ফরিদপুর জেলার ভাঙা উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামে স্থাপিত হতে যাচ্ছে অনন্য ভৌগোলিক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ‘বঙ্গবন্ধু মানমন্দির ও পর্যটন কেন্দ্র’।
এ নিয়ে এলাকাবাসীর মাঝে বিরাজ করছে উৎসাহ উদ্দীপনা। সরকারের সংশ্লিষ্টদের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয় তা নিয়ে উৎসুক হয়ে অপেক্ষায় আছেন এলাকাবাসী।
ফরিদপুর প্রায় চার বছর আগে ভাঙা উপজেলার নূরুলাগঞ্জ ইউনিয়নের ভাঙ্গারদিয়া গ্রামের বিল ধোপাডাঙ্গা মৌজার এক টুকরো আবাদি কৃষি জমির ওপর বিশ্বের অন্যতম ভৌগোলিক গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট কর্কটক্রান্তি এবং ৯০ ডিগ্রি দ্রাঘিমার ছেদ বিন্দুটি ঘিরে সরকারী পর্যায়ে আলোচনার সূত্রপাত হয়।
সম্প্রতি বিজ্ঞান লেখক ড. জাফর ইকবালের ‘একটি স্বপ্ন’ শিরোনামের নিবন্ধটি প্রকাশিত হবার পর স্থানটি নিয়ে সরকারের পরিকল্পনার বিষয়টি উন্মোচিত হয়। ভূগোল, ইতিহাস ও বিজ্ঞান সকল বিবেচনায় বৈশ্বিক গুরুত্ব বহনকারী এই ভূ-খণ্ড টুকু দেশ ও জাতির কাছে নতুন করে পরিচিত হয়ে ওঠার বিষয়টি দারুণ ভাবে আন্দোলিত করেছে ওই এলাকার সাধারণ মানুষকে।
ফরিদপুর শহর থেকে ভাঙা যাবার সড়কে পুখুরিয়া নামক স্থান থেকে সদরপুর উপজেলার দিকে যেতে স্থানীয় বাইশ রশী শিব সুন্দর অ্যাকাডেমি সংলগ্ন নুরুলাগঞ্জমুখী রাস্তা ধরে ৩ কিলো মিটার এগোলে ভাঙ্গারদিয়া গ্রাম। সেখানে বিল ধোপডাঙ্গা মৌজায় বারেক মাতুব্বর, ইকবাল মাতুব্বর, কুটিপাগলা, জাকির হোসেন, ইউসুফ মাতুব্বর, আজিজুল মাতুব্বর, শাহ জাহান শেখ ও মোফাজ্জেল হোসেনের প্রায় ৫ একর কৃষি জমিকে প্রাথমিক ভাবে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মানমন্দির’ প্রকল্পের জন্য নির্বাচন করা হয়েছে।
এই বিখ্যাত জায়গাটির পরিচিতি যাতে সারা দুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে সে জন্য এলাকার সকলেই আমরা ন্যায্য দামে সরকারকে জমি লিখে দিতে রাজি আছি।
‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মানমন্দির’ ও পর্যটন কেন্দ্র নির্মান করা হলে কৃষি নির্ভর এই অঞ্চলের মানুষের জীবন মানের ব্যাপক উন্নয়ন হবে, বদলে যাবে জীবন ধারা। ব্যাবসা বাণিজ্যের প্রসার ঘটার পাশাপাশি কয়েক গুণে বৃদ্ধি পাবে জমির দাম, যার সুফল ভোগ করবে এই এলাকার সাধারণ মানুষ।
সম্প্রতি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সেখানে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মানমন্দির’ স্থাপন করার জন্য একটা প্রকল্প প্রণয়নের কাজ শুরু হয়েছে। ফরিদপুরে জেলা প্রশাসক অতুল সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক অতুল সরকার বলেন, ইতোমধ্যে একাধিকবার নূরুলাগঞ্জ ইউনিয়নের ভাঙ্গারদিয়া গ্রামেরবিল ধোপাডাঙ্গা মৌজার ওই জমি এলাকা সরকারি লোকজন পরিদর্শন করেছে ।
আন্তর্জাতিক মানের এই মানমন্দির ও পর্যটন কেন্দ্র নির্মান করতে বেশ কয়েক একর জায়গার প্রয়োজন হবে। এরইমধ্যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মানমন্দির’স্থাপন করার জন্য একটা প্রকল্পের কাজ শুরু হয়ে গেছে। কারিগরি কমিটি তৈরি করে এরইমধ্যে একটি সভাও হয়ে গেছে।
