রহস্যময় এক সড়ক দুর্ঘটনায় মাত্র ৩৬ বছর বয়সেই জীবনাবসান ঘটে প্রিন্সেস ডায়ানার। ব্রিটিশ রাজপরিবারের এই বধূর প্রেম নিয়ে গুঞ্জনের শেষ নেই। তার সঙ্গে নিহত হয়েছিলেন প্রেমিক মিসরীয় ধনকুবের ব্যবসায়ীর সন্তান দোদি আল ফায়েদ। ফলে দোদির সঙ্গে ডায়ানার প্রেমটাই অধিক আলোচিত।
তবে রূপসী এ ব্রিটিশ রানি আরও বেশ কয়েকজন পুরুষের সাহচর্য পান। স্বামী প্রিন্স চার্লস যেমন ছিলেন, তেমনি গায়ক ব্রায়ান অ্যাডামস, আর্ট ডিলার অলিভার হোর, বিলিনিয়র ব্যবসায়ী থিওডোর ফোরস্টম্যান থেকে শুরু করে দোদি আল ফায়েদ। তবে পাকিস্তানি এক হৃদরোগ চিকিৎসকের প্রতিও প্রেম ছিল ডায়ানার।
৩৬ বছর বয়সী পাকিস্তানি হার্ট সার্জন হাসনাত খানের প্রেমে মারাত্মকভাবে দুর্বল ছিলেন ডায়ানা। রিডার ডাইজেস্ট জানাচ্ছে ব্রিটিশ রাজবধূর সেই প্রেম নিয়ে।
হাসনাত খানের সঙ্গে ডায়ানার দুই বছরের গোপন প্রেম ছিল। বিষয়টি বিস্তারিত উঠে আসে সাংবাদিক টিনা ব্রাউনের লেখা ডায়ানা ক্রনিকলস বইয়ে।
১৯৯৫ সালে লন্ডনের রয়্যাল ব্রম্পটন হসপিটালে ডা. হাসনাত খানের সঙ্গে প্রথম দেখা হয় ডায়ানার। প্রথম দেখাতেই তিনি তার প্রেমে পড়ে যান। তার সামনে স্কুলছাত্রীর মতো চঞ্চলতা ভর করতো ডায়নার মধ্যে। সারাক্ষণ তার সঙ্গে থাকতে চাইতেন। প্রথম সাক্ষাতেই ডা. হাসনাতকে দেখে তিনি উচ্চারণ করেছিলেন- ‘আমি আমার শান্তি খুঁজে পেয়েছি’। ডায়ানা তার বন্ধুদের কাছে স্বীকার করেছিলেন, ‘আমার যা প্রয়োজন সবই তিনি আমাকে দিয়েছেন’। এই চিকিৎসককে তিনি ‘ন্যাটি’ নামে ডাকতেন।
ডা. হাসনাতের প্রেমে পড়ে পাকিস্তানি সংস্কৃতি ও কৃষ্টির প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়েছিলেন ডায়ানা। তিনি তখন পাকিস্তানি নারীদের মতো নিয়মিত সালওয়ার কামিজ পরা শুরু করেন। ভ্রমণ করেন পাকিস্তানও। এমনকি ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হওয়ার ইচ্ছাও প্রকাশ করেছিলেন। কার্ডিওলজি নিয়ে পড়াশোনা করতে আগ্রহীও হয়ে উঠতে দেখা যায় তাকে।
হাসপাতালে ডা. হাসনাতের নাইট শিফটের সময় তার সঙ্গে একাধিকবার দেখা করেছেন ডায়ানা। তবে ভোরের আগেই রাজপ্রাসাদে তিনি ফিরে এসেছেন। চেনা না যায় মতো এমন পোশাক পরে খান সাহেবের সঙ্গে প্রেম করতে গেলেও সেটি প্রকাশ হয়ে পড়ে। এমনকি একটি ট্যাবলয়েড পত্রিকায় এ নিয়ে প্রকাশ করে প্রতিবেদন। তবে সেটি গুঞ্জন আকারেই থেকে যায়।
স্বামী প্রিন্স চার্লসের সঙ্গে তালাক চূড়ান্ত হওয়ার আগে ডায়ানার এই প্রেম শুরু হয়। ফলে একজন বিবাহিত নারীর সঙ্গে প্রেমে জড়ালেও ধর্মীয় নৈতিকতার কারণে শারীরিক সম্পর্কে জড়াননি ডা. হাসনাত। তবে তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন স্বামীর সঙ্গে ডায়ানার বিচ্ছেদ ঘটলে এই সম্পর্কে পরবর্তী পর্যায়ে নিয়ে যাবেন।
সুপ্রতিষ্ঠিত এ হৃদ্রোগ চিকিৎসক নিভৃতে থাকতে পছন্দ করতেন। ফলে তাকে নিয়ে তেমন বেশি আলোচনা ছিল না। এ ছাড়া বেশ সাধাসিধে জীবন যাপন করতেন তিনি। উচ্চবিত্তদের আড্ডা আসরেও তাকে তেমন দেখা যেত না।
সাপ্তাহিক ছুটিতে হাসনাত খানের সঙ্গে দেখা করতে তার জন্য রান্নাও করতেন ডায়ানা। সাধারণ নারীর মতো সময় কাটাতে পছন্দ করতেন তিনি। এমনকি হাসনাতের ঘরদোরও পরিষ্কারে নেমে যেতেন তিনি।
হাসনাতের সঙ্গে গোপন বিয়ের সম্ভাবনাও যাচাই করেছিলেন ডায়ানা। তার বাটলার এবং বন্ধু পল বুরেলকে পাঠিয়েছিলেন এক যাজকের কাছে। কিন্তু যাজক তাকে আশাহত করেন। রাজ পরিবারকে না জানিয়ে এভাবে বিয়ে সম্ভব নয়।
এ ছাড়া রাজকন্যা হলেও ডায়ানাকে খান পরিবার মেনে নেবে কী না এ নিয়েও ছিল সংশয়। কারণ হাসনাত ছিলেন একজন পাঠান। পাকিস্তান-আফগানিস্তানের সংস্কৃতির মিশ্রিত এই জাতিটি নিজেদের ঐতিহ্যের প্রতি কঠোর আনুগত্যশীল। ফলে পারিবারিক ঐতিহ্যের বাইরে গিয়ে ডায়ানার সঙ্গে বেশি দূর এগোতে পারতেন না পাকিস্তানি এ চিকিৎসক।
প্রেমিককে বিয়ে করতে ডায়ানা দুইবার প্রচেষ্টা চালিয়েছিলেন। কিন্তু ব্যর্থ হন তিনি। ডেইলি এক্সপ্রেসকে ডা. হাসনাতের বাবা ডা. রশিদ খান এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, “তাদের ছেলের সঙ্গে ডায়ানার বিয়ের কোনো সুযোগ নেই। ছেলের জন্য আমরা পাকিস্তানি মুসলিম পাত্রীই খুঁজছি।”
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমে ডায়নার এ প্রেম ছিল বেশ আলোচিত। সানডে মিরর এবং ডেইলি মেইল এ নিয়ে প্রকাশ করে পাল্টাপাল্টি প্রতিবেদন। তার এ প্রেম প্রকাশ হয়ে পড়লে দুই ছেলে উইলিয়াম এবং হ্যারিকে নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলেন তিনি। কাছের বন্ধুদের মতে, মানসিক চাপে পড়ে যান ডায়ানা।
তবে মনগড়া সংবাদ কিংবা গুঞ্জন বলে তার এ প্রেম এক সময় আলোচনা থেকে হারিয়ে যায়। শেষপর্যন্ত ডায়ানা রক্ষা পান অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি থেকে।
