রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে বৃহস্পতিবার সকালে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ-২০১৯ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেখানে তিনি বলেন, “এরই মধ্যে নদীগুলোর ড্রেজিং কাজ আমরা শুরু করেছি। নদী ড্রেজিং করে আমাদের পানির প্রবাহ যাতে বৃদ্ধি পায় এবং পানির ধারণক্ষমতা যাতে বৃদ্ধি পায়, সেদিকেও আমরা কাজ শুরু করেছি।”
এর আগে মৎস্য খাতে অবদানের জন্য নির্বাচিত ১৭ প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিকে ‘জাতীয় মৎস্য পুরস্কার ২০১৯’ প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, “নদীমাতৃক বাংলাদেশ। নদীগুলোকে ড্রেজিং করা এবং আমাদের দেশটা যেন কোনোরকম জলবায়ু পরিবর্তন বা প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেদিকে লক্ষ্য রাখা, আর সেই সঙ্গে যত বেশি পানির প্রবাহ বাড়বে আমাদের মাছের উৎপাদনও বৃদ্ধি পাবে, মানুষের চাহিদা পূরণ হবে।”
দেশের মোট জনসংখ্যার ১১ ভাগ মানুষ মৎস্য খাত থেকে জীবিকা নির্বাহ করে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী এ খাতের উন্নয়নে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, “আমরা খাদ্যের নিরাপত্তা অর্জন করতে পেরেছি। এবার পুষ্টির চাহিদা পূরণ করবো। মাছ হচ্ছে পুষ্টির নিরাপদ উৎস।”
এই প্রসঙ্গে ব্যক্তিগত উদ্যোগে উৎসাহ দিয়ে বলেন, “নিজের পতিত জলাশয়ে মাছ চাষের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। কোনো একটা জায়গা যেন পড়ে না থাকে। এসব স্থানে মাছ চাষ করলে নিজে খেয়ে বিক্রিও করা যায়। আমরা খাদ্যে, শিক্ষায়, সমৃদ্ধিতে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তুলতে চাই।”
মৎস্য উৎপাদন এবং রপ্তানির ক্ষেত্রে মাছের মান বজায় রাখার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
এ ছাড়া কোরবানির ঈদের পরিচ্ছন্নতা বজায়ে তাগিদ দিয়ে বলেন, “কোরবানির জন্য যেন নির্দিষ্ট জায়গা থাকে। হাড়, চামড়া সব সংগ্রহ করে যেন কাজে লাগাতে পারি। কোরবানির জন্য আধুনিক প্রযুক্তি সম্পন্ন ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”
১৭ থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত দেশব্যাপী মৎস্য সপ্তাহের কার্যক্রম চলবে। এবারের আয়োজনের স্লোগান ‘মাছ চাষে গড়বো দেশ, বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ।’
