মৃত্যুর আগমুহূর্তেও ছোট্ট বোনটিকে বাঁচাতে মরিয়া ছিল রিহাম

আপডেট : ২৭ জুলাই ২০১৯, ১১:২৫ এএম

গত কয়েক দিন ধরে বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত ইদলিবে বিমান হামলার তীব্রতা বাড়িয়েছে রুশ এবং একনায়ক বাশার আল-আসাদের বাহিনী। নিহত হয়েছে শতাধিক মানুষ। তবে আরিহা শহরের একটি হামলায় নিহতের ঘটনা ছিল মর্মস্পর্শী।

বুধবারের ওই হামলার পর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়।

এতে দেখা যায়, বিমান হামলায় পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়েছে একটি ভবন। কংক্রিটের ভাঙা স্ল্যাবের ফাঁক গলে মাথা বের করে আছে বছর পাঁচেকের শিশুকন্যা রিহাম। এমন মুহূর্তেও সাত মাস বয়সী বোন তৌকার সবুজ টিশার্ট আগলে ধরে আছে সে। টিশার্টে ঝুলছিল তার ছোট্ট বোনটি।

মৃত্যুর আগমুহূর্তেও রিহাম কিন্তু সামান্যর জন্যও নিজের মুঠি আলগা করেনি। একটু ওপরের দিকে কংক্রিটের ভাঙা স্ল্যাবে দাঁড়িয়ে আর্তনাদ করছিলেন অসহায় বাবা।

জানা গেছে, রিহামের বোন তৌকা এখনো আইসিইউতে ভর্তি। কিন্তু রিহাম বেঁচে নেই। হামলায় মারা গেছেন রিহামের মা ও আরেক বোন। ওই হামলায় সে বাড়িতে থাকা দুই পরিবারের ছয়জন নিহত হন।

স্ত্রী ও দুই কন্যাকে হারিয়ে আমজাদ আল-আবদুল্লা এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছেন ছোট মেয়েটাকে। যদি সে বেঁচে ফেরে!

আনন্দবাজার জানায়, সিরিয়ায় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘হোয়াইট হেলমেটস’-এর সদস্যরাই ওই দিন ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করেছিলেন রিহামদের।

ব্রিটেনভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠনের দাবি, শুধু ওই দিনই ইদলিবের তিনটি এলাকায় রুশ বিমান হামলায় পাঁচ শিশুসহ প্রাণ গেছে ২০ জনের। এর মধ্যে খান-শেইকুনে এক পরিবারের ১০ সদস্যের সবাই নিহত হয়েছেন।

সেভ দ্য চিলড্রেন জানায়, ২০১৮ সালে সিরিয়ায় ৩১ শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। চলতি বছরের এপ্রিলের শেষ থেকে এখন পর্যন্ত ৯০ শিশুসহ সিরিয়ায় নিহতের সংখ্যা চারশ’ ছুঁইছুঁই।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত