রোববার রাত থেকে সোমবার দুপুর পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে ছেলে ধরা সন্দেহে ১৬ জনকে গণধোলাই দেওয়া হয়েছে। এদের ছয়জন মানসিক প্রতিবন্ধী বলে জানা গেছে।
আমাদের হবিগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার অলিপুরে ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনিতে তিনজন আহত হয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় একজনকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।
রোববার রাত ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন, মাধবপুর উপজেলার নোয়াপাড়া কাশিপুর গ্রামের তোরাব আলীর ছেলে মোখলেছ মিয়া (৩২), একই উপজেলার রতনপুর গ্রামের আব্দুর রহিমের ছেলে গিয়াস উদ্দিন (৩২) ও বরিশাল জেলার উজিরপুর থানার হাতিপুর গ্রামের শাহেদ মোল্লার ছেলে সিরাজুল ইসলাম (৩০)।
জনতার হাত থেকে বাঁচাতে গিয়ে একজন পুলিশ সদস্যও আহত হন।
শায়েস্তাগঞ্জ থানা পুলিশের দাবি তারা ডাকাত। তাদের বহনকারী সিএনজি অটোরিকশায় একটি ছুরি ও একটি রড পাওয়া গেছে।
এ ব্যাপারে এসআই জাহির উদ্দিন বাদী হয়ে মামলা করেছেন। দু’জনকে সোমবার কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মাদারীপুর প্রতিনিধি জানান, মাদারীপুর সদর উপজেলার ধূরাইল ইউনিয়নের বৈরাগীর হাট এলাকায় ছেলেধরা সন্দেহে এক নারীকে আটক করে গাছে বেঁধে মারধর করে এলাকাবাসী।
সোমবার সকালে ওই নারীকে ঘোরাফেরা করতে দেখে স্থানীয়রা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। জিজ্ঞাসাবাদে পরিচয় ও ঠিকানা বলতে না পারায় তাদের সন্দেহ হয়। অতি উৎসাহীরা তাকে মারধর শুরু করে।
এ সময় মাদারীপুরের কয়েকজন সাংবাদিক ওই নারীকে মারধরে বাধা দেন এবং সদর থানা পুলিশকে জানান। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যাওয়ার খবরে স্থানীয়রা ওই নারীকে ছেড়ে দেয়।
মাদারীপুর সদর থানার ওসি শওগাতুল আলম জানান, ওই নারীকে উদ্ধারের জন্য দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। ওই নারী একজন মানসিক প্রতিবন্ধী। তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর এলাকাবাসী তাকে ছেড়ে দিয়েছে।
নীলফামারী প্রতিনিধির পাঠানো খবরে জানা যায়, নীলফামারীর সৈয়দপুরে ছেলেধরা সন্দেহে মানসিক ভারসাম্যহীন নারীসহ চারজনকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয় জনতা।
রোববার রাত ও সোমবার দুপুর পর্যন্ত শহরের বিভিন্ন এলাকায় এসব মানসিক ভারসাম্যহীন নারী-পুরুষ উদ্দেশ্যহীন ও সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করায় তাদের আটক করে ছেলেধরা গুজবে গণপিটুনি দেয় এলাকাবাসী।
আটককৃতরা হলেন, দিনাজপুরের আব্দুল মালেক (৫০), গাইবান্ধার আব্দুল গফুর (৫৬), নীলফামারীর হেলাল হোসেন (৪০) ও বরিশালের মেরিয়ান (৪০)।
নীলফামারীর সৈয়দপুর থানা পুলিশের পরিদর্শক (ওসি) মো. শাহজাহান পাশা বলেন, আটককৃতরা সবাই মানসিক ভারসাম্যহীন। তারা সৈয়দপুর শহরের বিভিন্ন স্থানে উদ্দেশ্যহীন ও সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করছিল। এ সময় তাদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদে তারা সঠিক উত্তর দিতে না পারায় কিছু অতি উৎসাহী স্থানীয় লোকজন তাদের গণপিটুনি দেয়।
ওসি জানান, যারা এমন গুজবে সম্পৃক্ত হয়ে গণপিটুনির ঘটনা ঘটান তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি আইনে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি জানান, দৌলতপুরে জামাই বাড়ি বেড়াতে আসা হাসিনা খাতুন (৬০) নামে এক মানসিক ভারসাম্যহীন বৃদ্ধাকে ছেলেধরা সন্দেহে পিটিয়ে আহত করেছে এলাকাবাসী।
সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার শিতলাইপাড়া গ্রামের এ ঘটনায় গুরুতর আহতাবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছে পুলিশ।
ময়মনসিংহ জেলার বাসিন্দা ওই বৃদ্ধা উপজেলার থানাপাড়ার বাসিন্দা মেয়ে-জামাই রনির বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন বলে নিশ্চিত করেছেন দৌলতপুর থানা পুলিশ।
দৌলতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আজম খান বলেন মেয়েজামাইর বাড়ি বেড়াতে আসা এক মানসিক প্রতিবন্ধী বৃদ্ধাকে পিটিয়ে মারাত্মক আহত করেছে কিছু স্থানীয়রা। সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আহত বৃদ্ধাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা করিয়ে পরিবারের কাছে তুলে দেওয়া হয়েছে। ঘটনায় জড়িত কয়েকজনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। বৃদ্ধার জামাই রনি আহমেদ বাদী হয়ে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
এছাড়া রাজশাহীতে পাঁচজন ও কুমিল্লায় তিনজনকে ছেলেধরা সন্দেহে গণধোলাই দেওয়া হয়। এ পর্যন্ত কয়েখদিনে গণেধালাইয়ে অন্তত ১১ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
