প্রিয়া সাহার বক্তব্য অগ্রহণযোগ্য ও উসকানিমূলক: কাদের

আপডেট : ২০ জুলাই ২০১৯, ০৩:৪৪ পিএম

সংখ্যালঘু হিন্দুদের ওপর কথিত নিপীড়ন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রিয়া সাহার বক্তব্য অগ্রহণযোগ্য ও উসকানিমূলক উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘এ বক্তব্য শুধু নিন্দনীয় অপরাধ নয়, সাম্প্রদায়িক শক্তির জন্য উসকানিমূলক। দেশদ্রোহী এ বক্তব্যের জন্য ব্যবস্থা নিতে হবে এবং এর প্রক্রিয়া চলছে’।

শনিবার দুপুরে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি। সাধারণ সম্পাদক বলেন, মার্কিন রাষ্ট্রদূত এ নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার পর আর কিছু বলার থাকে না। আওয়ামী লীগের কোনো পর্যায়ের কোনো সংগঠনে প্রিয়া সাহার প্রাথমিক সদস্য পদও নেই বলে জানান তিনি।

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নৌকার বিরোধিতাকারীদের শাস্তির বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, এ পর্যন্ত ২০০ অভিযোগ এসেছে, আরও আসছে। এসব অভিযোগ যাচাই করে দেখছেন বিভাগীয় পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতারা। ২৭ জুলাইয়ের মধ্যে এটা চূড়ান্ত হবে। ২৮ জুলাই থেকে ব্যবস্থা গ্রহণ শুরু হবে।

দেশের চলমান বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, দেশের এক-তৃতীয়াংশ জেলা বন্যাকবলিত। কিছু জায়গায় মারাত্মক অবনতি ঘটেছে। শুরু থেকেই সরকারি ও দলীয়ভাবে দুর্গত এলাকায় সহায়তা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। আওয়ামী লীগের ছয়টি টিম ভাগ হয়ে বন্যাদুর্গত এলাকায় কাজ করছে।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন প্রমুখ।

এর আগে বেলা ১১টায় আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলী ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকদের যৌথসভায় বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলা, বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ ও শোকের মাস আগস্টের কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হয়।

এদিকে শনিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ট্রাম্পকে দেওয়া প্রিয়া সাহার নালিশের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বলা হয়েছে, “বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণের উদ্দেশ্যেই প্রিয়া সাহা এ ধরনের বানোয়াট ও কল্পিত অভিযোগ করেছেন।”

গত বুধবার হোয়াইট হাউসে বাংলাদেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রিয়া সাহার দেওয়া বক্তব্যকে ঘিরে তোলপাড় চলছে।

সেখানে আমন্ত্রিত চীন, তুরস্ক, উত্তর কোরিয়া, মিয়ানমারসহ ১৬টি দেশে সাম্প্রদায়িক নিপীড়নের শিকার একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে কথা বলছিলেন ট্রাম্প।

এ সময় প্রিয়া সাহা নামের এক নারী নিজেকে বাংলাদেশি পরিচয় দিয়ে বলেন, “স্যার, আমি বাংলাদেশ থেকে এসেছি। সেখানকার ৩ কোটি ৭০ লাখ সংখ্যালঘু হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান ‘নিখোঁজ’ হয়ে গেছে। দয়া করে বাংলাদেশি জনগণকে সাহায্য করুন। আমরা দেশ ছাড়তে চাই না, থাকতে চাই।”

ট্রাম্প তখন বলেন, “বাংলাদেশ?” জবাবে হ্যাঁ সূচক জবাব দিয়ে ওই বাংলাদেশি নারী আরও বলেন, “এখনো সেখানে ১ কোটি ৮০ লাখ সংখ্যালঘু মানুষ থাকে। আমার অনুরোধ, দয়া করে আমাদের সাহায্য করুন। আমরা দেশ ছাড়তে চাই না। সেখানে থাকতে আমাদের সহযোগিতা করুন। আমি আমার বাড়ি হারিয়েছি। তারা বাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে। আমার জমি ছিনিয়ে নিয়েছে। কিন্তু কোনো বিচার হয়নি।”

তখন ট্রাম্প জিজ্ঞাসা করেন, “কে জমি নিয়ে গেছে?” উত্তরে প্রিয়া সাহা বলেন, “মুসলিম মৌলবাদী সংগঠনগুলো। তারা সবসময় রাজনৈতিক আশ্রয় পেয়ে আসছে।”

পরে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এবিসি নিউজের একটি ভিডিওতে প্রিয়া সাহার কথোপকথনের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। পরে এ নিয়ে বাংলাদেশে বিভিন্ন মহলে নানা ধরনের সমালোচনা-আলোচনা শুরু হয়।

এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে শুক্রবার নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া স্ট্যাটাসে প্রিয়া সাহার করা মন্তব্য খতিয়ে দেখার ঘোষণা দেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। তিনি বলেন, “তিনি (প্রিয়া সাহা) কেন এটা করলেন তা খতিয়ে দেখা হবে। প্রিয়ার অভিযোগগুলোও সরকার শুনবে এবং খতিয়ে দেখবে।”

এছাড়া ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত রবার্ট মিলার শুক্রবার বলেছেন, ‘প্রিয়া সাহা সংখ্যালঘু নির্যাতন বিষয়ে যে তথ্য দিয়েছেন তা সঠিক নয়। বাংলাদেশের বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায় একে অপরকে শ্রদ্ধা করে’।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত