ভাড়া করা মাইক্রোবাসে ঘুরতে যাওয়ার পর চালককে চুক্তি অনুযায়ী টাকা পরিশোধ না করে উল্টো চালককে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে। এদিকে, এ ঘটনা এলাকাবাসী জানতে পারলে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদেরকে শান্ত করে।
অভিযুক্তরা হলেন- কুবির শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাফিউল আলম দীপ্ত, কুবি শাখা ছাত্রলীগের উপ-প্রচার সম্পাদক আলী বোখারী, অর্থনীতি বিভাগের ১২ তম ব্যাচের সিফাত, মাহাদী, রিজওয়ান, ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের ১২ তম ব্যাচের সালমান।
আহত মাইক্রোবাস চালকের নাম মো. ফারুক।
জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (২৭ জুন) ছাত্রলীগের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী স্থানীয় মাইক্রোবাস চালক ফারুকের সঙ্গে পাঁচ হাজার টাকার চুক্তিতে চট্টগ্রামের বাঁশবাড়িয়া সমুদ্র সৈকত, নাপিত্তাছড়া ঝরনায় ঘুরতে যায়।
ফারুক অভিযোগ করেন, তাদের সঙ্গে ৫০০০ টাকার চুক্তি হলেও ঘুরে আসার পর ৩০০০ টাকা দিয়ে বাকি টাকা পরে দেয়ার কথা বলে। পরবর্তীতে ফারুক রাতে দীপ্তকে ফোন দিয়ে টাকা চাইলে সে তাকে হলে যেতে বলে। ফারুক টাকা নিতে হলে গেলে তাকে ৫০০ টাকা দিয়ে বাকি টাকা না দিতে চাইলে একপর্যায়ে বাগ্বিতণ্ডা হয়।
তিনি জানান, আগের দিনের জের ধরে পরের দিন শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের এলাকা দক্ষিণ মোড়ে বোখারীর নেতৃত্বে বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মী তাকে বেধড়ক মারধর করে। ফারুককে আহত অবস্থায় কুমিল্লা শহরের মুন স্পেশালাইজ হসপিটালে চিকিৎসার জন্য নেয়া হয়।
এদিকে, বিষয়টি অস্বীকার করে প্রধান অভিযুক্ত রাফিউল আলম দীপ্ত বলেন, ‘মাইক্রোবাসের ভাড়া বাবদ যে টাকা ফারুক চেয়েছে আমি তাকে দিয়ে দিয়েছি। পরে সে হলে এসে আমার কাছে নেশা করার জন্য টাকা চায়। আমি না দেয়ায় সে অকথ্য ভাষায় আমার সাথে কথা বলে এবং আমাদের হলের ছেলেদেরকে হল থেকে বের করে মারবে বলে হুমকি দেয়।’
অভিযুক্ত আলী বোখারি বলেন, ‘ফারুককে ক্যাম্পাসের দক্ষিণ মোড়ে পেয়ে দীপ্ত ভাইকে হলে হুমকি দেয়ার বিষয়টি জানতে চাইলে উনি আমার সাথে খারাপ আচরণ করেন এবং আমাকে মারতে আসলে আমি ও আমার সাথে থাকা বন্ধুদের সাথে তার হাতাহাতি হয়।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি ইলিয়াস হোসেন সবুজ বলেন, ‘চালক ফারুকের সাথে আমার কথা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী যদি কোন ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে প্রমাণ পাওয়া যায় তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
উল্লেখ্য, মারধরে নেতৃত্ব দেয়া শাখা ছাত্রলীগের উপ-প্রচার সম্পাদক আহমেদ আলী বুখারীকে এর আগেও দলীয় আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। অপর অভিযুক্ত রাফিউল আলম দীপ্তর বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের মারধরের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের মারধরের অভিযোগ রয়েছে।
