চাঁদপুরে বেড়ে চলছে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। দেড় মাসে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে অর্ধশত রোগী চাঁদপুর সরকারি হাসপাতালসহ বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসা নিয়েছে।
এ ক্ষেত্রে জ্বর হলে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও এডিস মশা নিধনে ওষুধ ছিটানোহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছেন পৌর কর্তৃপক্ষ।
দুই দিনে সরকারি জেনারেল হাসপাতালে ১৫ জন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়েছেন। ডেঙ্গু আক্রান্তদের মধ্যে ছয়জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
বুধবার সকালে সরেজমিনে চাঁদপুর সরকারি হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ১৫ জন রোগী চিকিৎসা সেবা নিচ্ছেন। এদের অধিকাংশ ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে জ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তা ছাড়া চাঁদপুরে বসবাসরত চারজন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
শহরের ওয়্যারলেস বাজার এলাকার বাসিন্দা মো. সেকান্দর আলী বলেন, শহরের রাস্তাঘাটগুলো ময়লা-আবর্জনায় ভরপুর। ঠিকমতো তা পরিষ্কার করা হয় না। তা ছাড়া পৌরসভার পক্ষ থেকে মশা নিধনে কোনো ওষুধ প্রয়োগ করা হচ্ছে না। যার ফলে মশার বিস্তার বৃদ্ধি পেয়েছে।
চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক সার্জন ডা. মাহমুদুন নবী মাসুম বলেন, ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিতে পুরুষ ও নারী ওয়ার্ডে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীদের মশারি টানিয়ে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, শরীরে জ্বর অনুভব হলে বেশি করে পানিসহ তরল খাবার খেতে হবে। একই সঙ্গে দ্রুত সময়ে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ারও পরামর্শ দেন তিনি।
চাঁদপুর পৌরসভার প্যানেল মেয়র মো. ছিদ্দিকুর রহমান ঢালী বলেন, চাঁদপুর পৌরসভায় মশা নিধনে ফগার মেশিন আছে মাত্র তিনটি। ১৫টি ওয়ার্ডের জন্য আরো কিছু মেশিন কেনার প্রক্রিয়া রয়েছে। এডিস মশা নিধনে ওষুধ ছিটানোসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। একই সঙ্গে পরিবেশ নোংরা আবর্জনামুক্ত রাখতে ময়লা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলতে পৌরবাসীর নিকট আহ্বান জানিয়েছে তিনি।
