নীলফামারীতে অবিরাম বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বিপদসীমা ছুঁই ছুঁই করেছে তিস্তা নদীর পানি।
মঙ্গলবার জেলার ডিমলা উপজেলার ডালিয়ায় তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে নদীর পানি বিপদসীমার ১০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়। সেখানে বিপদসীমা ৫২ মিটার ৬০ সেণ্টিমিটার।
এলাকাবাসী জানান, গত সোমবার সকাল থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে তিস্তা নদীর পানি বাড়তে শুরু করে। মঙ্গলবার ভোরে আরো পানি বাড়তে থাকলে তিস্তা বেষ্টিত চর গ্রামের লোকজনের বন্যার আশঙ্কায় মোকাবিলার প্রস্তুতি নেয়।
ডিমলা উপজেলার পূর্ব ছাতনাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ খাঁন বলেন, গত সোমবার মধ্য রাত থেকে তিস্তার পানি বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। তবে কোন গ্রামের বাড়িতে পানি প্রবেশ করেনি।
একই উপজেলার টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ময়নুল হক বলেন, তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় তিস্তা পাড়ের মানুষজন বন্যার আশঙ্কায় সতর্কাবস্থায় রয়েছে। তবে এখনও বন্যা দেখা দেয়নি।
এদিকে জেলা কৃষি বিভাগ সূত্র জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় গড় বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ৫১ দশমিক ১৬ সেন্টিমিটার।
ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে মঙ্গলবার সকাল ৬টা ও ৯ টায় নদীর পানি বিপদসীমার ১০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়। বেলা ১২টার পর থেকে তা কমতে শুরু করে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিপদসীমার ২০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্যারাজের সবকটি (৪৪টি) জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় তিস্তা ব্যারাজ এলাকায় বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ৬৮ মিলিমিটার। বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাধসহ দুর্বল স্থাপনাগুলো শক্তিশালী করণে কাজ শুরু করা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
