রাজধানী ঢাকায় ডেঙ্গু-চিকনগুনিয়াসহ মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে এডিসসহ অন্যান্য মশা নির্মূলে ব্যর্থতায় ঢাকার উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের দুই প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে তলব করেছে হাইকোর্ট।
মশা নিধন নিয়ে দাখিলকৃত একটি প্রতিবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে সোমবার এ আদেশ দেয় বিচারপতি তারিক উল হাকিম ও বিচারপতি মো. সোহরাওয়ার্দীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ। আগামী বৃহস্পতিবার দুই স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে আদালতে হাজির হয়ে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে হবে।
ঢাকা মহানগরে মশা নিধনে ব্যর্থতায় গতকাল উষ্মা প্রকাশ করে হাইকোর্ট বলেন, সিটি করপোরেশনের কাজ কি? শুধু জনগণকে সচেতনতার আহ্বান জানিয়ে, জনগণের ওপর দায়িত্ব ছেড়ে দিলে তাদের কাজ কি? পৃথিবীর আর কোথাও মশা নিয়ে হাইকোর্টের রুল দিতে হয় না, কিন্তু আমাদের দিতে হয়- বলে মন্তব্য করেন আদালত।
এর আগে গত ১৪ জুলাই এক আদেশের রাজধানী ঢাকায় এডিসসহ অন্যান্য মশা এবং তাদের উৎপত্তিস্থল ধ্বংসে অগ্রাধিকারভিত্তিতে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পদক্ষেপ নিতে দুই সিটি করপোরেশনকে নির্দেশ দিয়েছিল হাইকোর্ট। পাশাপাশি ডেঙ্গু ও চিকনগুনিয়া রোগ প্রতিরোধে সংশ্লিষ্টদের ব্যর্থতা প্রশ্নে রুল জারি হয়।
ডেঙ্গু জ্বর ও এডিস মশা নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন আমলে নিয়ে স্বতঃপ্রণোদিত (সুয়োমোটো) হয়ে এ আদেশ ও রুল জারি করেন হাইকোর্টের এই বেঞ্চ। আদালতের এ আদেশ এবং ঢাকা মহানগরে ডেঙ্গু ও চিকনগুনিয়া রোগ প্রতিরোধে কি ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে সে বিষয়ে ২২ জুলাইয়ের মধ্যে প্রতিবেদন আকারে হাইকোর্টকে জানাতে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনকে নির্দেশ দেওয়া হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় আজ রাষ্ট্রপক্ষে সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল সায়রা ফাইরোজ আদালতে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে জানান, সিটি করপোরেশন নিয়মিতভাবেই মশা নির্মূলে কাজ করছে। ওষুধ দিচ্ছে। নাগরিকদের সচেতন করছে। তবে, সিটি করপোরেশনের এ প্রতিবেদন নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে হাইকোর্ট।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের উদ্দেশ্যে আদালত বলেন, ‘কিভাবে ওষুধ দিচ্ছে, তাতে কি কাজ হয়? ওষুধে কাজ হয় না তা মেয়র নিজেই বলেছেন। আর জনগণকে সচেতনতার পরামর্শ দিয়ে জনগণের ওপর দায়িত্ব ছেড়ে দিলে তাদের (দুই সিটি করপোরেশন) কাজ কি? জনগণ সচেতন আছে, আগে আপনারা সচেতন হোন। মানুষ হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। এর মানে আপনারা কিছু করছেন না। প্রতিবেদনে যাই বলেন, পরিণতিতো হাসপাতাল। কোনো লোককে তো জোর করে হাসপাতালে পাঠানো হয় না।’
আদালত বলে, ‘দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার কোন সুযোগ নেই। কথা কম বলে তাদের (দুই সিটির দুই মেয়র) কাজ করতে হবে। কি কি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে তা জানাতে হবে। কতজন আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে গেছে, এর তথ্য দিন, তাহলেই আমরা বুঝব কাজ হচ্ছে কি না? যতই বলুন কাজ হচ্ছে তা বিশ্বাসযোগ্য হবে তখন, যখন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে কেউ মারা যাবে না।’
