ভোগান্তির আরেক নাম জয়পুরহাটের মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়কগুলো। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো কাজ অসমাপ্ত রেখে, পরে ধীরগতিতে কাজ করায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এই এলাকার মানুষ।
একদিকে পুরো সড়কজুড়ে ছোট-বড় খানাখন্দে ঝুঁকি নিয়েই চলছে যানবাহনগুলো। বৃষ্টিতে ব্যাপক কাদা, শুষ্ক মৌসুমে ধুলা-বালি ও ছোট-বড় গর্তের কারণে গত কয়েকদিন আগে জয়পুরহাট-আক্কেলপুর সড়কে সকল যানবাহনগুলো বন্ধ ছিল।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে বার বার চূড়ান্ত নোটিশ দিয়েও মিলছে না কাজের অগ্রগতি। জেলার শ্রমিক সংগঠনগুলো রাস্তা সংস্কারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন, মানববন্ধন ও পরিবহন ধর্মঘটসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন। এদিকে ১৪ জুলাই আক্কেলপুর বাজারে সড়কের নানা অনিয়মসহ বালির বদলে মাটি দেওয়ায় কাজ বন্ধ করে দিয়েছে স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা।
জয়পুরহাট জেলার সড়ক ও জনপথ বিভাগের ৫টি প্রকল্প জয়পুরহাট-মোকামতলা, জয়পুরহাট-আক্কেলপুর, ক্ষেতলাল-গোপীনাথপুর এবং গোপীনাথপুর আক্কেলপুরে প্রায় ৯২ কিলোমিটার পাকা সড়কগুলো প্রশস্তকরণের জন্য ২০১৭-১৮ সালে ১৬৫ কোটি টাকার দরপত্র আহ্বানের পর র্যাব আরসি প্রাইভেট লি., মেসার্স প্যারাডাইস ট্রেডার্স, নাভানা কন্সট্রাকশন লি., রানা বিল্ডার্স প্রাইভেট লি., হাসান টেকনো লি., ধ্রুব কন্সট্রাকশন, তাহের ব্রাদার্স এন্ড এম.এম বিল্ডার্স ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে ২০১৯ সালের মে থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে সকল সড়কের কাজ সম্পন্ন করতে হবে। কিন্তু সংস্কার কাজ ধীরগতিতে শুরু করে ৪০ ভাগও কাজ সম্পন্ন না করেই সব ধরনের কাজ বন্ধ ছিল।
.jpg)
শহরের নতুনহাট এলাকার মুন্না দেওয়ান, সানজিদা আক্তার সুমি বলেন, “আগেই রাস্তায় ভালো ছিল। এখন আমরা বাড়ি থেকে বের হয়ে পায়ে হেঁটেও যেতে পারি না। রাস্তা খুঁড়ে পুরাতন পিচগুলো উঠায়ে ফেলে বালির বদলে জমির মাটি দিয়েছে। স্কুল-কলেজ, বাজারে যাওয়ার মতো কোনো পরিবেশ নেই। এদিকে অটোরিকশা শ্রমিক সুলতান, মোটর শ্রমিক শিমুল হোসেন, ফরহাদ হোসেন বলেন, “সড়কগুলোর বিভিন্ন স্থানে গর্ত আর খানাখন্দের কারণে গাড়ি চলাচল নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে এবং যানবাহন নষ্ট হচ্ছে, ঘটছে নানা রকম ছোট-বড় দুর্ঘটনা।”
এদিকে ধ্রুব কন্সট্রাকশনের প্রতিনিধি মো. আনিছুর রহমান কাজ বন্ধ থাকা ও জনদুর্ভোগ হওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, “অক্টোবরের মধ্যে ৮০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন করা হবে।”
জয়পুরহাট জেলা মোটর শ্রমিকের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রফিক বলেন, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে জয়পুরহাটের অসমাপ্ত সড়কগুলো মানুষ ও যানবাহন চলাচলের উপযোগী না করলে গোটা উত্তরবঙ্গে ধর্মঘটসহ বিভিন্ন কর্মসূচি দেওয়া হবে।
সড়ক ও জনপদ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী সাদেকুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানগুলোর কাজে কিছু বিড়ম্বনায় এ দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে কাজগুলোর অগ্রগতির অসন্তোষ প্রকাশ করে জয়পুরহাট সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী তানভীর সিদ্দীক বলেন, “ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে একাধিকবার নোটিশ প্রদান করা হলেও কোনো জবাব না পাওয়ায় তাদেরকে চূড়ান্ত নোটিশ দেওয়া হয়েছে।”
জয়পুরহাট অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. মুনিরুজ্জামান বলেন, শ্রমিক-মালিক নেতাদের বৈঠকে সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মকর্তারা আশ্বস্ত করেছেন খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে সড়কগুলো মানুষ ও যানবাহন চলাচলের উপযোগী করা হবে।
