পরমাণু চুক্তি রক্ষা বিষয়ক আলোচনায় বসতে রাজি হয়েছে ইরান। ব্যাপারটি নিয়ে ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানির সঙ্গে কথা হয়েছে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইম্যানুয়েল ম্যাক্রোর।
বিবিসি জানিয়েছে, এই দুই নেতা আধঘণ্টার বেশি সময় ধরে টেলিফোনে আলাপ করেন। পারমাণবিক চুক্তি রক্ষায় কী ধরনের শর্ত নিয়ে আবার আলাপ শুরু করা যায় তা নিয়ে দুই দেশ একমত হয়েছে।
টেলিফোন আলাপের সময় ইম্যানুয়েল ম্যাক্রো উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ইরানের সঙ্গে পরমাণু চুক্তিটি পরিত্যক্ত হলে তার অবশ্যই একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিণতি তৈরি হবে।
২০১৫ সালে ইরানের পরমাণু কর্মসূচী কমিয়ে আনার জন্য বিশ্বের ক্ষমতাধর দেশগুলোর সাথে একটি চুক্তি হয়েছিল।
শর্ত ছিল ইরান তার পরমাণু কর্মসূচী কমিয়ে আনার বিনিময়ে তার উপর দেয়া অবরোধ ধীরে ধীরে তুলে নেয়া হবে।
গত বছর যুক্তরাষ্ট্র এই চুক্তি থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নেয়ার পর থেকে চুক্তিটি পরিত্যক্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।
চুক্তি থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নেয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের উপর কঠোর শাস্তিমূলক অবরোধ আরোপ করে।
মে মাসে ইউরেনিয়াম মজুদ বাড়িয়ে ইরান এর জবাব দেয়।
ইরান এই ইউরেনিয়াম পারমাণবিক রিঅ্যাক্টরের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করে। তবে তারা পারমাণবিক বোমা তৈরি করছে বলে সন্দেহ রয়েছে।
চুক্তি অনুযায়ী পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করা যায় এই মানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুদ করতে পারবে না ইরান।
কিন্তু যতটুকু ইউরেনিয়াম ইরান মজুদ করতে পারবে তার বেশি ইতিমধ্যেই দেশটির কাছে আছে এবং এর পরিমাণ আরও বাড়ানো হবে বলে একটি ঘোষণা ইরানের কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আসতে পারে।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইম্যানুয়েল ম্যাক্রোর কার্যালয় থেকে একটি বিবৃতি দেয়া হয়েছে।
যেখানে বলা হয়েছে পারমাণবিক চুক্তিটি রক্ষায় সব পক্ষের সাথে আবার আলাপ শুরু করতে কী ধরনের শর্ত থাকতে পারে তা নিয়ে ১৫ জুলাইয়ের মধ্যে বিশ্লেষণ শেষ করবে ইরান ও ফ্রান্স।
ম্যাক্রো সব পক্ষের সাথে সে ব্যাপারে পরামর্শ করবেন।
ইরান তার উপর আরোপ করা অবরোধ শিথিল করতে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, রাশিয়া ও চীনকে রোববার পর্যন্ত সময় দিয়েছিল।
