চেস্টার-লি-স্ট্রিটের এই ম্যাচ থেকে দক্ষিণ আফ্রিকার কিছু পাওয়ার নেই। অথচ শ্রীলঙ্কা পেতে পারে অনেক কিছু। ইংল্যান্ডকে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসে টগবগ করে ফুটছে তারা। আজ জিতলে তারা সেমিফাইনালের পথে অনেকটা দূর এগিয়েও যাবে।
দক্ষিণ আফ্রিকার সামনে অবশ্য তেমন কোনো স্বপ্ন বেঁচে নেই। সাত ম্যাচের পাঁচটাতে হেরে তাদের বিশ্বকাপ সেমিতে ওঠার স্বপ্ন গুঁড়িয়ে গেছে। প্রোটিয়াদের অ্যাসিস্ট্যান্ট কোচ মালিবঙ্গাওয়ে মাকেতা বলেছেন, ‘দুটি জয় আমাদের অনেক দূর এগিয়ে দিতে পারে। কিংবা স্রেফ একটা জয়ও।’ এবারের বিশ্বকাপে শুধু আফগানিস্তানকে হারিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। দীর্ঘ প্রস্তুতির পর এত বড় টুর্নামেন্টে খেলতে আসার ন্যূনতম সার্থকতাটুকুও দেখাতে পারেনি। শেষটা ভালো হলে তবু মুখরক্ষা হবে। দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক অলরাউন্ডার জ্যাক ক্যালিস তার কলামে লিখেছেন, ‘নিজের দেশের কথা ভেবে এখন খারাপই লাগছে। দুর্ভাগ্যক্রমে বিশ্বকাপেই আমাদের বেশি বাজে স্মৃতি রয়েছে। পাকিস্তানের বিপক্ষে হারের পর ফাফ ডু প্লেসি যা বলছিল, তাতে হতাশা ধরা পড়েছিল। কিন্তু এখন একজন দৃঢ়চেতা নেতা দরকার। হতাশ হয়ে লাভ নেই। বিশ্বকাপ আমাদের খুব বাজে কেটেছে। এখন তো কিছু আর করা যাবে না। তবে এই ভুল থেকে যদি শিক্ষা নেওয়া যায়, তাহলে লাভ হবে। শুধু স্ট্র্যাটেজি বদলই নয়, প্রোটিয়াদের পুরো মানসিকতা বদলাতে হবে। পরের ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকাকে সবকিছু ভুলে গিয়ে পারফরম করতে হবে। ইংল্যান্ডকে ওইভাবে হারিয়ে এখন ফুটছে শ্রীলঙ্কা। যে ম্যাচ শুধু দ্বীপরাষ্ট্রের আশা টিকিয়ে রাখা নয়, গোটা টুর্নামেন্টে নতুন প্রাণ সঞ্চার করে। আমি জানি না, পরের ম্যাচে প্রোটিয়াদের অ্যাপ্রোচটা কী হবে? তবে ওদের সব নেতিবাচক চিন্তা কাটিয়ে নামতে হবে। আমি জানি, কোচ ওটিস গিবসন এভাবেই খেলোয়াড়দের মোটিভেট করতে চান। কিন্তু কোনো কারণে তা এখনো হয়ে ওঠেনি।’
দক্ষিণ আফ্রিকা শিবির যখন এলোমেলো শ্রীলঙ্কা তখন ইংল্যান্ডকে হারিয়ে নিজেদের সেমিফাইনালের অন্যতম দাবিদার হিসেবে তুলে ধরেছে। ছয় ম্যাচে এখন তাদের পয়েন্ট ৬। আজ জিতলে ৮ পয়েন্ট নিয়ে তারা বাংলাদেশ এবং পাকিস্তানের ওপরে উঠে যাবে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অবাক প্রত্যাবর্তনের পর আশাবাদী তারা। বিশেষ করে লাসিথ মালিঙ্গা বুড়ো বয়সে যেভাবে ইয়র্কার দিচ্ছেন তাতে প্রতিপক্ষের জন্য ব্যাটিংটা কঠিন থেকে কঠিনতর হয়ে যাচ্ছে। আজও দক্ষিণ আফ্রিকাকে মালিঙ্গার ইয়র্কারের মুখে পড়তে হবে। বিশ্বকাপে প্রোটিয়া ব্যাটসম্যানরা তেমন ফর্মে নেই। হাশিম আমলা, ডু প্লেসি ও কুইন্টন ডি কক এখনো কোনো সেঞ্চুরি করতে পারেননি। একমাত্র ভন ডার ডুসেন নিয়মিত রান পাচ্ছেন। দক্ষিণ আফ্রিকার পেসাররাও আগুনে পেস দিয়ে ম্যাচ জেতাতে পারছেন না। কাগিসো রাবাদা সেই ফর্মে নেই। লুনগি এনগিডিও প্রতিপক্ষের জন্য মারাত্মক হয়ে উঠতে পারছেন না। এখনো পর্যন্ত বিশ্বকাপের কোনো ম্যাচ খেলেননি ডেল স্টেইন। আজ তার খেলার সম্ভাবনা আছে। তুখোড় ফর্মে আছেন লেগ স্পিনার ইমরান তাহির। আজ লঙ্কান ব্যাটসম্যানদের পথের কাঁটা হতে পারেন তিনি।
শ্রীলঙ্কা দলে মালিঙ্গা ছাড়া বড় কোনো নাম নেই। তবে সবাই মিলে দল হিসেবে ভালো খেলছে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস দায়িত্ব নিয়ে অসাধারণ ব্যাটিং করেছিলেন। রান পেয়েছিলেন ধনঞ্জয়া ডি সিলভা। তাছাড়া লঙ্কান ব্যাটিংয়ে আভিস্কা ফার্নান্দো, কুশল পেরেরা এবং অধিনায়ক দিমুথ করুনারতেœ ফর্মে আছেন। লঙ্কানদের ফিল্ডিংও ভালো। ফলে চেস্টার-লি-স্ট্রিটে জয়ের স্বপ্ন দেখতেই পারে তারা। বিশ্বকাপের হট ফেভারিট ইংল্যান্ডকে হারানোর পর এখন স্বপ্ন দেখার অধিকার রয়েছে দ্বীপরাষ্ট্রটির।
