চবি শাখা ছাত্রলীগের নতুন সভাপতির ছাত্রত্ব নিয়ে কর্মীদের মধ্যে প্রশ্ন

আপডেট : ২০ জুলাই ২০১৯, ০২:০৫ এএম

২০১১ সাল থেকে ২০১৯ সাল। দীর্ঘ আট বছর! নিয়ম অনুযায়ী কমিটি হলে গত আট বছরে আটটি কমিটি পেত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ছাত্রলীগ। কিন্তু চিত্র ভিন্ন। সর্বশেষ গত ১৪ জুলাই রেজাউল হক রুবেলকে সভাপতি ও ইকবাল হোসেন টিপুকে সম্পাদক করে দুই সদস্য বিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা করে কেন্দ্র। দীর্ঘ ব্যবধানে প্রত্যাশা ও অভিযোগের তালিকাও তাই দীর্ঘ হয়েছে শাখা ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের।

এক সময়ের শিবিরের মিনি ক্যান্টনমেন্ট খ্যাত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসকে মৌলবাদী অপশক্তির হাত থেকে মুক্ত করতে অনেক ত্যাগ শিকার করতে হয়েছে শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের। তবে সঠিক সময়ে কমিটি না আসায় মূল্যায়ন পায়নি অনেক ছাত্রলীগ নেতাকর্মী। তবে দীর্ঘ সময় পরে হলেও নতুন কমিটি পেয়ে উচ্ছ্বাসিত শাখার নেতাকর্মীরা।

এদিকে নতুন কমিটির নেতাদের কাছে তাদের প্রত্যাশা যেমন অনেক, কমিটি নিয়ে ক্ষোভও প্রকাশ করছেন অনেকে। রয়েছে সভাপতির ছাত্রত্ব না থাকা নিয়ে বিতর্ক। সেই সাথে ভিন্ন গ্রুপের হওয়ায় হল, ফ্যাকাল্টি ও শাখা ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা পোষণ করেছেন কেউ কেউ।

নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা, নতুন এ কমিটি চবি ছাত্রলীগের দীর্ঘ দিনের যে বগি ভিত্তিক রাজনীতি, গ্রুপিংয়ের কারণে মারামারি, অন্তর্কোন্দল বন্ধ করে সকলকে নিয়ে নতুন ধারার রাজনীতি চালু করবে। সকল নেতাকর্মী যাতে সঠিক মূল্যায়ন পেতে পারে তাই নতুন কমিটি যেন দ্রুত হল কমিটি ও ফ্যাকাল্টি দেয় সে আশাও প্রকাশ তারা।

ছাত্রলীগ কর্মী নাসিম সিয়াম বলেন, নতুন কমিটির কাছে আমাদের প্রত্যাশা থাকবে কোন ধরণের যেন গ্রুপিং না থাকে, সবাই যেন একসাথে থাকতে পারি। আর যেহেতু অনেক দিন কোন কমিটি ছিল না একটা জেনারেশন গ্যাপ সৃষ্টি হয়েছে তাই যোগ্য ব্যক্তিরা যাতে সঠিক মূল্যায়ন পায় এটাই প্রত্যাশা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ছাত্রলীগ কর্মী বলেন, নতুন কমিটি নিয়ে আমরা অনেক বেশি মর্মাহত। কারণ নিয়ম অনুযায়ী রানিং ব্যাচ হিসেবে কমিটি আসার কথা । কিন্তু এ কমিটির সভাপতি ২০০৬-০৭ সেশনের আর সাধারণ সম্পাদক ২০১০-১১ সেশনের। তাদের ছাত্রত্ব আছে কি না সেটা নিয়েও সংশয় রয়েছে। এ ধরনের নেতৃত্ব জুনিয়রদের শুধু ব্যবহার করে। তাদের চিন্তা চেতনা পুরোনো। তাদের কাছ থেকে ভালো কিছু আশা করা যায় না। ছাত্রত্বহীন নেতৃত্ব দিয়ে ছাত্রলীগ কখনো গতিশীল হতে পারে না। কিন্তু রানিং ব্যাচ থেকে যদি কমিটি হতো তাহলে জেনারেশন গ্যাপও হতো না, শাখার কার্যক্রম আরও বেশি গতিশীল হতো।

ছাত্রলীগ নেতা মিজানুর রহমান বিপুল বলেন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সবচেয়ে বড় সমস্যা গ্রুপিং। প্রত্যাশা থাকবে নতুন কমিটি এই সমস্যাটিকে নিজেদের নেতৃত্বের গুণাবলি দ্বারা সমাধান করে গ্রুপিং রাজনীতি বন্ধ করবে। কমিটি নিয়ে তেমন কোন শঙ্কা না থাকলেও কমিটির সভাপতি যেহেতু ২০০৬-০৭ সেশনের। তাই রানিং ছাত্রদের সাথে তিনি কতটুকু খাপ খাওয়াতে পারবেন তা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে।

একই শঙ্কা প্রকাশ করে শাখা ছাত্রলীগের আরেক নেতা আমির সোহেল বলেন, নতুন কমিটির সভাপতিকে নিয়ে একটু শঙ্কা আছে। যেহেতু উনি অনেক সিনিয়র এবং শুনেছি ওনার ছাত্রত্ব নেই। তাই যার ছাত্রত্ব নেই তিনি কিভাবে ছাত্রদের সংগঠনের প্রধান হয়? তবুও নতুন কমিটির কাছে আমার প্রত্যাশা থাকবে দ্রুত সময়ের মধ্যে তারা পূর্ণাঙ্গ কমিটি দেবে।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে নতুন কমিটির সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন টিপু বলেন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক সেশন জট অনেক বেশি। বগি রাজনীতি ও গ্রুপিংসহ অন্যান্য অনেক সমস্যা রয়েছে। আমরা নতুন কমিটি এসব বিষয়ে খুবই গুরুত্ব সহকারে কাজ করছি। ছাত্রলীগের মধ্যে যেন কোন গ্রুপিং না থাকে, বগি রাজনীতি বন্ধ হয় এবং সবাই একসাথে কাজ করতে পারি সে বিষয়ে কাজ করছি। যেহেতু অনেক সময় পরে কমিটি হয়েছে তাই আমরা দ্রুত পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করব। সবাইকে যাতে মূল্যায়ন করতে পারি তাই দ্রুত হল ও ফ্যাকাল্টি কমিটিও দেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, আমরা নিজেরাও রাজনৈতিক সেশন জটের শিকার। তবে আমি নিজে হলে থাকি, ফলে সকল স্তরের নেতাকর্মীদের সাথে সব সময়ই যোগাযোগ হয়। তাই সহজেই দ্রুত সময়ের মধ্যে সংগঠনকে সকলের সহযোগিতায় গতিশীল করতে পারব।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি রেজাউল হক রুবেল বলেন, সংগঠনকে গতিশীল করা আমাদের মূল লক্ষ্য। সামনে আগস্ট মাস। শোকের মাস। এ সময়ে আমরা নানা কর্মসূচি পালন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আগস্ট মাসের পরেই আমরা বিভাগ, হল কমিটি ও  ফ্যাকাল্টি কমিটি দিয়ে সকলকে মূল্যায়ন করার চেষ্টা করব। পাশাপাশি পূর্ণাঙ্গ কমিটিও করা হবে। ছাত্রলীগ সব সময়ই ছাত্র বান্ধব কর্মকাণ্ড করে থাকে। সাধারণ ছাত্রদের অধিকার আদায়ে আমরা কাজ করব। যেখানে কোন গ্রুপিং, মারামারি, হানাহানি থাকবে না। আমরা সেভাবেই কাজ করছি।

জানা যায়, চবি শাখা ছাত্রলীগের নেতৃত্বে আসা সভাপতি রেজাউল হক রুবেল বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের ২০০৬-০৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তার বাড়ি ফেনী জেলায়। তিনি ক্যাম্পাসে শাটল ট্রেনের বগি ভিত্তিক গ্রুপ সিএফসি গ্রুপের নেতা ও শিক্ষা উপ-মন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের অনুসারী। এর আগের কমিটিতে তিনি শাখা ছাত্রলীগের সহ সভাপতি ছিলেন। অন্যদিকে কমিটির সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন টিপু বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের ২০১০-১১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তাঁর বাড়ি নোয়াখালী। ক্যাম্পাসে তিনি শাটল ট্রেনের বগি ভিত্তিক গ্রুপ সিক্সটি নাইন গ্রুপের নেতা ও চট্টগ্রাম নগরের মেয়র আ. জ. ম নাসির উদ্দিনের অনুসারী। এর আগের কমিটিতে তিনি শাখা ছাত্রলীগের উপ-গ্রন্থনা ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত