ও এনামুল হক ইমরান প্রকৌশলীদের কক্ষে যান। সেখানে তারা বিলের চেকে সই করার জন্য চাপ দিতে থাকেন। মেশিন সরবরাহ ও বিতরণের পূর্ণাঙ্গ কাগজপত্র না থাকায় প্রকৌশলীরা বিলের চেকে সই করতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তখন ওই তিন নেতা উপসহকারী প্রকৌশলী আমীনুর রহমান ও আব্দুল মালেককে মারধর করেন। তারা উপজেলা প্রকৌশলী এসএম হাসান ইবনে মিজানকেও মারধরের চেষ্টা করেন। তখন তিনি কক্ষের দরজা বন্ধ করে আত্মরক্ষা করেন।
উপসহকারী প্রকৌশলী আব্দুল মালেক বলেন, ‘তারা কাগজপত্র ছাড়াই বিল দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছিল। আমরা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তারা মারধর করেন। চর-থাপ্পড়, কিলঘুসি মেরেছেন। লোহার রড দিয়ে পিটিয়েছেন। আমরা ঊধ্বর্তন কর্র্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। তাদের পরামর্শে মামলা করা হয়েছে।’ উপজেলা প্রকৌশলী হাসান ইবনে মিজান বলেন, ‘তারা প্রায়ই হুমকি দিত, গালাগালি করত। আজ গায়ে হাত তুলেছে। দায়িত্ব পালন করার জন্য এভাবে আমাদের মার খেতে হবে কেন?’
ডামুড্যা উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদী হাসান রুবেল বলেন, কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ইমরানের কাজের বিলটির জন্য তারা ১০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন। বিষয়টি জানতে গিয়ে তর্কাতর্কি হয়েছে। প্রকৌশলীদের মারধরের বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি।
ডামুড্যা থানার ওসি মেহেদী হাসান বলেন, ছাত্রলীগের নেতারা দুজন উপসহকারী প্রকৌশলীকে মারধর করেছেন। এ ব্যাপারে একটি মামলা হয়েছে। আসামি জুলহাস মাদবরকে আটক করা হয়েছে।
